নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সীগঞ্জঃ মুন্সীগঞ্জে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণালংকার আটকে রাখাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিনজনকে মারধর, ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত এবং বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে চারজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পাখি (২৫) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর ডান হাতের রগ কেটে গুরুতর জখম হয়েছে। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মীরকাদিম পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কিল্লাপাড়া টেকের বাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. সানি মিয়া (২৮) মুন্সীগঞ্জ থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানান, প্রায় দুই বছর আগে বিবাদীরা তাঁদের বাড়ি থেকে দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে আটকে রাখেন। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক হলেও বিবাদীরা তা মেনে চলেননি। স্বর্ণালংকার ফেরত চাইলে বিভিন্ন সময় তাঁদের বাড়িতে এসে মারধর ও হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিনের ওই বিরোধের জের ধরে সোমবার বিকেলে শাহীন মোল্লা, আমান মোল্লা, শাহানুর বেগম ও সামিয়া পূর্বপরিকল্পিতভাবে সানিদের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান। এ সময় সানি মিয়া, তাঁর ছোট বোন অন্তঃসত্ত্বা পাখি এবং দুলাভাই আলমগীরকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি কাঠের ডাসা ও লোহার এবং ধারালোছুরি, রড দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও রক্তাক্ত জখম করা হয়।
সানির অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে শাহীন মোল্লা হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে তাঁর অন্তঃসত্ত্বা
বোন পাখির গলায় আঘাত করার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে পাখি হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করতে গেলে তাঁর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে চাকুর আঘাত লেগে রগ কেটে যায়। এতে তিনি গুরুতরভাবে রক্তাক্ত জখম হন।
এ ছাড়া হামলাকারীরা তাঁদের বসতঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে লুটপাট চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বাড়িতে থাকতে না দেওয়াসহ মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো এবং খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত পাখিকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সানি মিয়া মুন্সীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগকারী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
হাতিমাড়া তদন্ত কেন্দ্রের এস আই মোঃ শামিম হোসেন জানান, সানি অভিযোগ করেছে, আমরা অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিবো।