

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জমি সংক্রান্তে পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বসতবাড়ির জমিতে বেশ কয়েক বছর আগে রোপিত প্রায় লক্ষাধিক টাকার আম, জাম, কাঠাল, মেহগনি, পেয়ারা সহ একাধিক ফলজ গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাটি ঘটেছে মুকসুদপুর উপজেলার মোচনা ইউনিয়নের মোচনা গ্রামে। ভুক্তভোগীর নাম আমিনুর রশিদ (সবুজ) (৪২), তিনি ওই গ্রামের মৃত গোলাম সরোয়ার শেখের ছেলে। গার্মেন্টসে চাকুরির সুবাদে স্বপরিবারে তিনি গাজীপুরে বসবাস করেন। ভাতিজা আব্দুল্লাহ (১৫) মারফত গত ১১আগস্ট গাছ কাটার বিষয়ে খবর পেয়ে তিনি অফিস থেকে ছুটি নিয়ে গত ২৫ আগস্ট দুপুরে নিজ গ্রামে পৌঁছে গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে আশপাশের লোকজন ও আত্মীয়-স্বজনের নিকট খোঁজখবর নিয়ে পুরোপুরিভাবে অবগত হন এবং ধারণা করেন তার অনুপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ২৭/০৭/ ২০২৬ ইং তারিখ ভোর সাড়ে পাঁচটা থেকে দুপুর দেড়টার মধ্যে যে কোনো সময়ে তার রোপন করা গাছগুলো কেটে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
পরে এ সংক্রান্তে ভুক্তভোগী আমিনুর রশিদ (সবুজ) গত বুধবার (২৬ আগস্ট) মুকসুদপুর থানায় বিবাদী ১। মোঃ ফরিদ মুন্সী (৫৫), পিতা- মৃত সামছুদ্দিন মুন্সী, ২। বিশাল মুন্সী (২০), পিতা- মোঃ ফরিদ মুন্সী, ৩। ফাতেমা বেগম (৪০), স্বামী- মোঃ ফরিদ মুন্সীর নাম সহ অজ্ঞাত আরো ২/৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে গণমাধ্যমকর্মীদের একটি দল শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার বিষয়ে প্রাথমিক সত্যতা পান। পরে ওই গ্রামের একাধিক লোকজনের সাথে আলাপ করেও ঘটনার সত্যতা পান।
একাধিক ফলজ গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে ভুক্তভোগী আমিনুর রশিদ (সবুজ) গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিপক্ষের লোকজন অন্যায়ভাবে আমার বসতবাড়ি জোর করে ভোগ দখল করতে চাচ্ছে, তারা বিভিন্ন সময়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা সহ খুন-জখমের হুমকি প্রদান করে আসছে। আমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি এবং এর প্রতিকার চাই।
ফলজ গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ ফরিদ মুন্সী প্রথমেই সাংবাদিকদেরকে গাছ কাটার ছবি ও ভিডিও ফুটেজ ডিলেট করতে চাপ প্রয়োগ করেন। আমিনুর রশিদ (সবুজ) কর্তৃক রোপন করা গাছ কেটে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সালিশ মীমাংসার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করবেন বলেও জানান।
এ বিষয়ে মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আমরা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
আপনার মতামত লিখুন :