• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:১৪ অপরাহ্ন

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে আরো দর্শক ও পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে———সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : জুলাই ২২, ২০২২, ৪:১৩ অপরাহ্ন / ১৩৫
পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে আরো দর্শক ও পর্যটনবান্ধব করে গড়ে তোলা হচ্ছে———সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেছেন, নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলায় অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার বা পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার অষ্টম শতকে নির্মিত বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহারের সাক্ষ্য। এটি বাংলাদেশে অবস্থিত অন্যতম ইউনেস্কো হেরিটেজ সাইট। এ বিহারকে আরো দর্শক ও পর্যটকবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। যারই অংশ হিসাবে আয়োজন করা হয়েছে অংশীজনের অংশগ্রহণে সভা, উন্নতমানের ফুডকোর্ট চালুসহ বিভিন্ন উদ্যোগ। তবে প্রত্নতত্ত্ব আইন মেনেই এ বিহারকে আরো নান্দনিক করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী আজ সকালে নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর জাদুঘর সেমিনার কক্ষে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে দর্শকবান্ধব করার লক্ষ্যে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় আয়োজিত অংশীজনের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি বলেন, পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আমি অত্যন্ত মুগ্ধ। এভাবে দেশের অন্য প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটগুলোর ব্যবস্থাপনা করা গেলে দর্শক ও পর্যটকদের সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে এবং আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, অংশীজনের সভায় পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারকে দর্শকবান্ধব করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রস্তাব ও পরামর্শ ওঠে এসেছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো- জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও সুপেয় পানির সরবরাহের ব্যবস্থা গ্রহণ, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আবাসনের জন্য উন্নতমানের রিসোর্ট/মোটেল নির্মাণ, কারুপণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন, মুক্তমঞ্চ/সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন, মাস্টাররোলের কর্মচারীদের স্থায়ীকরণ, জামালগঞ্জ রেলস্টেশনকে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজে রূপান্তর, পাহাড়পুরের বিভিন্ন রাস্তার দু’পাশে গাছ লাগিয়ে আরো দৃষ্টিনন্দন ও ছায়া সুনিবিড় করা, রাতের পাহাড়পুরের সৌন্দর্য দেখার ব্যবস্থা গ্রহণ, ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বৃদ্ধি ও লজিস্টিক সাপোর্ট, পাহাড়পুরসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য পর্যটন স্পটসমূহকে ঘিরে পুনরায় ট্যুরিস্ট বাস চালুকরণ, পাহাড়পুরের আশপাশের সড়ক নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি ও প্রশস্তকরণ ইত্যাদি। কে এম খালিদ বলেন, পাহাড়পুরের উন্নয়নে যৌক্তিক পরামর্শ ও দাবিসমূহ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে সুপেয় পানি সরবরাহ ও মুক্তমঞ্চ স্থাপনে অতি দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। হৃদয়ে ধারণ না করলে প্রত্নতত্ত্ব সেক্টরের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে প্রতিমন্ত্রী এ সময় উল্লেখ করেন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রতন চন্দ্র পণ্ডিত এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শহিদুজ্জামান সরকার ও নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ ছলিম উদ্দিন তরফদার।

অংশীজন সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিল্টন কুমার রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাইনুল ইসলাম, বদলগাছি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা. আলপনা ইয়াসমিন, বদলগাছি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান, পাহাড়পুর ট্যুরিস্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর মোঃ সাজেদুর রহমান ও পাহাড়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান কিশোর। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রাজশাহী ও রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয় বগুড়ার আঞ্চলিক পরিচালক ড. মোছা. নাহিদ সুলতানা।

পরে প্রতিমন্ত্রী ‘দ্য হেরিটেজ ক্যাফে’ শীর্ষক পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ফুডকোর্টের নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।