এম এ মান্নান, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন,সম্ভাব্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী উপজেলা ছাত্র দলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনু।
(২০ অক্টোবর) সোমবার ইউনিয়নের ১২টি পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেন। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
তিনি দলিয়ো প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে, প্রতিটি পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে,পূজার আয়োজক সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তিনি শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান। এবং সকলের সুখ,শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
পরিদর্শনকালে মিজানুর রহমান মিনু, সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুল লতিফ তালুকদার এর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপের পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের হাতে অর্থ উপহার তুলে দেন। এ সময় পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেই সাথে আগামী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন।
শুভেচ্ছা বিনিময়কালে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। শারদীয় দুর্গাপূজা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষ যেন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারেন,এটাই আমাদের প্রত্যাশা। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা এবং সবার মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।
তাছাড়া ইউনিয়নের সব মানুষের আন্তরিক ভালোবাসা ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। এলাকার উন্নয়ন, জনকল্যাণ এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও পেশিশক্তির অপব্যবহারমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা,পারস্পরিক সহযোগিতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এলাকার সমস্যা সমাধান ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে সকল নেতৃবৃন্দই সুনামগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত ও সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
বক্তব্যে তাঁর পিতার আদর্শিক রাজনৈতিক সামাজিক ক্যারিয়ারের অবদান তুলে ধরলেন তিনি। তাঁর পিতা মরহুম আব্দুল লতিফ তালুকদার এই ইউনিয়নে দুইবারের চেয়ারম্যান ছিলেন,তাঁর বড় ভাই আব্দুল কাইয়ুম মজনু তালুকদার চেয়ারম্যান ছিলেন। উনার আদর্শের ন্যায়ায় পরায়ন মানসিকতা, সাধারণ মানুষের বৃক্ষ ছায়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাঁর পিতা ছিলেন একজন স্বাধীনচেতার ক্রীড়া প্রেমি। বিনোদনের অগ্রগামী তরুণদের নির্ভর যোগ্য স্থান। ন্যায় বিচারক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাঁর বাবা। তাঁর পিতার সামাজিক উন্নয়নের উদ্যোগ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার মনসিকতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করে গেছেন। বাবার আদর্শ ধরে রেখে আমি এই এলাকার সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখার সম্ভবনাময় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পরিশেষে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, উপহার প্রদান ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যদিয়ে ইউনিয়নে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মিজানুর রহমান মিনু।