• ঢাকা
  • সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন

ফ্যামিলি কার্ডে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য থাকায় খুলনা বিএনপিতে চরম অসন্তোষ


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৭, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ন / ১৯৪
ফ্যামিলি কার্ডে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য থাকায় খুলনা বিএনপিতে চরম অসন্তোষ

খুলনা ব্যুরোঃ ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে পরিচালনাধীন খানা তথ্যভাণ্ডার তৈরি কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গন।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে খুলনা মহানগর বিএনপি। একইসঙ্গে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) রাজিব আহমেদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রশাসনিক অনিয়ম ও চক্রান্তের অভিযোগ এনেছেন দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। তবে বিএনপির উত্থাপিত এসব অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে নগরীর কেডিঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে খুলনা মহানগর বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। নগর বিএনপির সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিনের সঞ্চালনায় আয়োজিত উক্ত সভায় এ অভিযোগ তোলা হয়। পরবর্তীতে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ও সভায় বিএনপি নেতারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ, যার মাধ্যমে প্রকৃত দুস্থ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলো রাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তার আওতায় আসবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, খুলনায় খানা তথ্যভাণ্ডারের সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও তদারকির জন্য যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের একটি বড় অংশই নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের স্বজন ও নির্দিষ্ট সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত। উদাহরণ টেনে নেতারা উল্লেখ করেন-৩১ নম্বর ওয়ার্ডে সাবিহা আক্তার রেশমি, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে জান্নাতুল ফেরদৌস, একই ওয়ার্ডের সাজিন আহমেদ, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে শারমিন আক্তার একা এবং ২১ নম্বর ওয়ার্ডে হাফিজা খাতুনসহ বেশ কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি ইতোমধ্যে কার্ড ও নিয়োগ সুবিধা পেয়েছেন। এ ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের দিয়ে তথ্য সংগ্রহ করানো হলে প্রকৃত তথ্য আড়াল হবে এবং হাজার হাজার যোগ্য পরিবার সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবে।

প্রস্তুতি সভায় সরাসরি কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) রাজিব আহমেদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, সিইও রাজিব আহমেদ একটি নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে চক্রান্তমূলকভাবে এই বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। প্রশাসনিক পদে থেকে এমন পক্ষপাতমূলক ও বিভ্রান্তিকর ভূমিকা পালন অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। নেতারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। অবিলম্বে এই বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল করে যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া না হলে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে সিটি করপোরেশনের সামনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

অন্যদিকে, বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমন জানান, বিতর্কিতদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে আমরা ইতোমধ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরে গিয়ে তাদের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলে এসেছি। যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে এদের বাদ না দেওয়া হয়, তবে আমরা রাজপথে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হব।

তবে মহানগর বিএনপির এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) রাজিব আহমেদ। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও সকল প্রকার নিয়ম মেনেই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার চূড়ান্ত করা হয়েছে। তালিকাটি দ্রুত সময়ের মধ্যে কেসিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। যেকোনো ব্যক্তি এটি যাচাই-বাছাই করলেই প্রক্রিয়ার সত্যতা ও নিরপেক্ষতা স্পষ্ট হয়ে যাবে।