• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন

ইঞ্জিনিয়ার হাসান শওকতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার : লেনদেনটি ছিল দুই ঠিকাদারের পারফরম্যান্স গ্যারান্টির


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৯, ২০২৬, ৯:৪৬ অপরাহ্ন / ৯৯
ইঞ্জিনিয়ার হাসান শওকতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার : লেনদেনটি ছিল দুই ঠিকাদারের পারফরম্যান্স গ্যারান্টির

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঢাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাসান শওকতের অফিসকক্ষে অর্থ লেনদেনের একটি পুরোনো ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য ও দাপ্তরিক নথি পর্যালোচনায় জানা গেছে, এই ঘটনায় কোনো অনিয়ম বা ঘুষের সম্পৃক্ততা ছিল না।

প্রকৌশলী হাসান শওকত সেখানে কেবল একজন সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পটভূমি ও ভিডিওর সত্যতা অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ২০২২ সালের ২৬ মে তারিখের। ওই সময় হাসান শওকত ঢাকা মেট্রো সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সরকারি বাঙলা কলেজের প্রায় ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি ভবন নির্মাণের কাজ দরপত্রের মাধ্যমে পায় ‘ঢালী কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’। প্রতিষ্ঠানটি কাজটির বিপরীতে প্রায় ২৪ লাখ টাকা পারফরম্যান্স গ্যারান্টি জমা দেয়।

পরবর্তীতে ঢালী কনস্ট্রাকশন ঋণখেলাপি ও দেউলিয়া ঘোষিত হলে কাজটির অগ্রগতি থমে যায়।
​আটকে থাকা কাজটি শেষ করতে পরবর্তীতে ‘মিরন এন্টারপ্রাইজ’কে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে যুক্ত করে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তি হয়। চুক্তির শর্তানুযায়ী ঢালী কনস্ট্রাকশনের জমা দেওয়া পারফরম্যান্স গ্যারান্টির অর্থের একটি অংশ (৫ লাখ টাকা) পরিশোধ করে মিরন এন্টারপ্রাইজ। অর্থ গ্রহণের বিষয়টি পরবর্তীতে যেন অস্বীকার করা না হয়, সেজন্য লেনদেনের সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছিল।

​মিরন এন্টারপ্রাইজের মালিক রাকিব হোসেন মিরন এবং ঢালী কনস্ট্রাকশনের পরিচালক ফিরোজ আহমেদ—উভয়েই নিশ্চিত করেছেন যে এটি তাদের পারফরম্যান্স গ্যারান্টির হিসাব সমঝোতার টাকা ছিল। কোনো ধরনের ঘুষ বা অবৈধ লেনদেন এখানে হয়নি। অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করতেই তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান শওকতকে সাক্ষী রাখা হয়েছিল এবং তিনি ওই অর্থ থেকে কোনো টাকা নেননি।

​প্রকৌশলী হাসান শওকতও বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, “দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজ হস্তান্তর ও পারফরম্যান্স গ্যারান্টির অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় আমি কেবল উপস্থিত ছিলাম। লেনদেনটি ছিল সম্পূর্ণ তাদের নিজেদের মধ্যে, আমি কোনো অর্থ গ্রহণ করিনি।”

অন্যান্য অভিযোগ ও নথিপত্রের প্রমাণ
​হাসান শওকতের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের অগ্রিম বিল পরিশোধের অনিয়মের অভিযোগ তোলা হলেও দাপ্তরিক নথিপত্রে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর এবং ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর তিনি নিজেই অগ্রিম বিল দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়ে অধীনস্থ কর্মকর্তাদের লিখিত চিঠি পাঠিয়েছিলেন।

অন্যদিকে, শেরে বাংলা বালিকা মহাবিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। নথি অনুযায়ী, ১০ তলা ভিত্তির ভবনটি কেপিআই এলাকা ও বঙ্গভবনের নিরাপত্তাজনিত কারণে ৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। সেখানে নবম ও ১০ম তলার জন্য কোনো দাপ্তরিক বিল পরিশোধ করা হয়নি।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক আনোয়ার জাহেদী জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

​এদিকে হাসান শওকতের গ্রামের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এলাকায় তার পরিবারের দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে। তার প্রয়াত পিতা মরহুম আব্দুস সাত্তার মোল্যা একজন প্রখ্যাত শিক্ষানুরাগী, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন। এলাকার সাধারণ মানুষ এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন করে হাসান শওকত নির্দোষ প্রমাণিত হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।