বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম:
লক্ষ্মীপুরে বাবা ও ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড যশোরের শার্শায় ফেনসিডিল ও মোটর সাইকেলসহ আটক ২ নড়াইলের কালিয়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে নিজগৃহে উঠলেন গোয়াল ঘরে থাকা ৯২ বছরের বৃদ্ধা মা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে চন্দ্রদিঘলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানের শ্রদ্ধা শ্রীমঙ্গল এ র‍্যাব ৯ এর অভিযান এ ৬৭০ পিস ইয়াবা সহ আটক ১ মৌলভীবাজার এর তরুণ আইটি উদ্যোক্তা তারেক আহমদের গল্প দোয়ারা বাজারে চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন যশোরের শার্শায় কিশোরকে খুন করে ইজিবাইক ছিনতাই নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের অভিনন্দন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মাদকসহ ভ্যান চালক আটক



এক সংবাদ পাঠিকার ভয়ংকর জালিয়াতি জাল সনদে ১১ বছর ধরে চাকরি!

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১
  • ৫৩৯ Time View

নিজস্ব প্রতিবদেকঃ সম্প্রতি দেশের বেশ কয়েকটি সংবাদভিত্তিক ও বিনোদন ভিত্তিক স্যাটেলাইট চ্যানেলে সংবাদ উপস্থাপক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আগ্রহীদের মধ্যে বায়োডাটা জমা দেয়ার হিড়িক পড়েছে। এই সুযোগে অনেকেই তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অতীতেও জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরী নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ আছে কারও কারও বিরুদ্ধে।

এদেরই একজন দেশের স্বনামধন্য একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রায় ১১ বছর ধরে চাকরী করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। অনার্স ও মাস্টার্সের জাল সার্টিফিকেট বানিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চাকরী করে যাওয়া ওই সংবাদ পাঠিকার নাম আঁখি ভদ্র। বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র আলোচনা থাকলেও তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

এর আগে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে সিনিয়র প্রেজেন্টার হিসেবে প্রায় পৌনে এক লাখ টাকা বেতনে যোগদান করেন ওই নারী। তিনি অনার্স ও মাস্টার্স শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট জাল প্রমাণ হওয়ায় মাত্র দুই মাসের মধ্যেই সেখান থেকে তাকে বিতাড়িত করা হয়েছে। চ্যানেল কর্তৃপক্ষও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ২০১০ সালের জুন মাস থেকে ২০১৭ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত এটিএন নিউজের সংবাদ পাঠিকা হিসেবে একই ধরণের জাল সার্টিফিকিটে দিয়ে চাকরি করে গেছেন তিনি।

ব্যাপক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ২০০৩ সালে ময়মনসিংহের মুকুল নিকেতন থেকে ৩.১৯ জিপিএ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন তিনি। যার রোল নম্বর ৪৫০৫৯৮ এবং রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ৭৭৮৮২০/২০০১। জন্ম তারিখ ১৫ জুন ১৯৮৮। এরপর ২০০৫ সালে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ থেকে ২.১০ জিপিএ পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপরের সময়ে তার আর কোনো পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে জালিয়াতির মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের নাম ব্যবহার করে সার্টিফিকেট বানিয়েছেন তিনি। ২০০৫-০৬ সেশনে ইংরেজি ভাষা সাহিত্যে অনার্স সম্পন্ন করেছেন মর্মে সার্টিফিকেট বানিয়েছেন। ০২০১৩৯৯ সিরিয়ালের ওই সার্টিফিকেট অনুযায়ী ২০১০ সালে তার অনার্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং তিনি ইংরেজি সাহিত্যে অনার্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন মর্মে ওই সার্টিফিকেট তৈরি করেন। ওই সার্টিফিকিটে রোল নাম্বার দেয়া হয়েছে ৭১২৯৯৯ এবং রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ৮১৬২৩৭। এখানেই থেমে থাকেনি আঁখি ভদ্রের ভয়ংকর জালিয়াতি।

২০১০-১১ সেশনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন একই কলেজের নাম ব্যবহার করে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্সের জাল সার্টিফিকেটও বানান তিনি। যেখানে রোল নম্বর ৩৬৩৭৯২ রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার ৫৬৩৩২৬। ওই সার্টিফিকেটের সিরিয়াল নাম্বার ০০৪৯৮০৫। এই জাল সার্টিফিকেট দিয়েই ২০১০ সালে এটিএন নিউজে চাকরী নেন তিনি। ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি জাল সার্টিফিকেট দিয়েই এটিএন নিউজে বহাল তবিয়তে দাপটের সঙ্গে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরী করে যান। নিয়মিত বেতন ভাতাও তুলেছেন। এরপরই ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে গেলে জাল সার্টিফিকিটের বিষয়টি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসে।

সেখান থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর ২০১৭ নভেম্বর মাসে এটিএন নিউজে আবারো চাকরীর আবেদন করেন। এরপর এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যানের কাছে জাল সার্টিফিকিটের বিষয়টি গোপন রেখে আবারও চাকরী বাগিয়ে নেন তিনি।

ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজের ইংরেজি বিভাগে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে জানানো হয়েছে, আঁখি ভদ্র যে সেশনের কথা উল্লেখ করেছেন তা সত্য নয়। আনন্দমোহন কলেজ থেকে তিনি কখনোই অনার্স কিংবা মাষ্টার্স সম্পন্ন করার তথ্য কলেজের রেকর্ডেই নেই। একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে জাল সার্টিফিকেট বানানোর ঘটনায় আনন্দমোহন কলেজ কর্তৃপক্ষ চরম বিব্রত।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, যে দুটি সনদ আঁখি ভদ্রের নামে বানানো হয়েছে তা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়। জালিয়াতচক্রের মাধ্যমে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সনদ বানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের একজন কর্মকর্তা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এ ধরণের জালিয়াত চক্রের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান এবং অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা হলে জাল সার্টিফিকেট বানানো এবং তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরী করার ঘটনা কমবে। প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে যে কোনো সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগোযোগ করে সার্টিফিকেট জাল কিনা তা যাচাই করতে পারবে।

এ ধরণের জালিয়াতির বিষয়ে আঁখি ভদ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।



Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category



© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin