• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

ফায়ার সার্ভিসে বিতর্কিত পদায়ন ও স্বাধীনতা দিবসের প্যারেড কেলেংকারি


প্রকাশের সময় : মার্চ ৩০, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ন / ১০
ফায়ার সার্ভিসে বিতর্কিত পদায়ন ও স্বাধীনতা দিবসের প্যারেড কেলেংকারি

বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে সাম্প্রতিক কিছু পদায়ন ও সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত ঘটনায় দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। এ নিয়ে অভ্যন্তরীণভাবে ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় বাড়ছে।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) জাহেদ কামাল দায়িত্ব গ্রহণের পর গুরুত্বপূর্ণ পদ গুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ ও পুনর্বাসন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে অতীতের ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বসানো হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছেন এডি (অতিরিক্ত পরিচালক) ঢাকা কাজী নাজিমুজ্জামান, যিনি সাবেক মন্ত্রী আব্দুল সামাদ আজাদের আত্মীয় হিসেবে পরিচিত। অভিযোগ উঠেছে, তাকে বিশেষ বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়েছে এবং স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডেও অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত করা হয়।

গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে অন্যান্য বাহিনীর ক্ষেত্রে কর্নেল বা সমমানের কর্মকর্তারা নেতৃত্ব দিলেও, ফায়ার সার্ভিস থেকে একজন পরিচালকের (লেফটেন্যান্ট কর্নেল সমমর্যাদা) অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু সে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও এডি পদমর্যাদার কর্মকর্তা কাজী নাজিমুজ্জামানকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিরাপত্তা সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত প্যারেড মাঠে প্রবেশ করতে পারেননি। এতে বাধ্য হয়ে ডিএডি (ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর) পর্যায়ের একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে প্যারেড পরিচালনা করা হয়, যা প্রতিষ্ঠানটির জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত শুধু প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফায়ার সার্ভিসের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনেকেই দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সংস্থার কার্যক্রমে যদি রাজনৈতিক প্রভাব বা অস্বচ্ছতা প্রাধান্য পায়, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে জনসেবার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।