

আজিজুল ইসলাম, যশোরঃ যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারের ‘চিনি পট্টি’ এখন নকল ও ভেজাল পণ্যের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। দেশের নামি-দামি ব্র্যান্ডের লোগো ও প্যাকেট হুবহু নকল করে নিম্নমানের চিনিগুঁড়া চাল বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে একদল অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। সাধারণ ক্রেতাদের চোখে ধুলো দিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই জালিয়াতি এখন ওপেন সিক্রেট।
শনিবার (৭ মার্চ) সকালে বাগআঁচড়া বাজারের চিনি পট্টির ‘মেসার্স আরিফ স্টোর’ থেকে জয়নাল নামে এক ক্রেতা এক কেজি মোড়কজাত পোলাওয়ের চাল ক্রয় করেন। দোকানদার আরিফ হোসেন তাকে ‘চাষী ভাই’ সুগন্ধি চিনিগুঁড়া চালের একটি প্যাকেট দেন, যার দাম রাখা হয় ১৭০ টাকা। প্যাকেটটি দেখতে হুবহু স্কয়ার কোম্পানির জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘চাষী’র মতো।
সংশয় দেখা দিলে বিষয়টি সাংবাদিকদের জানানো হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, বাগআঁচড়া বাজারের প্রায় প্রতিটি মুদি দোকানেই এই ‘চাষী ভাই’ ব্র্যান্ডের চাল বিক্রি হচ্ছে। মূলত সাধারণ ক্রেতারা ‘চাষী’ মনে করেই এই নকল চাল কিনছেন।
সরেজমিনে চিনি পট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, মেসার্স আরিফ স্টোরের মালিক আরিফ হোসেন নিজেই নিম্নমানের খোলা চাল বস্তা থেকে বের করে ‘চাষী ভাই’ লেখা প্যাকেটে ভরছেন। জিজ্ঞাসা বামদের এক পর্যায়ে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। আরিফ জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চাল প্যাকেটজাত করে আসছেন। খোলা বাজারের ৭০ টাকা কেজি দরের চাল কিনে তিনি প্যাকেটজাত করে ১৭০ টাকায় বিক্রী করছেন।
স্থানীয় একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বাগআঁচড়া বাজারের এই চিনি পট্টিটি বর্তমানে ‘ইন্ডিয়া পট্টি’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। অভিযোগ আছে, এখানকার ভোগ্যপণ্যের ৯০ শতাংশই ভারত থেকে চোরাই পথে আনা। সূত্রটি আরও জানায় সাপ্তাহিক মাসোয়ারার বিনিময়ে এসব পণ্য এখানে কেনা বেঁচে হয়।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন: অনুমতি ব্যতীত কেউ যদি খোলা চাল মোড়কজাত করে বিক্রি করে, তবে তা দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন জালিয়াতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, নামি ব্র্যান্ডের নাম ও মোড়ক ব্যবহার করে নকল পণ্য বিক্রি করা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অতিদ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :