• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪১ অপরাহ্ন

বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র


প্রকাশের সময় : মে ৫, ২০২৩, ১:৩৫ অপরাহ্ন / ১৪৯
বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র

কূটনৈতিক প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পাশাপাশি মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার প্রত্যাশা পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত দুদেশের নবম অংশীদারত্ব সংলাপে এ প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন রাজনীতিবিষয়ক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড। জবাবে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতা পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

সংলাপের পর বৃহস্পতিবার ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড এক টুইট বার্তায় লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক গভীর করতে আমি পররাষ্ট্র সচিব মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনসহ মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমরা বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সংলাপের বিস্তারিত জানিয়ে বলা হয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন এবং বিদেশি পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিকে মার্কিন পক্ষ স্বাগত জানিয়েছে। সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ ইমরানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু, মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস ও হোয়াইট হাউসসহ অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির কথা উল্লেখ করে মাসুদ বিন মোমেন র‌্যাবের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত খুনি রাশেদ চৌধুরীকে হস্তান্তরের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশের সম্প্রতি প্রকাশিত ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের রূপরেখা সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রতিক্রিয়ায় ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দলিলের অনেক বিষয়ে দুই দেশের অবস্থানে মিল রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পুনর্বিবেচনার প্রতিশ্রুতির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড। তিনি দুদেশের জনগণের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের অসাধারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আরও উজ্জ্বল অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক গতিপথের প্রশংসা করেন। তিনি অধিক মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের শ্রম খাতে সংস্কারের ওপর জোর দেন।বৈঠকে দুই দেশই দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে গুরুত্ব দিয়েছে। এ ছাড়া সাইবার সিকিউরিটি, ডাটা প্রটেকশন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েও উভয় পক্ষ সম্মত হয়।পররাষ্ট্র সচিব আগামী বছর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় দশম অংশীদারত্ব সংলাপে নুল্যান্ডকে আমন্ত্রণ জানান।

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার এক বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার নবম অংশীদারত্ব সংলাপে উভয় পক্ষই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে ক্রমবর্ধমান অংশীদারত্বের প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।