• ঢাকা
  • বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

দ্বিগুণ বেড়েছে সেবার মান, সন্তুষ্ট সেবা গ্রহীতারা : রাজউকের সকল বিভাগে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২২, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন / ১১৩
দ্বিগুণ বেড়েছে সেবার মান, সন্তুষ্ট সেবা গ্রহীতারা : রাজউকের সকল বিভাগে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে

এম শিমুল খানঃ বর্তমানে রাজধানী উন্নয়ন কতৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান কার্যালয় সহ বিভিন্ন শাখা অফিসের সকল বিভাগে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। সেই সাথে বেড়েছে কাজের গতি ও সেবার মান। এখন আর সেবা প্রত্যাশিদেরকে কোন রকম ভোগান্তি পোহাতে হয় না। আর এ সবই সম্ভব হয়েছে রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ রিয়াজুল ইসলামের দক্ষতা, আন্তরিকতা আর যোগ্য নেতৃত্বের কারনে।

প্রকৌশলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৮ মার্চ তারিখ চেয়ারম্যান হিসেবে রাজউক এ যোগদান করেন। তার বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও নতুন নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ রাজউকে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় রাজউকের অভ্যন্তরীন ব্যবস্থাপনা ও পরিসেবায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা, আন্তরিকতা এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুন।

প্রকৌশলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ইতিমধ্যে রাজউকে একজন সফল চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাপক সুনাম ও পরিচিতি লাভ করেছেন। তিনি তার সততা, কর্মদক্ষতা, সময়ানুবর্তিতা এবং প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য অর্জনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। সকল সহকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজের কাজের মাধ্যমে বিশ্বাস, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি।

রাজউককে সম্পুর্ন দালাল মুক্ত করতে মুল ভবনের প্রবেশ পথে বসানো হয়েছে কার্ড অ্যাক্সেস কন্ট্রোল গেট। রাজউকের সকল অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও দালাল চক্রকে ঠেকাতে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে করে দালালরা যেন সরাসরি রাজউকে ঢুকতে না পারে। সে জন্যই ভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে এন্ট্রি পাস পদ্ধতি চালু করা হয়। এতে করে রাজউকের অভ্যন্তরে দালালী ও প্রতারনা কমেছে শত ভাগ।

২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে রাজউকের চেয়ারম্যানের আসনে বসেন প্রকৌশলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম। তিনি প্রকৌশলীদের নেতা হিসেবে আগে থেকেই একজন সুপরিচিত ব্যাক্তি। মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বিএনপিপন্থী প্রকৌশলীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এইবি) সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়া গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর প্রকৌশলীদের প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) সভাপতি হিসাবেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

প্রকৌশলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রাজউকে আসার পর থেকে সেবা গ্রহিতাদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমেছে। সেই সাথে বেড়েছে সেবার মান। প্রতিনিয়ত সেবা গ্রহীতারা কোন রকম ভোগান্তি ছাড়াই রাজউকের সকল ধরনের সেবা পাচ্ছেন। এ কারনে অনেক সেবা প্রত্যাশীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

রাজউকের বর্তমান চেয়ারম্যান আসার পর যে সকল সেবা কার্যকর করা হয়েছে তা হলোঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিগত এক বছরের উল্লেখযোগ্য অর্জনসমূহ প্লট/ফ্ল্যাটের হস্তান্তর (বিক্রয়, দান, হেবা, বণ্টন), নামজারি, ঋণ গ্রহণের অনুমতি, আম-মোক্তার দলিল সম্পাদন ও বাতিলের ক্ষেত্রে রাজউকের অনুমতি প্রদানের প্রথা বাতিলকরণ। রাজউক কর্তৃক বরাদ্দপ্রাপ্ত প্লট ও ফ্ল্যাটের প্রকল্পভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন ও গেজেটভুক্ত করণ পূর্বক বিক্রয়, নামজারি ও বন্ধক সংক্রান্ত রাজউকের পূর্বানুমতির বিধান প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাতিল করা হয়েছে। এবং এতদসংক্রান্ত কার্যক্রম সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ের মাধ্যমে সম্পাদনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস এবং সেবা গ্রহীতাদের দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে লাঘব হয়েছে।

