• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন

খুলনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট : ব্যাহত শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৯, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন / ১০৬
খুলনায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সংকট : ব্যাহত শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম

রাজিবুল ইসলাম রাজিব, খুলনাঃ খুলনা জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার ১ হাজার ১৫৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬০৫টিতেই বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ ও পদোন্নতি না হওয়ায় সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এতে একদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, খুলনা সদরে ১১৩টি, ডুমুরিয়ায় ১১৩টি, কয়রায় ৮৫টি, পাইকগাছায় ৭৩টি, তেরখাদায় ৬২টি, দাকোপে ৫৫টি, বটিয়াঘাটায় ৫২টি, ফুলতলায় ৩৯টি, রূপসায় ৩৭টি এবং দিঘলিয়া উপজেলায় ৩৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা জানান, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পাওয়া সহকারী শিক্ষকদের একই সঙ্গে দাপ্তরিক নথিপত্র সংরক্ষণ, প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে।
রূপসার বলটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রথীন্দ্রনাথ মহন্ত বলেন, দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি তাকে প্রতিদিন পাঁচটি ক্লাস নিতে হয়। প্রশাসনিক কাজে বিদ্যালয়ের বাইরে যেতে হলে অন্য শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত ক্লাসের চাপ পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
খুলনা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনাজ বেগম ও ফুলতলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহজাহানও প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক গতিশীলতা, বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা ও পাঠদানে জটিলতা তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক মো. ফজলে রাব্বি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা সব শিক্ষার ভিত্তি। একসঙ্গে এতসংখ্যক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামো দুর্বল হচ্ছে। আইনি জটিলতা দ্রুত নিরসন করে পিএসসির মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগের পাশাপাশি জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ অহিদুল আলম বলেন, মামলার কারণে অতীতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক সংকট দ্রুত নিরসন করা না হলে খুলনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা।