• ঢাকা
  • সোমবার, ১৭ Jun ২০২৪, ০৭:০২ পূর্বাহ্ন

মাগুরা জেলা আ.লীগের ‘প্রস্তাবিত’ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিতর্কিতদের ছড়াছড়ি : গুঞ্জন উঠেছে অর্থের বিনিময়ে আসছে পদে


প্রকাশের সময় : মার্চ ৩০, ২০২৩, ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন / ১৪০
মাগুরা জেলা আ.লীগের ‘প্রস্তাবিত’ পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে বিতর্কিতদের ছড়াছড়ি : গুঞ্জন উঠেছে অর্থের বিনিময়ে আসছে পদে

নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ  বেশ কিছুদিন ধরে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ নতুন কমিটি নিয়ে নানা মহলে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক চলছে। বইছে সমালোচনার ঝড়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আওয়ামী লীগ পরিবার ও প্রস্তাবিত নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা অনেক নেতাই এই কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি অভিযুক্ত, বিতর্কিত, অযোগ্য এবং হাইব্রিড অনেকেই অর্থের বিনিময়ে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ নতুন কমিটিতে পদে আসছেন। এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রস্তাবিত কমিটিতে পদ পাওয়া একাধিক নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত সিদ্ধার্ত মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির স্বাক্ষর নকল করার অপরাধে বহিষ্কার হয়েছিল। সেই সিদ্ধার্ত মাত্র দু’মাস আগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ ছেড়ে আসছেন জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে। যেখানে কমিটি থেকে বয়সের ওযু হাতে বাদ দেওয়া হয়েছে ছাত্রলীগের সাবেক একাধিক যোগ্য ও সৎ নেতাদেরকে। সেখানে তাদের জুনিয়র সিদ্ধার্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় নেতাদের ক্ষমতায় বলিয়ান হয়ে বহাল তবিয়াতে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

রানা আমীর ওসমান রানা যে ২০১৭ সালে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পঙ্কজ কুমার কুণ্ডুর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জেলা পরিষদ নির্বাচন করেন। তিনিও আছেন প্রস্তাবিত নতুন এই জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে।

জিল্লুর রহমান যার বাবা মাগুরা নাকোল ইউনিয়ন বিএনপির চেয়ারম্যান ছিল। তার পরিবারের সকলেই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। সেই পরিবারের জিল্লুর রহমানও সদস্য হচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের।

ডাঃ রাহুল মিত্র যার বাবা এখনো মাগুরা জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি। আর ছেলে হচ্ছে জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক।

মোস্তাসিম বিল্লাহ সংগ্রাম যে কিনা ইউনিয়ন আওয়ামিলীগের সভাপতির বাড়ি ভাংচুরসহ আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের অত্যাচার করার অপরাধে শেষ ইউনিয়ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাইনি। এছাড়া তিনি প্রকাশ্যে নৌকার বিপক্ষে ছিলেন। বিগত সময়ে চেয়ারম্যান থাকা কালে শ্রীপুর বাহিনীর অধিনায়ক আকবর হোসেন মিয়ার বাড়ি ভাংচুর এবং তাঁর কবরে জুতার মালা ঝুলিয়ে রাখে। শুধু তাই নই তার বাবা মোল্লা নবুয়ত আলী ১৯৭৫ সালের পরবর্তীতে মই মার্কার নির্বাচন করেন। মূলত এরা ৭৫ এর খুনি পরিবার। সেও
জেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক।

এ্যাডভোকেট মসিয়ার রহমান মাগুরা জজ কোর্টের এডিশনাল পিপি। যার রাজনীতির সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই। তার বড় ভাই আতিয়ার রহমান মহম্মদপুর উপজেলার বালিদীয়া ইউনিয়ন বদর বাহিনীর প্রধান ছিল। সে ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।

মীর শহিদুল ইসলাম বাবু যে ফেসবুকে প্রস্তাবিত কমিটি নিয়ে উল্টাপাল্টা তথ্য দিয়ে জন সাধারণের মধ্যে ছড়িয়েছেন বিভ্রান্তি তথ্য। কিন্তু সেই বাবু জেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও দূর্যোগ বিষায়ক সম্পাদক। তার ফেসবুক প্রোফাইল ঘাটলে এমন একাধিক তথ্য পাওয়া গেছে।

ওহিদুর রহমান টিপু যে একাধারে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের আইন সম্পাদক। তিনি মাগুরার রাজনৈতিক কর্মকান্ডে কখনোও স্বয়ংক্রিয় ছিলেন না। তিনিও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক।

পঙ্কজ সাহা নামের অন্য আরেক নেতা শুধুমাত্র অতিথি পাখির ন্যায় মাগুরায় এসে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

ইসমত আরা হ্যাপি যার ভাই লিটন ১৯৯৪ সালে প্রকাশ্যে মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের মিছিলে গুলিবর্ষণ ও হামলা করে। তার বাবা এখনো ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দুই ভাই বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আসামি হয়ে চাকরিচ্যুত হন। সেই হ্যাপিও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হচ্ছেন।

এনামুল হক হিরোক যে কলেজ সংসদ নির্বাচনে সার্টিফিকেট জালিয়াতি করে জি,এস মনোনয়ন নিয়ে ধরা খেয়ে ছাত্রলীগকে নির্বাচনে পরাজিত করে। এরপর ১৭বছর মাগুরা জেলা যুবলীগের দায়িত্বে থেকে জীবনে একটা ইউনিয়ন কমিটি বা উপজেলা কমিটি দিতে পারেনি। আছে হিরোকের নামে একাধিক অভিযোগ। মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগ তার নাম প্রস্তাবই করেনি। অথচ হিরোক কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসাবে আছে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। কিন্তু প্রস্তাবিত কমিটি থেকে একাধিক কমিটিতে থাকার অপরাধে বাদ পরেছেন সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।

অন্যদিকে বিতর্কিত কবিরুল হক ১৯৯৩ সালে ঢাকা কলেজে মন্টু ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তাছাড়া অভিযোগের শেষ নেই তার বিরুদ্ধে।লূ তিনিও মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হচ্ছেন। কমিটিতে জায়গা না পাওয়া অনেক নেতার পাশাপাশি সবশেষ কমিটিতে থাকা কয়েকজন নেতা নতুন এই কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন ত্যাগী ও আওয়ামীলীগ পরিবারের একাধিক নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর মেয়র ও সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খুরশীদ হায়দার টুটুল বলেন, দুর্বল কমিটি হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট রাশেদ মাহমুদ শাহিন বলেন, এমন ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হয়েছে যাদের দ্বারা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা এক সময় নির্যাতিত হয়েছে। এতে আমরা ক্ষুব্ধ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও বতর্মান শালিখা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন বলেন, ত্যাগীদের দূরে ঠেলে দিয়ে বিতর্কিত, জীবনে কখনো জয় বাংলা বলেনি এমন লোকজনকে কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। এতে অনেক ত্যাগী নেতা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হচ্ছেন।

অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের পরই আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক শুরু করেন। তাদের একজন শফিকুজ্জামান বাচ্চু। নিজের ফেসবুক ওয়ালে এই আওয়ামী লীগ নেতা লেখেন, নতুন এই কমিটি তার সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছেন এই নেতা। কমিটি ভালো হয়নি বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ফ ম আবদুল ফাত্তাহ ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু বলেন, ফেসবুকে কোনো কমিটি প্রকাশ হয়েছে, তা তাঁরা জানেন না।