• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন

শিউলি : স্বপ্নজয়ী এক নারী উদ্যোক্তার নাম


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৭, ২০২১, ৮:০৩ অপরাহ্ন / ৩৮৪
শিউলি : স্বপ্নজয়ী এক নারী উদ্যোক্তার নাম

মোঃ শাহিন আহমেদ, মৌলভীবাজারঃ শিউলী আক্তার ২০১৩ সালে শ্রীমঙ্গল আনোয়ারুল উলুম ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করেন। আলিম পাশ করেই যোগদেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ডিজিটাল সেন্টারে ।

ডিজিাল সেন্টার বদলে দিয়েছে শিউলী আক্তারের জীবন মৌলভীবাজার জেলার চা অধ্যুষিত এলাকার একজন নারী উদ্যোক্তা শিউলী আক্তার। ৩ ভাই ২ বোনের মধ্যে শিউলী আক্তার পরিবারের বড় মেয়ে। বাবা মো.সুবল মিয়া অনেকদিন যাবৎ অসুস্থ থাকায় সংসারের চাকা শিউলীকেই ঘুরাতে হচ্ছে।

ডিজিটাল সেন্টারে যোগ দিয়ে শিউলী আক্তার পৌর এলাকার মানুষকে সরকারি-বেসরকারি নানান সেবা ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে দিয়ে যাচ্ছেন। তারমধ্যে জমির পর্চা,নামজারির আবেদন,বিমানের টিকিট,বিভিন্ন আবেদন,জাতীয় পরিচয় পত্রের আবেদন, এজেন্ট ব্যাংকিং,এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা সহ এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বয়স্ক ,বিধবা , প্রতিবন্ধি ভাতা,ই-চালানের মাধ্যমে সকল সরকারি-বেসরকারী ফি গ্রহণ ও সরকারি-বেসরকারী সকল সেবা ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে কম খরচে,কম সময়ে সামোঃ শাহিন আহমেদ বিশেষ প্রতিনিধি মৌলভীবাজারঃ
শিউলী আক্তার ২০১৩ সালে শ্রীমঙ্গল আনোয়ারুল উলুম ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করেন। আলিম পাশ করেই যোগদেন শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ডিজিটাল সেন্টারে ।

ডিজিাল সেন্টার বদলে দিয়েছে শিউলী আক্তারের জীবন মৌলভীবাজার জেলার চা অধ্যুষিত এলাকার একজন নারী উদ্যোক্তা শিউলী আক্তার। ৩ ভাই ২ বোনের মধ্যে শিউলী আক্তার পরিবারের বড় মেয়ে। বাবা মো.সুবল মিয়া অনেকদিন যাবৎ অসুস্থ থাকায় সংসারের চাকা শিউলীকেই ঘুরাতে হচ্ছে।

ডিজিটাল সেন্টারে যোগ দিয়ে শিউলী আক্তার পৌর এলাকার মানুষকে সরকারি-বেসরকারি নানান সেবা ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে দিয়ে যাচ্ছেন। তারমধ্যে জমির পর্চা,নামজারির আবেদন,বিমানের টিকিট,বিভিন্ন আবেদন,জাতীয় পরিচয় পত্রের আবেদন, এজেন্ট ব্যাংকিং,এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা সহ এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বয়স্ক ,বিধবা , প্রতিবন্ধি ভাতা,ই-চালানের মাধ্যমে সকল সরকারি-বেসরকারী ফি গ্রহণ ও সরকারি-বেসরকারী সকল সেবা ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে কম খরচে,কম সময়ে সাধারন করে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছেন।

শিউলী আক্তার জানান, আমি এ টু আই থেকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে দক্ষতা অর্জন করে ডিজিটাল সেন্টারের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এছাড়াও ডিজিটাল সেন্টারের পাশাপাশি আমি একটি সাব-সেন্টার নিয়েছি সেখানে ডিজিটাল সেবার পাশাপাশি ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, প্রিন্টার এসবের সার্ভিসিং এর কাজ করা হয়।আমি সাব সেন্টারের মাধ্যমে ফ্রিজ,এসি সার্ভিসিং এর উপরে বেকার যুবকদের ট্রেনিং দিয়ে যাচ্ছি।

শিউলী আক্তার বলেন, আমি এসবের পাশাপাশি ব্যবসা বাড়ানোর লক্ষ্যে অনলাইনে ব্যবসা শুরু করেছি। অনলাইনের মাধ্যমে আমি সারাদেশে শ্রীমঙ্গল এর চা-পাতা,ঐতিহ্যবাহী মনিপুরী শাড়ি কাপড় সকলের নিকট পৌঁছে দিচ্ছি। একজন নারী হয়ে সাত সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণের পাশাপাশি আরোও ৫ জনের কর্মস্থানের ব্যবস্থা করেছি।

ডিজিটাল সেন্টারের কাজের পাশাপাশি আমি মাস্টার্স শেষ করেছি। এবং আমার চার ভাই-বোনের লেখাপড়া করাছি। সফলভাবে কাজের স্বীকৃতি সরূপ পেয়েছি বিভিন্ন পুরুষ্কার। যেমন,২০১৫ সালে জেলার শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা,২০১৭ সালে বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ ডিজিটাল সেন্টারের পুরষ্কার,২০১৮ সালে জেলা শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা ও এটু.আই. থেকে দেশসেরা উদ্যোক্তা সম্মাননা এবং ২০১৮ সালে এক শপের তিনবারের শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা সম্মাননা পুরষ্কার পেয়েছি।এসবের পাশাপাশি পেয়েছি পৌর এলাকার জনগণের ভালোবাসা।

শিউলী আক্তার আরোও বলেন,আমি বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশ ই-সেবা ক্যাম্পেইন ২০২১ এর প্রচারণা করছি এর সুফল হিসাবে বাড়ছে জনগণের সেবা গ্রহণের প্রবণতা,তাতে আমি অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হচ্ছি।ক্যাম্পেইন এর মতো এত ভালো একটা উদ্যোগ নেওয়ার জন্যে ধন্যবাদ জানাচ্ছি উপজেলা প্রশাসন,জেলা প্রশাসন এবং এটু আইকে।

শিউলী আক্তারের কাছ থেকে সেবা পাওয়া এক বৃদ্ধা সায়েরা বেগম বলেন,আমি বয়স্ক মানুষ,ক্যান্সারে আক্রান্ত । শিউলী আক্তার আমার ভাতার টাকা আমার ঘরে এসে পৌঁছে দিয়ে যায়।আমাকে কষ্ট করে পৌরসভায় যেতে হয় না।তার জন্যে অনেক দোয়া রইলো।

সেবা পাওয়া তেমনি আরেক জন রিনা বেগম বলেন,আমি বিধবা মহিলা।আমি একদিন আমার জমির পর্চার জন্যে শিউলী আক্তারের কাছে গেলে শিউলী আক্তার আমায় কম খরচে এবং কম সময়ে জমির পর্চার কাগজ আমার হাতে তুলে দেয়।আমি তার ব্যবহারে খুবই মুগ্ধ।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সচিব মাহবুব আলম পাটোয়ারীর সাথে কথা হলে তিনি বলেন,শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা শিউলী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে পৌরবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বয়স্ক ,বিধবা ভাতা,প্রতিবন্ধী ভাতা,জমির পর্চার আবেদন,বিমানের টিকিট এর আবেদন সহ ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে মানুষের বিভিন্ন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।এই কাজ করে শিউলী আক্তার অনেক পুরষ্কার পেয়েছেন।আমি শিউলী আক্তারের সাফল্য কামনা করছি।