রাজিবুল ইসলাম রাজিব, খুলনাঃ আমি একজন কন্যা সন্তানের মা, কারও বোন এবং কোনো পিতার কন্যা। আমি নির্যাতন আর সহ্য করতে পারছি না। আমি বাঁচতে চাই। ব্যাংকার স্বামী, ননদ ও শশুরবাড়ির নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কথা গুলো এক নাগাড়ে বলেছিলেন লবণচরা থানার উত্তর হরিণটানা ডি আলী স্কুল এলাকার আফতাব হোসেনের কন্যা ফাতেমা তুজ জোহরা।
বৃহস্পতিবার খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি স্বামী, ননদ এবং ভাসুরের বিরুদ্ধে নির্যতনের অভিযোগ তোলেন। এ সময় তিনি তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন যৌতুকের টাকা দিয়েছি, বাড়ি বানিয়ে দিয়েছি, কিন্তু তারপরেও নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পারলাম না। এখন একমাত্র প্রতিবন্দী শিশু সন্তানকে নিয়ে কোথায় যাব।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২১ সালের ১ অক্টোবর ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক উত্তর হরিণটানা এলাকার হাওলাদার বাড়ির মোতালেবের ছেলে মো: আলমগীরের সাথে বিয়ে হয়। এর পর তাদের কোল জুড়ে আসে একটি কন্য সন্তান। শিশু সন্তান প্রতিবন্ধী। বিয়ের পর স্বামী বেকার থাকায় প্রবাসী দুই বোনের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে তাকে জনতা ব্যাংকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেই। এরপর ৩০ লাখ ৯০হাজর টাকা খরচ করে স্বামীর নামে থাকা জমির ওপর একটি বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়। তাছাড়া নিজের একাউন্টে থাকা ৫ লাখ টাকা স্বামী নামে এফডিআর করে দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, তাদের সংসার ভালই চলছিল। এর মধ্যে ভাসুর মোহাম্মাদ জাহাঙ্গীর আলমের কুদৃষ্টি পড়ে তার ওপর। প্রায় আমাকে কুপ্রস্তাব দিত। তাতে সাড়া না দেওয়ায় সে বিভিন্নভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে থাকে। এর সাথে সম্পৃক্ত হয় ননদ হাসনা হেনা। তারা তাকে মিথ্য অপবাদ দিয়ে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে তার ঔরষজাত সন্তানকে নিয়ে মিথ্যা অপবাদ দিতে থাকে। পরে স্বামী ওই আসামিদের পরামর্শে তার কাছে যৌতুক দাবি করে। অমানুষিক নির্যাতন করে। এঘটনায় বিচার চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করি। তারা জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৭টার দিকে অন্যান্যদের সহযেগিতায় স্বামী আলমগীর তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এতে আমার অনাগত একটি সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। আসামিদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চিৎকার করলে প্রতিবেশিরা এগিয়ে এসে রক্ষা করে। শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্ষ ক্ষরণের কারণে আমাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। এর পর থেকে অভিযুক্তরা আমাকে বাড়ি প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।
এদিকে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, গত ১৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় কাজী অফিসে স্ব শরীরে উপস্থিত হয়ে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন।