• ঢাকা
  • রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ অপরাহ্ন

গোপালগঞ্জ সদর সমাজসেবার ২ ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে ভাতা বাণিজ্যের অভিযোগ


প্রকাশের সময় : অগাস্ট ২১, ২০২৬, ২:৩৯ অপরাহ্ন / ১১৩
গোপালগঞ্জ সদর সমাজসেবার ২ ইউনিয়ন সমাজকর্মীর বিরুদ্ধে ভাতা বাণিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের ইউনিয়ন সমাজকর্মী প্রবিত্র বিশ্বাস ও নিপু আক্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি ভাতা করে দেওয়ার কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজনের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিনামূল্যে পাওয়ার কথা থাকা বিভিন্ন ভাতা ও সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা দেওয়ার পরও অনেকে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা না পাওয়ায় প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরে কর্মরত সমাজকর্মী প্রবিত্র বিশ্বাস ও নিপু আক্তার (ইউনিয়ন সমাজ কর্মী)-কে ঘিরে এ অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নাম নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে।
সাতপাড় ইউনিয়ন সমাজকর্মী নিপু আক্তারের বিরুদ্ধে ঐ ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের প্রতিবন্ধী ভাতা করিয়ে দিতে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

ভুক্তভোগীরা জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভাতা, বিশেষ করে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তাদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, টাকা দেওয়ার পর তাদের কাজ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে।

এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি ভাতা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। ভাতা করে দেওয়ার আশ্বাসে তিনি টাকা দেন। কিন্তু পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ে ভাতা না পাওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েন।

আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সরকারি সুবিধা পেতে ঘুস বা অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই, এ কথা জানার পরও স্থানীয় পর্যায়ে টাকা ছাড়া কাজ হবে না বলে তাকে জানানো হয়। বাধ্য হয়ে তিনি টাকা দিলেও প্রত্যাশিত সুবিধা পাননি বলে দাবি করেন।

অভিযোগগুলো সত্য হলে এটি শুধু আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নয়, বরং সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির স্বচ্ছতা ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত পবিত্র কুমার বালা ও নিপু আক্তার অভিযোগটি সত্য নয় বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ভাতা করে দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর সমাজ সেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেন, সমাজকর্মীদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো দুর্নীতিবাজদের, ঠাঁই হবে না আমার অফিসে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মতো জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্ব ও কর্মস্থল, উপকারভোগীদের তালিকা, ভাতা প্রদানের তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলো যাচাই করা হলে অভিযোগের প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসরে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা বা অসত্যতা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।