

নিজস্ব প্রতিবেদক, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় বর্তমানে জনপ্রতিনিধি না থাকলেও নাগরিক সেবা কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বরং জন্মনিবন্ধন, মৃত্যুনিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ, প্রত্যয়ন পত্রসহ বিভিন্ন কাগজপত্রের কাজ পৌর কার্যালয় থেকেই সম্পন্ন হওয়ায় সেবা নিতে আসা নাগরিকদের আগের তুলনায় ভোগান্তি কমেছে বলে দাবি পৌর কর্তৃপক্ষের।
স্থানীয় সূত্র ও পৌরসভায় সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এর আগে পৌর কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর কিংবা জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের মতো কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কমিশনারদের কাছে যেতে হতো। বর্তমানে এসব কাজ পৌর কার্যালয় থেকেই সম্পন্ন করার ব্যবস্থা থাকায় নাগরিকদের একাধিক স্থানে যেতে হচ্ছে না।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জহির উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অফিসের কার্যক্রমে সময়ানুবর্তিতা ও নাগরিক সেবায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিকেল ৫টার পরও পৌর কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি থাকছে এবং সেবা প্রত্যাশীরা প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ পাচ্ছেন।
এর আগে পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহিনুজ্জামান দায়িত্বে থাকাকালে বিকেল ৪টার পর অনেক সময় কর্মকর্তাদের পাওয়া যেত না—এমন অভিযোগ ছিল বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাবেক কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পৌর উপসহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকৌশল বিভাগের বিভিন্ন কাজও আগের তুলনায় সহজ হয়েছে বলে পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। শাহিনুজ্জামানের বদলির পর প্রকৌশল বিভাগের কার্যক্রমে পরিবর্তন এসেছে বলেও তারা দাবি করেন।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার পর সরেজমিনে টুঙ্গিপাড়া পৌরসভা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জহির উদ্দিন এবং পৌর উপসহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন নিজ নিজ দপ্তরে অবস্থান করে অফিসের কাজ করছেন। এ সময় পৌর কার্যালয়ের কার্যক্রমও চলমান ছিল।
এর বিপরীতে একটি ফেসবুক আইডি থেকে অভিযোগ করা হয়, পৌরসভার কর্মকর্তারা দুপুর ১২টার পর অফিসে থাকেন না। তবে ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টার পর সরেজমিনে গিয়ে ওই অভিযোগের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের ভিন্নতা দেখা যায়। অভিযোগটি কোনো নাগরিকের সেবা-সংক্রান্ত বক্তব্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জহির উদ্দিন বলেন, আমি সকাল ৯টার আগেই অফিসে আসি এবং সন্ধ্যার পর অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় যাই। কে বা কারা এসব লিখেছে, তা আমার জানা নেই। এটি ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতার কারণে করা হয়েছে কি না, সেটিও বলতে পারছি না।
পৌর উপসহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন বলেন, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা জহির উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর পৌরপ্রশাসক (ইউএনও)মোহাম্মদ দিদারুল আলম স্যারের তত্ত্বাবধানে আমরা সন্ধ্যা পর্যন্ত অফিসে থেকে নাগরিকদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।
পৌরসভার সংশ্লিষ্টদের মতে, জনপ্রতিনিধি না থাকলেও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নাগরিক সেবা চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা পৌর কার্যালয় থেকেই দেওয়ার ফলে সাধারণ মানুষকে আগের মতো বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে গিয়ে স্বাক্ষর বা অনুমোদন নেওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।
তবে পৌরসভার সেবা কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন ভিত্তি নেই স্থানীয়দের দাবি।
আপনার মতামত লিখুন :