খুলনা থেকে সীমান্ত শাহরিয়ারঃ দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় শহর খুলনা। এ শহরে তেমন কোন বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় নগরবাসীর একটি বড় অংশ সন্ধ্যার পর ভীড় জমায় ভৈরব নদীর তীরবর্তী নদীবন্দর টার্মিনাল এলাকায়।

বিশেষ করে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য চায়ের দোকান, ফাস্টফুড কর্নার, ডিম-চটপটি-বাদামসহ বিভিন্ন খাবারের অস্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নদীর মনোরম ও শান্ত পরিবেশ উপভোগ করতে প্রতিদিন সেখানে জড়ো হয় নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকাকে কেন্দ্র করে দিন দিন বাড়ছে অনিয়ম, মাদকসেবন এবং অবৈধ দখলদারিত্ব। সন্ধ্যার পর প্রকাশ্যে ধূমপান, মাদক সেবন এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে কিছু অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে নদীতে ট্রলার চলাচল এবং সেখানে তরুণ-তরুণীদের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড নিয়েও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

অপর দিকে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে ভৈরব নদীর তীর দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী নদীর পাড়ে পাইলিং করে মাটি ভরাটের মাধ্যমে ধীরে ধীরে নদীর জায়গা দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করছেন। এতে করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে নদী সংকুচিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান পরিচালনা করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারছে না।
অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এসব দখলদাররা বহাল তবিয়তে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার প্রকাশ্যেই হুমকির সুরে দাবি করছেন, কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই করতে পারবে না।
সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—কারা দিচ্ছে এই অবৈধ দখলের সাহস? সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নীরবতা এবং অভিযানের পরও পুনরায় দখল কার্যক্রম শুরু হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আবার অনেকেই মনে করছেন, নিয়মিত তদারকি এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভৈরব নদীর তীরকে একটি সুস্থ বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। কিন্তু মাদক, অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নদী দখলের মতো কর্মকাণ্ড কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত কঠোর নজরদারি বৃদ্ধি এবং নদী রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
খুলনাবাসীর জোর দাবি—নদী রক্ষা ও জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, বিশেষ করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে এক সময়ের প্রাণবন্ত ভৈরব নদী ধীরে ধীরে দখল ও দূষণের শিকার হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।