আজিজুল ইসলাম, যশোরঃ যশোরের শার্শায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে চম্পা খাতুন (৩০) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত্যুর আগে নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তিনি তার আত্মহত্যার জন্য স্থানীয় শিক্ষক কবির হোসেনকে দায়ী করে গেছেন বলে জানিয়েছে পরিবার। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে শার্শা থানায় শিক্ষক কবির হোসেনসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছেন।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের ধান্যতাড়া গ্রামে নিহতের স্বামীর বাড়িতে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত চম্পা খাতুন ওই গ্রামের প্রবাসী মিন্টু গাজীর স্ত্রী এবং ভবানীপুর গ্রামের মৃত আহাদ আলীর মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে ধান্যতাড়া গ্রামের মৃত সাইফুল্লাহ গাজীর ছেলে মিন্টু গাজীর সঙ্গে চম্পা খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ১২ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী মেয়ে এবং ৬ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় পাঁচ বছর আগে মিন্টু গাজী জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে ভবানীপুর গ্রামের নাজিমুদ্দিন (সোলেমান)-এর ছেলে স্থানীয় শিক্ষক কবির হোসেনের সঙ্গে চম্পা খাতুনের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে মোবাইল ফোনে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা বিগত প্রায় চার বছর ধরে চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শিক্ষক কবির হোসেন বিভিন্ন সময়ে চম্পার কাছ থেকে নগদ টাকা ও তার প্রবাসী স্বামীর পাঠানো বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন।
সম্প্রতি কবির হোসেন চম্পা খাতুনকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং হঠাৎ করেই তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন চম্পা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন সকালে চম্পা বিষপান বা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিষয়টি তার ভাইকে ফোনে জানান। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগআঁচড়ার একটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তীতে নাভারন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্মরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।