নামজারি প্রক্রিয়া সহজীকরণঃ উত্তরাধিকার সূত্রে নামজারির জন্য আদালত কর্তৃক সাকসেশান সনদের এবং সকল উত্তরাধিকারদের হাজিরা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহারকরতঃ স্থানীয় সরকার কর্তৃক প্রদত্ত উত্তরাধিকার সনদের ভিত্তিতে নামজারি কার্যক্রম নিষ্পত্তি করণ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। বর্ণিত অফিস আদেশ জারিকরণের মাধ্যমে সেবার মান সহজিকরণ হয়েছে। সেবা গ্রহীতাদের রাজউকে স্বশরীরে উপস্থিত না হয়েও দ্রুততার সাথে সেবা প্রদান সম্ভব হয়েছে।

অবরাদ্দকৃত ফ্ল্যাট বরাদ্দ সংক্রান্ত কার্যক্রমঃ ৯টি পরিত্যক্ত বাড়িতে বহুতল এপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ প্রকল্প এবং হাতিরঝিল এপার্টমেন্ট প্রকল্প-এর আওতায় গুলশান, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও হাতিরঝিল এলাকায় নির্মিত অবরাদ্দকৃত ফ্ল্যাটসমূহ বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা এবং তৎপরবর্তী বরাদ্দ প্রদান সংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।

নামজারীকরণের কার্যক্রম গ্রহণঃ গুলশান, বারিধারা, বনানী ও অন্যান্য এলাকায় অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির মধ্যে ১৮৯৬.০৫ একর (কমবেশী) নামজারী সম্পন্ন হয়েছে। ৮৬৩.৯৪ একর (কমবেশী) জমির নামজারি সম্পন্ন হয়নি এবং উক্ত জমির মধ্যে বারিধারা আবাসিক এলাকার আওতাধীন জমির রেকর্ড সংশোধনের জন্য ভূমি আপিল বোর্ডে প্রেরণ করা হয়েছে। প্লট/ফ্ল্যাট বরাদ্দ গ্রহিতাদের নামজারী সংক্রান্ত জটিলতা লাঘব এবং রাজউকের জমি ব্যবস্থাপনার হালনাগাদ ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

বেদখলকৃত জমি উদ্ধারঃ সম্প্রসারিত উত্তরা (৩য় পর্ব) আবাসিক এলাকার মোট ২০৬৪ একর অধিগ্রহনকৃত সম্পত্তির মধ্যে ১৬৭৬ একর (কম বেশী) জমি রাজউকের অনুকুলে ভূমি নামজারী সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজউকের এস্টেট ও ভূমি-২ এর আওতাধীন বেদখলকৃত সম্পত্তির মধ্যে কমবেশী ২.০ একর সম্পত্তি উচ্ছেদ অভিযান/মোবাইল কোটের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ পূর্বক বরাদ্দ গ্রহিতা অনুকুলে জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেদখল কৃত জমি উদ্ধারের মাধ্যমে রাজউকে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং জমি উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং ইসলামি ফাউন্ডেশনের অনুকূলে প্লট বরাদ্দকরণ।সরকারি কর্মচারী মেডিকেল কলেজ, সরকারি কর্মচারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সরকারি কর্মচারী নার্সিং কলেজ প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে ৮.৩৯৮ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার অগ্নিকান্ডসহ যে কোন দুর্যোগে দ্রুত সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পের অভ্যন্তরে ১টি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন এবং কেন্দ্রীয় কারিগরি কারখানা স্থাপনের জন্য ১.৪৫১ (এক দশমিক চার পাঁচ এক) একর বা ৮৭.৭৯ (সাতাশি দশমিক সাত নয়) কাঠা জমি বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

