• ঢাকা
  • রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

৫২ বিলের কান্না: শার্শার জলাবদ্ধতা নিরসনে শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন ও দাউদখালী খাল সংস্কার সহ সোনাই নদীর সংযোগ এখন সময়ের দাবি


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৮, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ন / ৬৮
৫২ বিলের কান্না: শার্শার জলাবদ্ধতা নিরসনে শহীদ জিয়ার অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন ও দাউদখালী খাল সংস্কার সহ সোনাই নদীর সংযোগ এখন সময়ের দাবি

আজিজুল ইসলাম, যশোরঃ ১৯৭৬ সালের ১লা নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান শার্শায় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক ‘উলশী-যদুনাথপুর’ প্রকল্পের মাধ্যমে এক অনন্য বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন। সেই সফলতার অনেক পরে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শার্শার দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিকে বাঁচাতে ‘মাখলা-দাউদখালী’ খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেন, এবং গোগা ইউনিয়নের সেতাই ব্রীজ পর্যন্ত খাল সংস্কার করে তিনি এই সংস্কার কাজের উদ্বোধন করেন। তখনকার সময় আফছার উদ্দীন গোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সময় দাউদখালী পর্যন্ত খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তিনি প্রয়াত হওয়ার পর তা আজ অবধি অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। গত চার দশকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ৫২টি বিলের জলাবদ্ধতা এখন এই অঞ্চলের লাখো কৃষকের অভিশাপে পরিণত হয়েছে।

​বিগত ৫০ বছর ধরে শার্শা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের মাখলা ও বনমান্দার এবং দক্ষিণাঞ্চলের ঠেঙামারী ও গোমর বিলসহ ছোট-বড় ৫২টি বিল বছরের প্রায় আট মাস পানির নিচে থাকে। মূলত ভারতীয় ইছামতী নদীর জোয়ারের পানি দাউদখালী খাল দিয়ে এসব বিলে প্রবেশ করে। বর্ষার শুরু থেকে শীতের শেষ পর্যন্ত স্থায়ী এই জলাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার একর আবাদি জমি অনাবাদী পড়ে থাকছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তাকে চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

​ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, শার্শা ও কলারোয়ার এই বিস্তীর্ণ জনপদকে অভিশাপমুক্ত করতে হলে শহীদ জিয়ার উন্নয়ন দর্শনের আলোকে দুটি বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

​শার্শার কায়বা ইউনিয়নের গোমর বিলের আগা খাল থেকে কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের সোনাই নদী পর্যন্ত সংযোগ খাল খনন করা। এটি এই অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের মূল ধমনী (Main Outlet) হিসেবে কাজ করবে।

​রুদ্রপুর সীমান্ত এলাকার দাউদখালী খালের মুখে একটি অত্যাধুনিক স্লুইস গেট বা মোটর গেট নির্মাণ করা। এটি ইছামতীর জোয়ারের লোনা পানি প্রবেশ রোধ করবে এবং বর্ষা মৌসুমে বিলের অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনে সহায়তা করবে।

​শহীদ জিয়াউর রহমান শিখিয়েছিলেন কীভাবে কোদাল হাতে মাটি কেটে নিজ ভাগ্য পরিবর্তন করতে হয়। আশির দশকের শুরুতে মাখলা থেকে সেতাই পর্যন্ত সংস্কার কাজ শুরু হলেও রাজনৈতিক অস্থিরতায় তা মুখ থুবড়ে পড়ে। বর্তমান সময়ে দেশে যখন নতুন করে সংস্কারের হাওয়া বইছে, তখন শার্শাবাসী তাদের প্রাণপ্রিয় নেতা জনাব তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছেন।

​এলাকাবাসীর দাবি, তারেক রহমান যদি শহীদ জিয়ার সেই অসম্পূর্ণ ‘মাখলা-দাউদখালী’ প্রকল্পকে পুনর্জীবিত করার উদ্যোগ নেন, তবেই ৫২ বিলের কয়েক লাখ কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে।

​জলাবদ্ধতা নিরসনের এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শার্শা-কলারোয়া অঞ্চলে বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে। “দেশ বাঁচাও, কৃষক বাঁচাও” স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে দাউদখালী খালে স্লুইস গেট নির্মাণ ও সোনাই নদী পর্যন্ত খাল সংযোগের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।