• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন

২১ আগস্ট সাংবাদিক রিপন গ্রেফতারের এক বছর : মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২০, ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ন / ১৭৬
২১ আগস্ট সাংবাদিক রিপন গ্রেফতারের এক বছর : মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ২১ আগস্ট এক বছর আগে এই দিনে গোপালগঞ্জের সাংবাদিক, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়নের গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এবং বিডি ক্রাইম নিউজের সম্পাদক এ জেড আমিনুজ্জামান রিপনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নতুন করে আলোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

তাঁর পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাঁরা ওই মামলা প্রত্যাহার এবং সাংবাদিকদের স্বাধীন ভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, গত বছরের ২১ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নিজ কার্যালয়ে কর্মরত অবস্থায় সাংবাদিক রিপনকে তৎকালীন পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ডেকেছেন, এমন কথা বলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাঁকে নিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয় তাঁদের জানানো হয়নি।

পরবর্তীতে তাঁকে গোপালগঞ্জ সদর থানার গারদে প্রায় ১৯ ঘণ্টা আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সাংবাদিক রিপনের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, গণগ্রেপ্তার, মামলা ছাড়াই মানুষকে আটক, দিনমজুর ও অসহায় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া এবং কথিত গ্রেপ্তার-বাণিজ্য সহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি সংবাদ প্রকাশ ও লেখনীর মাধ্যমে প্রতিবাদ করে আসছিলেন। আর এ কারণেই তাঁকে টার্গেট করে হয়রানি করা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।

গ্রেপ্তারের পরও হয়রানি থামেনি বলে অভিযোগ পরিবারের। তাঁদের ভাষ্য, গোপালগঞ্জ কারাগার থেকে তাঁকে বাগেরহাট কারাগারে পাঠানো হয়। এতে পরিবারের সদস্যদের জন্য তাঁর সঙ্গে দেখা করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

সাংবাদিক রিপন তিন সন্তানের জনক। তাঁর বড় ছেলে তখন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী, বড় মেয়ে ছয় বছর বয়সী ও প্রথম শ্রেণির ছাত্রী এবং ছোট মেয়ের বয়স প্রায় দেড় বছর। পরিবারের দাবি, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে ছোট সন্তানদের নিয়ে কারাগারে বন্দি বাবার সঙ্গে দেখা করা তাদের জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টকর ও মানসিক ভাবে যন্ত্রণাদায়ক।

পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমার স্বামী পেশায় একজন সাংবাদিক। তাঁর অপরাধ ছিল, তিনি গোপালগঞ্জের সাধারণ, নিরীহ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে লেখনীর মাধ্যমে প্রতিবাদ করেছেন।

সাংবাদিক রিপনের সহকর্মীদের মতে, একজন সাংবাদিককে তাঁর পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে হয়রানি বা মামলায় জড়ানো হলে তা শুধু ওই সাংবাদিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করে না, বরং পুরো সাংবাদিক সমাজের স্বাধীনতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এদিকে সাংবাদিক রিপন গ্রেপ্তারের এক বছর পূর্তিতে তাঁর সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, হয়রানি বন্ধ এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।

তাঁরা বলেন, কোনো সাংবাদিক যেন কেবল সত্য ও জনস্বার্থের কথা বলার কারণে এমন পরিস্থিতির শিকার না হন।

সাংবাদিকদের নিরাপদে ও স্বাধীন ভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।