দেশব্যাপী ইসলামের সঠিক ও প্রকৃত শিক্ষা প্রচার করা এবং একটি শক্তিশালী ইসলামি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার নিমিত্ত সরকারের ৫৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ইসলামি ফাউন্ডেশনের অনুকূলে প্রতিকী মূল্যে ২.৯৭৫ একর জমি বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। Commercial complex Including Community Center & Kitchen Super Shop ভবনের নিলাম। রাজউক উত্তরা ১৮ নং সেক্টরে উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘এ’ ব্লকে Commercial complex Including Community Center & Kitchen Super Shop ভবনের নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা হয়েছে এবং নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। কর্মচারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নার্সিং কলেজ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন, এবং মডেল মসজিদ প্রতিষ্ঠিত হলে উক্ত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সহায়ক হবে এবং প্রকল্প এলাকার বরাদ্দ গ্রহিতা ও আশে-পাশে বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সেবা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত হবে। উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্পের নাগরিক সেবা নিশ্চিত হবে।

ডাটাবেজ প্রস্তুতকরণঃ ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে বরাদ্দকৃত প্লটের এবং বরাদ্দ গ্রহীতাদের হালনাগাদ তথ্য সম্বলিত ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে। ডাটাবেজ হালনাগাদ ও তথ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন। উত্তরা ১৮নং সেক্টরে উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্পের ৭ম পর্যায়ে লটারির মাধ্যমে ১৭২ জন বরাদ্দ গ্রহীতার অনুকুলে সাময়িক বরাদ্ধ পত্র প্রদান করা হয়েছে।

অবরাদ্দকৃত ফ্ল্যাট বরাদ্দঃ উত্তরা ১৮ নং সেক্টরে উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্পের ১০ম লটারিতে নির্বাচিত ১৪৭জন বরাদ্দ গ্রহীতাকে চূড়ান্ত বরাদ্দ পত্র প্রদান করা হয়েছে। উত্তরা ১৮ নং সেক্টরে উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রকল্পের ১৩ (এ, বি, সি, ডি) নং ভবনের অভ্যন্তরে লটারিতে নির্বাচিত বরাদ্দ গ্রহীতাগণকে কার পার্কিং আইডি প্রদান করা হয় এবং অন্যান্য বরাদ্দ গ্রহীতাদেরকে লটারির ভিত্তিতে কার পার্কিং ভবনে কার পার্কিং আইডি প্রদান করা হয়েছে।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় পূর্বাচল নামে মৌজা প্রস্তুতকরণ, পূর্বাচলকে ঢাকা জেলা এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে সংযোজন এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতায় আনার লক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর গত ২৪.০৮.২০২৫ তারিখে ৪টি প্রতিবেদন প্রেরন হয়েছে। প্রেরনকৃত ৪টি প্রতিবেদনের বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে সদস্যের (এস্টেট ও ভূমি) যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সদস্য (এস্টেট ও ভুমি) সংশ্লিষ্ট বিষয়টি তদারকি করছেন এবং চাহিদা মোতাবেক তথ্য-উপাত্ত প্রেরণে নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে।

গত ০৪.১২.২০২৫ তারিখে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্রাতিষ্ঠানিক প্লট হতে দাতব্য, অলাভজনক, জনহিতকর ও সামাজিক সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্লট বরাদ্দের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের আওতাধীন নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার এবং গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার সকল প্লট সমূহের জরিপ কাজ ইতোমধ্যে শুরু করা হয়েছে যা অল্প কিছুদিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এটা সম্পাদিত হতে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্লটের সকল ধরণের জটিলতার অবসান হবে। গত ১০ নভেম্বর ২০২৫ এ প্রকাশিত গেজেট মোতাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা কর্তৃক উন্নয়নকৃত ও বরাদ্দকৃত আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাট এর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার, ক্রয়, দান বা হেবা সূত্রে নামজারি, হস্তান্তর (বিক্রয়, দান, হেবা বা বণ্টন) দলিল সম্পাদন বা বাতিল, আমমোক্তার দলিল সম্পাদন বা বাতিল এবং ঋণ গ্রহণের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণের বিদ্যমান প্রথা বাতিল করা হয়েছে। উক্ত গেজেট আদেশ কার্যকর করার লক্ষ্যে গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১৬,৫০০টি প্লটের তথ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে যা গেজেট আকারে ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

এছাড়াও ঢাকা শহরের পূর্ব পশ্চিম দিকে চলাচলের সুযোগ সৃষ্টির নিমিত্ত মাদানী এভিনিউ প্রকল্পে ৮.৫ কিঃমিঃ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। কুড়িল হতে বালু নদী পর্যন্ত ৬.৫ কিঃমিঃ দীর্ঘ ৮ লেন এক্সপ্রেসওয়ে ও ৬ লেন সার্ভিস রোড সহ মোট চৌদ্দ লেন এবং বালু নদী হতে কাঞ্চন পর্যন্ত ৬ কিঃমিঃ দীর্ঘ ৬ লেন এক্সপ্রেসওয়ে ৬ লেন সার্ভিস রোড সহ ১২ লেন সর্বমোট ১২.৫ কিঃমিঃ দীর্ঘ রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, ৫টি এ্যাটগ্রেড ইন্টারসেকশন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া পূর্বাচল এলাকায় প্রায় ৫ কিঃমিঃ লেক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ৬৫ কিঃমিঃ অভ্যন্তরীন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, ৪০ কিঃমিঃ সারফেস ড্রেইন নির্মানের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, লেক পাড়ে ৩৪.৪৫ কিঃমিঃ সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঝিলমিল প্রকল্পে ৫টি লটে প্রায় ২২.০ কিঃমিঃ রাস্তা নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়েছে।

ব্রীজ নির্মাণঃ মাদানী এভিনিউ প্রকল্পের আওতায় ৬টি ব্রীজ, কুড়িল-পূর্বাচল লিংক রোডের উপর ৫টি এ্যাটগ্রেড ইন্টারসেকশন, ৬টি ব্রীজ সম্প্রসারণ ও উক্ত রাস্তার উভয় পার্শে খালের উপর ১৩টি আর্চ ব্রীজ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া পূর্বাচল এলাকায় ১৫টি ব্রীজ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২৬টি ব্রীজের রঙকরণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

আবাসিক অবকাঠামো নির্মাণঃ আবাসিক সমস্যা নিরসনে ঢাকাস্থ উত্তরা ১৮নং সেক্টরে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনসাধারণের জন্য এপার্টমেন্ট নির্মাণ (এ ব্লক) উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০০৮টি ফ্ল্যাট ও ঢাকার গুলশান, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া ও ধানমন্ডি এলাকার ৯টি পরিত্যক্ত বাড়ীতে বহুতল এপার্টমেন্ট ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় বিগত ৩ বছরে ১০৭টি ফ্ল্যাট নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে।

স্কুল ভবন নির্মাণঃ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ১ নং সেক্টরে ইউসুফগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ, ৪নং সেক্টরে জনতা স্কুল ভবন নির্মাণ ও ৩নং সেক্টরে প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। ঝিলমিল প্রকল্পে ৮৩০৬.৭৪ বর্গ মি. (ছয়তলা) বিশিষ্ট রাজউক স্কুল এন্ড কলেজ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। পূর্বাচল রাজউক স্কুল এবং কলেজ প্রকল্প এর কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হবে।

সৌন্দর্যবর্ধন, জলাবদ্ধতা নিসরন ও পয়ঃনিষ্কাশনঃ বিগত রাজউক কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কুড়িল পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পার্শ্বে ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকায় ৭৫০ মিঃ দীর্ঘ খাল খনন ও উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হয়েছে। লিংক রোডের উভয় পার্শ্বে ১৩.২ কিঃমিঃ দীর্ঘ খাল খনন ও উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হয়েছে। কুড়িল হতে এডি ৮ খাল পর্যন্ত ২ কিঃমিঃ দীর্ঘ ২.২ মিটার ব্যাসের জিআরপি পাইপের মাধ্যমে বর্জ্য ও ময়লা পানি নিষ্কাশন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এছাড়া হাতিরঝিল এলাকায় ৫০০০ হাজার বৃক্ষরোপণ এবং প্রায় ২০০টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৫০০০ টি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পে ১১০০টি বৃক্ষরোপনের কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর ৫৩টি ভিপি/খাস পুকুর পুনরুদ্ধারে প্রকল্প গ্রহণে ইওয়াই কল করা হয়েছে।

নাগরিক সুবিধাদির সংস্থানঃ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১টি কবরস্থানের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ১টি কবরস্থানের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। গলফ ক্লাব এবং কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ২টি কাঁচা বাজার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঝিলমিল প্রকল্প এলাকায় ৩টি উপকেন্দ্রের মধ্যে ২টি উপ-কেন্দ্র পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ কর্তৃক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একটি ৬ তলা বিশিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে, ১টি থানা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, প্রায় ৪০ কিঃমিঃ পানি সরবরাহ নেটওর্য়াক স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ৪৯৩৩.৪৪ বর্গ মি. (চার তলা) বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে, কবরস্থান এর চারদিকে বাউন্ডারির ওয়াল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, প্রকল্পের ৬ নং সেক্টরে গণপূর্ত অধিদপ্তর (ডিভিশন-৩) কর্তৃক একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। সৌন্দর্যবর্ধন, জলাবদ্ধতা নিসরন ও পয়ঃনিষ্কাশনঃ বিগত রাজউক কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন কুড়িল পূর্বাচল লিংক রোডের উভয় পার্শ্বে ১০০ ফুট চওড়া খাল খনন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকায় ৭৫০ মিঃ দীর্ঘ খাল খনন ও উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত হয়েছে। লিংক রোডের উভয় পার্শ্বে ১৩.২ কিঃমিঃ দীর্ঘ খাল খনন ও উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। কুড়িল হতে এডি ৮ খাল পর্যন্ত ২ কিঃমিঃ দীর্ঘ ২.২ মিটার ব্যাসের জিআরপি পাইপের মাধ্যমে বর্জ্য ও ময়লা পানি নিষ্কাশন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া হাতিরঝিল এলাকায় ৫০০০ হাজার বৃক্ষরোপণ এবং প্রায় ২০০টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৫০০০টি বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পে ১১০০টি বৃক্ষরোপনের কাজ চলমান রয়েছে। ঢাকা মহানগরীর ৫৩টি ভিপি/খাস পুকুর পুনরুদ্ধারে প্রকল্প গ্রহণে ইওয়াই কল করা হয়েছে।

