• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিক পরিচয়ে ইয়াবার কারবার চালাতেন রাকিবুল


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১১, ২০২৪, ১২:৪৯ অপরাহ্ন / ৭২
সাংবাদিক পরিচয়ে ইয়াবার কারবার চালাতেন রাকিবুল

এম রাসেল সরকারঃ নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন ৫৫ বছর বয়সী রাকিবুল ইসলাম। সব সময় গলায় ঝুলিয়ে রাখেন পরিচয়পত্র। খবরের খোঁজে নাকি তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়ান। তবে এসবের আড়ালে তিনি ইয়াবার কারবার চালিয়ে আসছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সম্প্রতি রাজধানীর সায়েদাবাদ থেকে তাঁকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এর পর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে নেপথ্যের কাহিনি।

ডিএনসির মিরপুর সার্কেলের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম ভূঁঞা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলা দিতে নানা কৌশল ব্যবহার করে মাদক কারবারিরা। রাকিবুলও তেমনটাই করেছেন। তিনি সাংবাদিক পরিচয়ে অপকর্ম করে আসছিলেন। পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ‘আশ্রয় প্রতিদিন’ নামে দৈনিক পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। তবে প্রকৃতপক্ষে তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত নন।

এ বিষয়ে আশ্রয় প্রতিদিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে। পত্রিকাটির সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, রাকিবুল ইসলাম নামে তাদের কোনো সাংবাদিক নেই। তিনি ভুয়া পরিচয়পত্র বানিয়ে থাকতে পারেন।

ডিএনসি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার রাকিবুলের বাড়ি খুলনার তেরখাদা উপজেলার বারাসাত ইউনিয়নে। তিনি মাঝেমধ্যেই কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে যান। গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে তিনি চট্টগ্রাম থেকে স্লিপার বাসে (শুয়ে ঘুমানোর উপযোগী আসন) ঢাকায় আসেন। মেয়র হানিফ উড়ালসড়কের টোল প্লাজা এলাকায় আব্দুল্লাহপুরগামী বাসটি থামানো হয়। এর পর রাকিবুলকে তল্লাশি করে মোট ৩ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়। এগুলোর আনুমানিক দাম ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তাঁর বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার চালিয়ে আসছিলেন রাকিবুল। তিনি দাবি করেন, এটাই তাঁর আনা প্রথম চালান। পরে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এর আগেও অনেকবার তিনি ইয়াবা এনে নিজের এলাকায় বিক্রি করেছেন। কক্সবাজার থেকে ইয়াবা আনার সময় তিনি সরাসরি রুট ব্যবহার করতেন না। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে ফাঁকি দিতে তিনি প্রথমে চট্টগ্রামে যেতেন। সেখান থেকে আসতেন ঢাকায়। এর পর ঢাকা থেকে পৃথক পরিবহনে খুলনায় যেতেন। সময় ও শ্রম বেশি হলেও ধরা পড়ার সুযোগ কম বলে ধারণা ছিল তাঁর। কারণ, সরাসরি কক্সবাজার থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া বাসগুলোতে নজরদারি বেশি থাকে।

ডিএনসির এক কর্মকর্তা জানান, ইয়াবা কারবারে স্বল্প সময়ে বিপুল অর্থ পাওয়া যায়– এ কারণে এই পথে আসেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন রাকিবুল। এ ক্ষেত্রে তিনি সাংবাদিকতার পরিচয়পত্রটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। সাধারণত সাংবাদিকদের সন্দেহের ঊর্ধ্বে রেখে তেমন তল্লাশি বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় না। তিনি এ সুযোগ নিয়েছেন। এদিকে একই দিন সন্ধ্যায় সায়েদাবাদ এলাকা থেকে আরও দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। তাদের কাছে পাওয়া যায় ৭৪০ পিস ইয়াবা। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. কামরুজ্জামানের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এবং মো. রুবেলের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান। তবে তারা ঢাকার কেরানীগঞ্জে থাকেন।

কামরুজ্জামান আগে থেকেই ইয়াবার কারবার চালিয়ে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে মাদক-সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে। আর রুবেল পেশায় কাপড় ব্যবসায়ী। তিনি ইয়াবার কারবার শুরুর উদ্দেশে পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে কক্সবাজারের টেকনাফে যান। ফেরার পথে দু’জন ধরা পড়েন।