• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ন

আজ ৯ ডিসেম্বর পাবনার সাঁথিয়া হানাদারমুক্ত দিবস


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৯, ২০২৪, ৪:৫৫ অপরাহ্ন / ৫৮০
আজ ৯ ডিসেম্বর পাবনার সাঁথিয়া হানাদারমুক্ত দিবস

শামীম আহমেদ, পাবনাঃ আজ ৯ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে সাঁথিয়া সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত হয়েছিল। সেদিন মুক্তিযোদ্ধাদের ছিনিয়ে আনা বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা হাতে নিয়ে উল্লাসে মেতেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিকামী জনতা। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আহ্বানে সারা দিয়ে যুদ্ধকালীন কমান্ডার সাবেক সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে এলাকার ছাত্র যুবক তরুণেরা সংগঠিত হতে থাকে। সাঁথিয়া হাইস্কুল মাঠে এরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। ২৭ মার্চ সাঁথিয়া পশু হাসপাতাল প্রাঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। যুদ্ধে অনেক মুক্তিযোদ্ধারা শহিদ হন। এলাকার শত শত যুবতী ও মহিলারা সম্ভ্রম হারান। সাঁথিয়ায় পাকসেনারা এলাকায় বহু লোকের ঘর-বাড়ি জালিয়ে পুড়িয়ে দেয় ও ব্যাপক লুটপাট চালায়।

দীর্ঘ ৯ মাস সাঁথিয়ার বিভিন্ন স্থানে পাকসেনাদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাসহ অসংখ্য নিরীহ মানুষ শহীদ হন। ১৯ এপ্রিল সাঁথিয়ার পাইকরহাটির ডাব বাগন (বর্তমানে শহীদ নগর) যুদ্ধে পাক বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেয় মুক্তিযোদ্ধা, ও ইপিআর বাহিনীর। ওই যুদ্ধে ২০ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রাায় দু’শ নিরীহ গ্রামবাসী শহীদ হন।

২৬ সেপ্টেম্বর সাঁথিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা সাঁথিয়া হাইস্কুলে অবস্থিত রাজাকার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে ৯ জন রাজাকারকে হত্যা করে এবং অনেক অস্ত্র উদ্ধার করে। সাঁথিয়ায় সবচেয়ে নারকীয় ও বেদনাদায়ক হত্যাকান্ড সংগঠিত হয় ২৭ নভেম্বর ধুলাউড়ীতে। ওইদিন পাকসেনারা বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে রাতের অন্ধকারে পুরো গ্রাম ঘিরে ফেলে মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় একশ জন গ্রামবাসীকে পুড়িয়ে, গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে।

৮ ডিসেম্বর সাঁথিয়ার সকল মুক্তিযোদ্ধারা একত্রিত হয়ে থানা সদর থেকে ২ কি. মি. পশ্চিমে নন্দনপুরে পাক হানাদারদের সাথে চূড়ান্ত মোকাবিলায় অবতীর্ণ হয়। মুক্তিযুদ্ধাদের তুমুল আক্রমনে টিকতে না পেরে পাকসেনারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। পরদিন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে পাক হানাদাররা আবার সাঁথিয়া আক্রমনের উদ্দেশ্য আসতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধারা বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সাঁথিয়া-মাধপুর সড়কের নন্দনপুর-জোড়গাছার মধ্যবর্তী ব্রীজটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেয় এবং বাঙ্কার তৈরি করে সেখানেই তারা অবস্থান নেয়। সেদিন বীরমুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র বাধার মুখে পাক সেনারা আবার পিছু হটে চলে যায়। পরদিন ৯ ডিসেম্বর সাঁথিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা সাঁথিয়া থানা চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সাঁথিয়া থানাকে হানাদার মুক্ত ঘোষণা দেন।