নাগরিক সুবিধাদির সংস্থানঃ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১টি কবরস্থানের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ১টি কবরস্থানের অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, গলফ ক্লাব এবং কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ২টি কাঁচা বাজার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঝিলমিল প্রকল্প এলাকায় ৩টি উপকেন্দ্রের মধ্যে ২টি উপ-কেন্দ্র পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৪ কর্তৃক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। একটি ৬ তলা বিশিষ্ট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে,১টি থানা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে, প্রায় ৪০ কিঃমিঃ পানি সরবরাহ নেটওর্য়াক স্থাপন কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ৪৯৩৩.৪৪ বর্গ মি. (চার তলা) বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে, কবরস্থান এর চারদিকে বাউন্ডারির ওয়াল নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, প্রকল্পের ৬ নং সেক্টরে গণপূর্ত অধিদপ্তর (ডিভিশন-৩) কর্তৃক একটি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্য গৃহীত কার্যক্রমঃ বিধিমালা প্রণয়ন।
ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০২৫ এস.আর.ও. নং ৪৬৯-আইন/২০২৫ তারিখ-১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিঃ এর মাধ্যমে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নকশা অনুমোদন ও নির্মাণ নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি। ২০২৫ সনে নকশা অনুমোদনের জন্য জমা পড়েছে ৩৬৪২টি নথি যার মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়েছে ২৫৭৬টি নথি।
অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের তদারকি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা, ২০২৫ এ ঢাকা শহরের প্রতিটি ভবনকে ভূমিকম্প সহনশীল হিসাবে নির্মাণ তদারকি ও পরিদর্শনঃ অননুমোদিত/ব্যত্যয়কৃত ভবনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা তৈরির জন্য রাজউক এর নকশা অনুমোদন প্রসেসে স্থাপত্য নকশার সাথে স্ট্রাকচারাল, ইলেকট্রিক্যাল, প্ল্যাম্বিং নকশা অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্মাণাধীন ভবনের নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করা হচ্ছে। ছবিসহ অনলাইন পরিদর্শন প্রতিবেদন গুগল ফর্মে দাখিলের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ফলে তদারকির স্বচ্ছতা বেড়েছে।

এছাড়া ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০২৫ এ নকশা অনুমোদনের আবেদনের সাথে তার সকল কারিগরি ব্যক্তিকে অনলাইনে অন্তর্ভুক্ত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনকারী নির্মাণ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। নকশাবহির্ভূত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ক্ষেত্রে কাজ বন্ধ, সংশোধন বা ভাঙার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ১ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিঃ পর্যন্ত। এ সময় মোট পরিচালিত মোবাইল কোর্ট করা হয়েছে ৭৮৬টি। অভিযান পরিচালিত মোট ভবনের সংখ্যা ১২১৫টি। বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্নকৃত ভবন মোট ১০৭৪টি। জরিমানার ১,১১,৫০,০০০/- টাকা জরিমানা আদায়পূর্বক সরকারি কোষাগারে জমা প্রদান করা হয়েছে। সিলগালা করা হয়েছে ৫৩টি ভবন। গত ১৭.০৪.২০২৫ খ্রি. তারিখ সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয় সভাপতিত্বে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর আওতাধীন এলাকায় নকশা ব্যত্যয় ও অনুমোদনবিহীন অবৈধ ভবন নির্মাণ রোধে ইউটিলিটি (পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস) সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ব্যত্যয়কৃত ভবনে নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক ইউটিলিটি (পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস) সংযোগ বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্ত প্রদান গৃহীত হয়। যার ফলশ্রুতিতে নির্মাণ ব্যত্যয় তদারকিতে যৌথ আন্তঃসংস্থাগত সমন্বয় ও নীতিগত অগ্রগতিঃ সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। কার্যক্রম পরিচালনা ও তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ভবন সংক্রান্ত দুর্যোগ প্রশমনের লক্ষ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণে DCQR প্রকল্প হতে মোট ২৪৪ জনকে Structure Design, Fire Safety, Inspection ও Monitoring Manual বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। অংশিজনের মধ্যে ভবনের রেজিলিয়েন্সির (স্থিতিস্থাপকতা/সহনশীলতা) জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২টি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

রাজউকের সকল কার্যক্রম সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম দৈনিক পর্যবেক্ষনকে বলেন, আমি যোগদান করেই রাজউক এ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। অতীতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এমন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা চলমান থাকবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে কেউ কোন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে পার পাবে না।

রাজউক চেয়ারম্যান আরো বলেন, ঢাকাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা আমার প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য সামনে রেখে আমি নানামুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি ও দিন-রাত শ্রম দিয়ে যাচ্ছি।