এম, এম, সাইফুর রহমান, চরভদ্রাসন, ফরিদপুরঃ ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সরকারি টিফিন/ মিড-ডে মিল কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা ডিমে তিতা স্বাদ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ডিম খাওয়ার পর দুই শিক্ষার্থী বমি বমি ভাব অনুভব করলে শিক্ষকরা তাৎক্ষণিক ভাবে অন্য শিক্ষার্থীদের ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেন। তবে এ ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি।
বৃহস্পতিবার ( ২৪ সেপ্টেম্বর ) উপজেলার চর হরিরামপুর, চর সালেপুর, আজিজ মোহাম্মদ আলী বেপারী, ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী ও পদ্মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিমে তিতা স্বাদের বিষয়টি ধরা পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আজিজুর রহমান ও ডিম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোহাম্মদ বশির উদ্দিন ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন।
এ সময় তারা নিজেরা ডিম খেয়ে তিতা স্বাদ পাওয়ার কথা জানান। পরে উপজেলার ৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিম বিতরণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ইউসুফ শিকদারের ডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরভী হক বলেন, দুজন শিশু ডিম খাওয়ার পর বমি বমি ভাব অনুভব করে। পরে শিক্ষকরা ডিম খেয়ে তিতা স্বাদ পান। তাই অন্য শিশুদের ডিম খেতে নিষেধ করা হয়।
ডিম সরবরাহকারী গ্রামীণ জন উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোহাম্মদ বশির উদ্দিন বলেন, আমি ডিম সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা জানিয়েছে মুরগিকে কৃমিনাশক ওষুধ খাওয়ানোর ফলে ডিমে তিতা স্বাদ তৈরি হতে পারে। এতে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
জানা গেছে, চরভদ্রাসনের ৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুইটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টিফিন সরবরাহ করা হয়। একটি প্রতিষ্ঠান দুধ ও বিস্কুট এবং অপরটি কলা, রুটি ও ডিম সরবরাহ করে। তবে প্রায় এক মাস ধরে বিদ্যালয়গুলোতে দুধ ও বিস্কুট সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ( ভারপ্রাপ্ত ) আজিজুর রহমান বলেন, শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের। কোনো ত্রুটিপূর্ণ বা সন্দেহ জনক খাবার শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা যাবে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ডিমে তিতা স্বাদের প্রকৃত কারণ জানতে নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহনের প্রতিটি ধাপে খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা জরুরি। তবে লাল রঙের ডিমে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায় না সাদা রংয়ের ডিমে এ ধরনের সমস্যা পরিলক্ষিত হয় বলে সাদা ডিম সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।