নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জঃ নারায়ণগঞ্জে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) জেলা কার্যালয়ে মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস সনদ ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো মৌলিক সেবা নিতে গিয়ে ব্যাপক অনিয়ম, ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. মাহবুবুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে স্বাক্ষর বা 'সিগনেচারের' বিনিময়ে সেবাভেদে ১ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে।
সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে মোটরযান পরিদর্শক উসমান গনি, মোটরযান পরিদর্শক সাখায়াত হোসেন ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. হেমায়েত হোসাইনসহ একটি শক্ত সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়, আর দালালের মাধ্যমে গেলে মুহূর্তেই জটিলতা মিটে যায়। মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে (ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট ও গ্রামে বিপুল সম্পদ), যদিও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালের মে মাসে দুদক নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএ কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান চালালেও অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযানের আগাম বার্তা পেয়ে অসাধু কর্মচারীরা সতর্ক হয়ে যায়। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী পরিচালক দাবি করেছেন, কার্যালয়ে কোনো দালালের অস্তিত্ব নেই এবং কোনো অনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে তিনি বা তাঁর কার্যালয় সম্পৃক্ত নয়। সেবাপ্রার্থীদের আস্থা ফেরাতে পুরো প্রক্রিয়া শতভাগ ডিজিটালাইজড করার দাবি জোরালো হচ্ছে।