• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

ডুমুরিয়ায় খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২০, ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ন / ৩০
ডুমুরিয়ায় খাল খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর

আল ইমরান, ডুমুরিয়া, খুলনাঃ খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা-র হরি নদীর একটি শাখা খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নির্ধারিত কাজ বাস্তবায়ন না করেই প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর-এর অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (কাবিটা) কর্মসূচির আওতায় হরি নদী থেকে গীতা মন্দির পর্যন্ত প্রায় ৩৬২ মিটার খাল খননের জন্য ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন রুদাঘরা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিহাব উদ্দিন মোল্যা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, বাস্তবে খননকাজ উল্লেখযোগ্যভাবে সম্পন্ন হয়নি। নামমাত্র কিছু কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন।

স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির নেতা কামরুল ইসলাম মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, কোনো কাজ না করেই বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আমানুল্লাহ জানান, খালের কিছু অংশে কচুরিপানা অপসারণ ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো খনন কাজ চোখে পড়েনি। একই ধরনের মন্তব্য করেন শোলগাতিয়া বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী বিকাশ পাল। তার ভাষ্য, কয়েকজন শ্রমিক দিয়ে স্বল্প সময়ের জন্য সামান্য কাজ করতে দেখা গেলেও পরে আর কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি সিহাব উদ্দিন মোল্যা। তিনি দাবি করেন, নিয়ম অনুযায়ী খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা-র প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এস. কে. বোরহান বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। কাগজপত্র অনুযায়ী নিয়ম মেনেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি যাচাই করে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।