

জিল্লুর রহমান সাগর, মাগুরাঃ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় পূর্বশত্রুতা ও পূর্বের এক হত্যাকাণ্ডের জের ধরে বিএনপির দুই স্থানীয় সামাজিক গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:৪৫ ঘটিকায় গয়েশপুর ইউনিয়নের চণ্ডীখালী গ্রামের ইসরাইল মাস্টারের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তায় এ সহিংসতা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫ জন মারাত্মক আহত হয়েছেন এবং আনুমানিক দুই লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই চণ্ডীখালী গ্রামে সংঘটিত এক মারামারিতে গুরুতর আহত আমিরুল মোল্যা নামে এক ব্যক্তি ১৭ জুলাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। সেই হত্যাকাণ্ডের জের ধরেই সোমবার সন্ধ্যায় নতুন করে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ঘটনাস্থলে থেকে জানা যায় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলামের সমর্থক ইমদাদুল (৪০) ও আকুল (৫০) লাঙ্গলবাদ বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে চণ্ডীখালী গ্রামের পাকা রাস্তায় পৌঁছালে আসাদ মল্লিক গ্রুপের সমর্থক হাসিব (৩০), জিকু (৩০), আসাদুল (৩০) ও রহমত (২৫)-সহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
এ হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সিরাজুল ইসলামের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র, ইটপাটকেল ও ঢাল-সূর্কি নিয়ে পাল্টা ধাওয়া দেয়। এতে আসাদ মল্লিক গ্রুপের সিরাজ (৪০), আলম (৫৫) ও আমিরুল (৫০) গুরুতর আহত হন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে আসাদ মল্লিক গ্রুপের অনুসারীরা সিরাজুল ইসলাম সমর্থিত মনিরুল ইসলাম (মন্টু), রাশেদ, সোহেল, ওয়াসিম, মুক্তার ও সবুজ বিশ্বাসের ঘরবাড়িতে তাণ্ডব চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করায়।
সংবাদ পেয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ওলি মিয়ার সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শ্রীপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ওলি মিয়ার জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় শান্তি পূর্ণ অবস্থা রয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
আপনার মতামত লিখুন :