বিশেষ প্রতিবেদকঃ পলাতক জীবনের সংজ্ঞাটাই যেন বদলে দিয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক। কলকাতার তপসিয়ায় স্ত্রীকে নিয়ে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে রাজকীয় জীবন কাটাচ্ছেন। যেন দেশ ছেড়ে পালানো নয়, ঠিকানা বদলে লাইফস্টাইল আপগ্রেড করেছেন।
নামীদামি বিপণি বিতানে নিয়মিত শপিং, পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্ত সময় কাটানো, আবার দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ডেকে বৈঠক। সব মিলিয়ে প্রবাসী জীবনে যেন কোনো বিষণ্ণতার বালাই নেই। চলছে সভা, আড্ডা আর আয়েশ। দেখে মনে হতে পারে, কলকাতায় বুঝি নতুন কোনো পার্টি অফিস নয়, খুলেছে ব্যক্তিগত ভিআইপি লাউঞ্জ। আর এই রাজকীয় জীবনের খরচ জোগান নিয়েও কম নাটক নেই। ঘনিষ্ঠজন ও সংশ্লিষ্টদের কয়েকজনের দাবি, দেশে থাকা ব্যবসা ও সম্পত্তি থেকে প্রতিমাসে কোটি টাকার বেশি অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগ সত্য হলে, দুই বছর ধরে দেশের সম্পদের আয় বিদেশে নিয়ে গিয়ে বিলাসী জীবন কাটানোর এক অভিনব ব্যবস্থাই যেন দাঁড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ, দেশ থেকে দূরে, কিন্তু দেশের সম্পদের সঙ্গে সম্পর্কটা বেশ নিবিড়। পলাতক থেকেও ক্যাশ ফ্লো ঠিক রাখতে কোনো আপস নেই নানকের।
এই টাকার জোরেই পলাতক জীবনেও রাজার হালে তার জীবন কাটছে বলে জানিয়েছেন নানকের একাধিক ঘনিষ্ঠ সূত্র।
স্ত্রী সৈয়দা আরজুমান বানু এবং মেয়ে এস আমরিন রাখিও বর্তমানে রয়েছেন ভারতে। তপসিয়ার সেই ফ্ল্যাট থেকেই দেশে দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি সময় সময় ভিডিও বার্তাও দেন পলাতক এই নেতা।
পশ্চিমবঙ্গে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন প্রভাবশালী নেতারও নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে ওই বাসায়। ফলে ফ্ল্যাটটি যেন হয়ে উঠেছে কলকাতায় বসে দলের কার্যক্রম সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা।
আওয়ামী শাসনামলের ১৭ বছরে অর্থবিত্তে ফুলেফেঁপে ওঠেন বরিশাল নগরীর বটতলা এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর কবির নানক। যদিও তিনি এমপি হয়েছিলেন ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর মিলিয়ে মাত্র ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সম্পদ থাকার তথ্য দেন নানক। মাত্র ১৬ বছরের ব্যবধানে ২০২৪-এর নির্বাচনে হলফনামায় তিনি দুজনের সম্পদের পরিমাণ দেখান ১৯ কোটি টাকা। দুই হলফনামার এই হিসাবে ৩০ গুণ সম্পদ বাড়ার কথা বলা হলেও, বাস্তবে এর চেয়ে বহু গুণ বেশি সম্পদ রয়েছে নানক পরিবারের। সে সব সম্পদের মূল্য শতকোটি টাকার বেশি।