আজিজুল ইসলাম, যশোরঃ যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে পরকীয়া প্রেমের জেরে ইক্রামুল কবির (২৫) নামে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ গুম করার রোমহর্ষক ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। নিখোঁজের এক মাস পাঁচদিন পর অভিযুক্ত গৃহবধূর বাড়ির গোয়ালঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত ইক্রামুল কবির পুটখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আরশাদের ছেলে আলফুরাদের স্ত্রী মুন্নীর (২২) সাথে ইক্রামুলের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এক মাস পাঁচদিন আগে ইক্রামুল তার প্রেমিকা মুন্নীর কাছে পাওনা টাকা আনতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দানা বাঁধলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে অভিযুক্ত স্বামী আলফুরাদকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আজ পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বসতপুর গ্রামে তাদের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানে গোয়ালঘরের মেঝে খনন করে নিখোঁজ ইক্রামুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী আল ফুরাদ ও স্ত্রী মুন্নী বেগমকে পুলিশ আটক করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরকীয়া ও পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে তাকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর শত শত উৎসুক জনতা অভিযুক্তদের বাড়ির সামনে ভিড় জমায়। দীর্ঘ এক মাস পর মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসন জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।