• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন

শামীম আহসানের অনলাইন ফাঁদে নিঃস্ব হচ্ছে প্রতিদিন শত শত যুবক!


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৮, ২০২৩, ৪:২৬ অপরাহ্ন / ৫৬
শামীম আহসানের অনলাইন ফাঁদে নিঃস্ব হচ্ছে প্রতিদিন শত শত যুবক!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বর্তমান যুগ আধুনিক যুগ। আধুনিকতার নতুন সাজে পুরো পৃথিবী এখন একদম বদলে গেছে। বছর কুড়ি আগেও যেখানে চিঠিপত্রের যুগ ছিলো কিন্তু এ কুড়ি বছরের ব্যবধানেই যোগাযোগের মাধ্যমে এখন সবার হাতে হাতে মোবাইল ফোন। বেশ সহজেই অডিও, ভিডিও সব ধরনের কল করা যাচ্ছে। এ আধুনিক যুগে শুধু যে যোগাযোগ মাধ্যমের পরিবর্তন হয়েছে তা কিন্তু নয়। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুরো জীবনযাত্রাই একদম পাল্টে গেছে। মানুষের বাজার-ঘাট থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ সব কিছুই এখন এই অনলাইন নির্ভর।

সারা বিশ্বই যখন অনলাইন নির্ভর তখন বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না এমনটাই স্বাভাবিক। হয়েছেও ঠিক তেমনই। হাজারো অনলাইন প্রতিষ্ঠানে ছেয়ে গেছে আমাদের দেশ। এ দেশের মানুষ এখন ইন্টারনেটের কল্যাণে বেশ সহজেই প্রয়োজনীয় জিনিস ঘরে বসেই পেতে সক্ষম হচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে এই অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি অসংখ্য ভুঁইফোঁড় অনলাইন ব্যবসার সৃষ্টি হয়েছে যাদের মাধ্যমে অনেক গ্রাহক প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। হয়তো অনলাইনে অর্ডার করে টাকা দিয়েছেন কিন্তু কাঙ্ক্ষিত বস্তু আর চোখে দেখেননি। অথবা অর্ডার করা পণ্য আর হাতে পাওয়া পণ্যের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। নয়তো সার্ভিস বিক্রি করার জন্য এডভান্স টাকা নিয়ে লাপাত্তা। আর এ কারণেই দিন কে দিন অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।

অনলাইনে রমরমা বিজ্ঞাপন দিয়ে ফেসবুক ভেরিফিকেশন, ফেসবুক লাইক, কমেন্ট, ফলোয়ার বিক্রি সহ বিটকয়েট লেনদেন, ও নিশিদ্ধ ড্রাক ওয়েব ও ডিপ ওয়েভ এর মাধ্যমে অর্ধেক মূল্যে আইফোন বিক্রি ও ড্রাক বিক্রির এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে শামীম আহসান নামে এই যুবক। তরুন উদ্যোক্তা কিংবা এই জেনারেশনের কাছে ফেসবুকে ব্লু টিক একটা আকর্ষণের জায়গা, সে জায়গা থেকে তার ফাদে পা পেলে নিঃস্ব হচ্ছে প্রতিদিন। এমন ই তথ্য প্রমান আমাদের কাছে পৌছালে তথ্যের ভিত্তিতে আমরা তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। নিজেকে পরিচয় দেন মুঠোফোন কোম্পানি অপপো’র ট্রেনিং ম্যানেজার পদে কর্মরত আছেন বরিশাল নতুল্লাবাদ এলাকায়, পরিচয় পত্রে ব্যবহার করেন বাসা/হোল্ডিং: #৯২১, গ্রাম/রাস্তা: আটরা-গিলাতলা, ডাকঘর: আটরা-গিলাতলা, ফুলতলা, খুলনার ঠিকানা। যদিও বিকাশের ট্রানজেকশন ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে মিরপুর ১০ এর একটা দোকানের কথা বলে। অন্য এক ফোনে নম্বরে যোগাযোগ করলে বসুন্ধরা একটা দোকানের ঠিকানা বলে। শামীম আহসান পরিচয় দেয়া চক্রের হোতা’র ফেসবুক প্রোফাইল ও হোয়সঅ্যাপ প্রোফাইল থেকে প্রাপ্ত ছবি তে সংযুক্ত ছবিটি পাওয়া যায়। হোয়াস অ্যাপ নম্বরঃ +৮৮০১৮২৩৩৭০৫৫৩।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যদি এসব চক্র ও ভুঁইফোঁড় অনলাইন সার্ভিস শপগুলোর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেন একমাত্র তাহলেই এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। পাশাপাশি আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে এ ধরনের প্রতারক চক্রের কাছ থেকে। আর যদি কখনও এ ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হই তবে সঙ্গে সঙ্গে আইনের সাহায্য নিতে হবে।

পরিশেষে শুধু একটাই কথা। অনলাইন সেক্টরটা অনেক সম্ভাবনাময় একটি সেক্টর। দেশের প্রচুর বেকার যুবক নিজেই উদ্যোক্তা হওয়ার সাহস করেছে এই অনলাইন ব্যবসার জন্য। অনলাইন ব্যবসা বৃদ্ধিতে প্রচার এর একটা বিশেষ ভুমিকা থাকে। অনেকেই জানেনা এসব বিষয়, যার কারণে সহযোগীতা নিতে হয় তৃতীয় পক্ষের। তখনী শামীম আহসানরা সুযোগ নিয়ে বসে। এদিকে অনেক নারীও নিজেদের স্বাবলম্বী করেছেন বিভিন্ন অনলাইন ব্যবসার মাধ্যমে। দেশের আয়ের জন্যে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছেন এ মানুষগুলো। সরকার যদি এ সেক্টরের প্রতি বিশেষ নজর দেয় তাহলে দেশ পরিবর্তনের জন্য একটি বড় ভুমিকা রাখতে পারবে এ সেক্টরটি।