বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ১১:২২ অপরাহ্ন

দেশের ভয়ঙ্কর অপরাধী যখন জনপ্রতিনিধি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৯৮ Time View

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকাঃ ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। কারো কারো নাম যুক্ত হয়েছে দাগী অপরাধীর তালিকাতেও। দুর্নীতি, লুটপাট, জবরদখল, চাঁদাবাজি, জুলুমবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে শুরু করে ধর্ষণকান্ডেও জড়িয়ে পড়ছেন তারা। স্থানীয় পর্যায়ের মাদক বাণিজ্য, দেহব্যবসার পৃষ্ঠপোষকতা দেয়াসহ ক্যাসিনোর আদলে জুয়া বাণিজ্যও পরিচালনা করছেন নেতা পদবীর জনপ্রতিনিধিরা। রাষ্ট্রের কাছে দেয়া শপথনামায় যারা জনগণের জানমাল, সুরক্ষাসহ সামাজিক শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে অঙ্গিকারাবদ্ধ, তারাই রক্ষকের ছদ্মাবরণে বেপরোয়া ভক্ষকে পরিনত হয়েছেন।

অর্থবিত্ত ক্ষমতার দাপটে অপ্রতিরোধ্য বনে যাওয়া দাপুটে জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই ইদানিং জড়িয়ে পড়েছেন ঘৃণ্য অনৈতিক কর্মকান্ডেও। মাদক সেবন, প্রকাশ্য মাতলামি, ধর্ষণ, নারী কেলেঙ্কারীসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপে অহরহ জড়িত থাকছেন তারা। এতে দলীয় ভাবমূর্তি যেমন ক্ষুন্ন হচ্ছে, তেমনি বিতর্কিত হয়ে উঠছে স্থানীয় সরকারের নানা প্রতিষ্ঠানও। এসব নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চরম অসন্তোষেরও সৃষ্টি হয়েছে। সাভার উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শাহাদাত হোসেন খানের উলঙ্গ ছবি ঘিরে সর্বত্র বিদঘুটে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তার নানা অনৈতিক কার্যকলাপের সময় গোপনে ধারণকৃত নগ্ন দৃশ্যাবলী মানুষের মোবাইলে মোবাইলে ছড়িয়ে মুহূর্তেই ভাইরালে পরিনত হয়। এ নিয়ে বিতর্ক আর সমালোচনার ঝড় চলাবস্থায়ই সাহাদাতকে সাভার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মাসুদের ইয়াবা সেবনের দৃশ্য দেখে সর্বত্রই ছিঃ ছিঃ রব উঠেছে। তবু তারা চলাফেরা করে নাক উচিয়ে, বুক ফুলিয়েই। অর্থবিত্তের পাহাড় জমানো এসব নেতাদের কোনো দিকে তাকানোর ফুরসৎ নেই। গাংনী উপজেলা পরিষদের নারী ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা ইয়াসমীনকে তার প্রেমিকসহ হাতেনাতে আটক করে এলাকাবাসী বিয়ে পর্যন্ত পড়িয়ে দিয়েছেন। পরকীয়া প্রেমের জেরে ২০ লাখ টাকা দেনমোহরে আবারও বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন এ নারী ভাইস চেয়ারম্যান। স্বামী মৃত্যুজনিত কারণে একাকী হয়ে পড়া ফারহানা ইয়াসমীন পরকীয়ার সুবিধায় সুখ-সংসার লাভ করলেও তার অনৈতিকতায় বিতর্কিত হয়েছে দল, ক্ষুন্ন হয়েছে উপজেলা পরিষদের সম্মান।
এদিকে নরসিংদীর মাধবদী পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন মানিক তার এলাকায় রীতিমত জমিদারী শাসন কায়েম করেছেন। তিনি মাস্তান বাহিনীর দ্বারা যাকে খুশি ধরে বেধে নিজের আস্তানায় নিয়ে আটকে রাখেন, নানারকম নিপিড়ন নির্যাতন চালান। মেয়র মোশাররফের কাছ থেকে বাদী-বিবাদী কারো যেন রেহাই নেই। উভয় পক্ষ থেকেই চাহিদামাফিক টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়াই তার প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেয়র মোশাররফের হাতে দলীয় নেতা কর্মিরাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হন, ক্ষতিগ্রস্ত হন। অতিসম্প্রতি থানা কৃষকলীগের সদস্য সচিব সুখরঞ্জন বনিক, থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুদ খান অপূর্ব, শ্রমিক লীগের থানা কমিটির সভাপতি আনিসুর রহমান সোহেলসহ প্রায় এক ডজন নেতা সরাসরি মেয়র মোশাররফের বর্বর নির্যাতনের শিকার হন। এসব নেতাদের তিনি প্রকাশ্যে জনসম্মুখে প্রহার করেছেন, আহত বানিয়ে হাসপাতালে পর্যন্ত পাঠিয়েছেন।
এ নিয়ে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগসহ ক্ষমতাসীন দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা কর্মিদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। দলীয় নেতা কর্মিরা অভিযোগ করে জানান, মেয়রের অনৈতিক কর্মকান্ড, সন্ত্রাসী আচরণ ও লুটপাট দুর্নীতির বেশুমার অভিযোগের কারণে সাধারন মানুষের সামনে মুখ দেখানো যায় না। স্কুল কলেজের ছাত্রী থেকে শুরু করে গৃহবধূ পর্যন্ত সবাই তার ব্যাপারে ভয়ঙ্কর আতঙ্কে থাকেন। নারীঘটিত অসংখ্য কেলেঙ্কারীর সঙ্গে মেয়রের সম্পৃক্ততা নিয়ে মুখরোচক হাজারো গল্প ছড়িয়ে আছে মানুষের মুখে মুখে। তার মুখের অশ্রাব্য গালাগাল শুনলে বমির উদ্রেক হয়।
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র গোলাম কবিরের ক্ষমতার যেন শেষ নেই। তার বিরুদ্ধে হাজারো অভিযোগের ছড়াছড়ি, কিন্তু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সাহসও যেন কারো নেই। অজ্ঞাত ক্ষমতায় দোর্দন্ড দাপুটে গোলাম কবীরের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ তদন্ত করতেও চরম অনীহা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। পিরোজপুরের জেলা প্রশাসন থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনও অত্যাচারী ওই মেয়রের ব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটে থাকছে। পৌর মেয়র গোলাম কবীরের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি, লুটপাট ও স্বেচ্ছাচারিতার অন্তহীন অভিযোগ রয়েছে। তার স্বজনপ্রীতির থাবায় লুটপাট চলছে গোটা পৌর শহর জুড়েই। দুর্নীতির ক্ষেত্রেও চলছে মেয়রের নির্লজ্জ বেহায়পনা। পৌর পিতা হিসেবে পৌরসভার নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের টেন্ডার যেমন ঘোষণা করেন গোলাম কবীর, তেমনি নিজেই ঠিকাদার হিসেবে রীতিমত সিন্ডিকেট বানিয়ে সেসব টেন্ডার কাজ হাতিয়েও নেন প্রকাশ্যে। এতে প্রতিটি উন্নয়ন কাজে সরকারি অর্থের যথেচ্ছা অপচয় ঘটলেও কাঙ্খিত উন্নয়ন দেখতে পান না পৌরবাসী। পৌরসভার উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দের টাকা অন্য ঠিকাদারদের নাম মাত্র দিয়ে মেসার্স মাহাবুব ট্রেডার্সের নামে সিংহভাগ টাকা মেয়র নিজে নিয়ে নেন।
গোলাম কবীরের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ জমা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনেও। কিন্তু বেশিরভাগ অভিযোগের তদন্ত পর্যন্ত হয় না। সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোতে মেয়র গোলাম কবীরের পা পড়লেই অজ্ঞাত জাদুর ছোঁয়ায় সব তদন্ত তৎপরতা বন্ধ হয়ে যায়, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার গড়ে উঠে গলায় গলায় পীড়িত। এসব বিষয় জানিয়ে প্রতিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছেও বিশেষভাবে অভিযোগ দাখিল করেন ওই এলাকার বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ। এ্যাডভোকেট কমলকৃষ্ণ আচার্য্য. কাজী ছাইফুদ্দিন শাহারিয়ার সোহাগ, শামীম হাসান, হুমায়ুন কবির, খলিলুর রহমান, হাফিজুর রহমান, মেহেদী হাসান, শ্যামল দত্ত ও সজিব সাক্ষরিত লিখিত অভিযোগে মেয়র গোলাম কবীরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ত্রিশটিরও বেশি অভিযোগের প্রমানাদীও দাখিল কর

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 banglahost
Design & Development By: Atozithost
Tuhin