শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন



দীর্ঘ ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও খুলনার সাংবাদিক হুমায়ুন কবীর বালু হত্যার বিচার হয়নি : ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে হত্যার নেপথ্যে থাকা গডফাদাররা

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১
  • ১৩০ Time View

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ২০০৪ সালের ২৭ জুন হুমায়ূন কবীর বালু নিজ কর্মস্থল দৈনিক জন্মভূমির প্রধান ফটকে সন্ত্রাসীদের বোমা হামলায় নিহত হন। একমাত্র মেয়ে হুসনা মেহেরুবা টুম্পা মাধ্যমিক পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে কৃতকার্য হয়। সেই আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিতে তিনি বড় ছেলে আসিফ কবীর (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব), ছোট ছেলে আশিক কবীর ও মেয়ে টুম্পাকে নিয়ে নগরের ইকবালনগরের বাড়িতে যান মাকে মিষ্টি মুখ করাতে।

ইকবালনগর থেকে নিজ গাড়িতে করে হুমায়ূন কবীর বালু এসে পৌঁছান জন্মভূমি ভবনে। গাড়ি থেকে নেমে দৈনিক জন্মভূমি ভবনের গেটে পা দিতেই সন্ত্রাসীরা জাতিসংঘ শিশু পার্কের সামনে থেকে তার ওপর বোমা নিক্ষেপ করে।সন্ত্রাসীদের ছোড়া বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক জন্মভূমি পরিবারের সদস্যরা, স্থানীয় লোকজন, সাংবাদিক ও আত্মীয় স্বজন তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা হুমায়ূন কবীর বালুকে মৃত ঘোষণা করেন। বোমার স্প্লিন্টারে বড় ছেলে আসিফ কবীরের গায়ে লাগলেও তা মারাত্মক ছিলো না।

খুলনার সংবাদপত্র জগতের দিকপাল, আপোষহীন শহীদ এ সাংবাদিকের শাহাদাৎ বার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের জন্য দৈনিক জন্মভূমি ও সান্ধ্য দৈনিক রাজপথের দাবীর পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি হাতে নেওযা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রয়াত সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালুর আদর্শ ও জীবনবোধ প্রচারার্থে পোস্টার প্রকাশ, মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় ফাতেয়া পাঠ, জন্মভূমি ভবন থেকে শোক র্য্যলীসহ বসুপাড়ায় মরহুমের কবর জিয়ারত ও মূরালে  পুষ্প স্তবক অর্পন করা হবে। দিবসটি পালন উপলক্ষে খুলনা প্রেস ক্লাবে পুষ্পমাল্য অর্পণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।প্রতিবছরই শোক বিহ্বলতার মধ্য দিয়ে নিহত সাংবাদিক বালুকে স্মরণ করে নগরবাসী।

দীর্ঘ ১৭ বছর পেরিয়ে গেলেও একুশে পদকপ্রাপ্ত খুলনার সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালু হত্যার বিচার হয়নি।আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে দায়ের করা মামলার হত্যা অংশের বিচারের রায়ে সব আসামি বেকসুর খালাস পেয়েছে। অন্য একটি অংশে (বিস্ফোরক মামলার) অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন আড়াই বছর আগে জমা দেওয়া হলেও এর বিচারকাজ এখনই শুরুই হয়নি। দীর্ঘ ১৭টি বছর ধরে ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালু হত্যার নেপথ্যে থাকা গডফাদাররা।

নড়াইলের ইতনা গ্রামে ১৯৪৭ সালের ৪ অক্টোবর মাতুলালয়ে জন্মেছিলেন সাংবাদিক বালু। তার বাবার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার বড়ফা গ্রামে। বাবা ইমান উদ্দিন সরদার, মা রাবেয়া বেগম। হুমায়ুন কবির বালু খুলনা শহরের বি কে ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক, সরকারি আযম খান কমার্স কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭২ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি ‘জয় বাংলা’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশে যুক্ত হন ‘সাপ্তাহিক জন্মভূমি’র প্রকাশনার সঙ্গে। ১৯৭৬ সালে খুলনা নগর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৩ সালে সাপ্তাহিক জন্মভূমি দৈনিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তিনি এর সম্পাদক ছিলেন। তিনি খুলনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও তিনবার নির্বাচিত সভাপতি, খুলনা আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, মিড-টাউন রোটারি ক্লাবের সভাপতি, বাংলাদেশ কাউন্সিলর অব এডিটরসের সদস্য, জনসংখ্যা পরিষদের সদস্য, খুলনা আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি, পরিবার পরিকল্পনা সংস্থার সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালক ছিলেন।

সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য হুমায়ুন কবির বালু ১৯৯৩ সালে সুজলা সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী পদক, ১৯৯৪ সালে ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকী পদক এবং ১৯৯৭ সালে সুর-ঝঙ্কার সম্মাননা লাভ করেন। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৯ সালে তাকে একুশে পদকে (মরণোত্তর) ভূষিত করা হয়।



Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category



© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin