

মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙ্গামাটিঃ পাহাড়ঘেরা শান্ত শহর রাঙ্গামাটিকে মাদকমুক্ত করতে কঠোর অবস্থানে নেমেছে জেলা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩০ মার্চ) রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে এক শ্বাসরুদ্ধকর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোতয়ালী থানা পুলিশ।
অভিযানে ১০৫ পিস ইয়াবাসহ মোট ৮ জন মাদক কারবারি ও মাদক সেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, পিপিএম-এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় জেলা জুড়ে মাদকবিরোধী বিশেষ তৎপরতা শুরু হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জসীম উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আভিযানিক দল সোমবার শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট গুলোতে অভিযান চালায়। পুলিশের এই অতর্কিত অভিযানে মাদক সিন্ডিকেটের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের এই বিশেষ টিমটি সোমবার ভোর থেকেই শহরের রিজার্ভ বাজার, সদর হাসপাতাল এলাকা, মসজিদ কলোনী এবং রিজার্ভ মুখসহ বিভিন্ন অলিগলিতে তল্লাশি চালায়।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট স্পটগুলোতে হানা দিয়ে একে একে গ্রেপ্তার করা হয় চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সেবীদের।
অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া আটজনই রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। তারা হলেন, মোঃ বেলাল হোসেন (৩০), সাং- মসজিদ কলোনী। মোঃ সাব্বির (২৭), সাং- গীতাশ্রম কলোনী। মোঃ আরিফ (২৩), সাং- রিজার্ভ বাজার। মোঃ ওমর ফারুক (২৪), সাং- রিজার্ভ মুখ। মোঃ মেহেদী হাসান (৪০), সাং- সদর হাসপাতাল এলাকার মোঃ হৃদয় (২০), সাং- রিজার্ভ বাজার। মোঃ ওসমান (২৬), সাং- রিজার্ভ মুখ (শহীদ মিনার এলাকা)। মোঃ আয়েছ (৩৩), সাং- মসজিদ কলোনী।
উদ্ধারকৃত আলামত ও আইনি পদক্ষেপ
গ্রেপ্তারকৃতদের দেহ তল্লাশি করে পুলিশ মোট ১০৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত এই মাদকদ্রব্যগুলো জব্দতালিকার মাধ্যমে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। কোতয়ালী থানা সূত্রে জানা গেছে, ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রাঙ্গামাটি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটন নগরী রাঙ্গামাটিতে মাদকের কোনো স্থান নেই। মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে এ ধরনের আকস্মিক ও কঠোর অভিযান আগামী দিনগুলোতে আরও জোরদার করা হবে।
শহরের সাধারণ মানুষ পুলিশের এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে। তবে মাদকের শিকড় উপড়ে ফেলতে জনগণের সহযোগিতা এবং সচেতনতাও একান্ত কাম্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :