এম এ মান্নান, মধ্যনগর, সুনামগঞ্জঃ সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নে টাকা ছাড়াই গোদারা পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জনস্বার্থে নিজের অর্থায়ানে কাঠের সেতু বানিয়ে উন্মুক্ত করে দিলেন ছাত্র দলের নেতা। উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মধ্যনগর সদর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মিজানুর রহমান মিনু'র নিজ উদ্যোগে গতবছরের ন্যায় এবছরেও জনস্বার্থে ফ্রিতে কাঠের সেতু নির্মাণ করে দিলেন।
সেতুটি মধ্যনগর ও নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সাথে একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক। উপজেলার সদর ইউনিয়নের জোরখালি নামক স্থানে নির্মিত হয়েছে এই কাঠের সেতু। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে নির্মাণকাজ শেষ হলে,সেতুটি সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। গত বছরও একই স্থানে নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করে দিয়েছিলেন মিজানুর রহমান মিনু।
টাকা ছাড়াই পারাপার হচ্ছে যানবাহনসহ হাজার হাজার পথযাত্রী। একটি খাল,দুই পাড়ের মানুষের নিত্যদিনের দুর্ভোগ ছিল। ছাত্র ছাত্রী,চাকরিজীবী,শ্রমীক,ব্যবসায়ীরা রাত পোহালেই ছুটেন কর্মস্থলে। তাছাড়াও বিভিন্ন এলাকার পথযাত্রী চলাচল করছে ঐ সড়কে। অথচ মাঝখানের এই খালটি পার হতে গুনতে হতো টাকা। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগ লাগবের জন্য,আর মানুষের বাড়তি খরচ কমানোর জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছেন। দুই বছর ধরে নিজ উদ্যোগে কাঠের সেতুটি নির্মাণ করে দেন তিনি। মধ্যনগর ও কলমাকান্দার মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সড়কটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।পথচারী সহ অসংখ্য মানুষ এ পথে চলাচল করেন। যানবাহনের ক্ষেত্রে চলাচল করে মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও সিএনজি। ফলে সেতুটি নির্মিত হওয়ায় নিয়মিত যাতায়াতে মানুষের অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি চলাচলও সহজ হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,বিগত দিনে ওই স্থানে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ইজারা দিয়ে গোদারা পরিচালনা করা হতো। নৌকায় খাল পারাপারের জন্য প্রতিটি মোটরসাইকেল থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হতো। কখনো কখনো এর চেয়েও বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। ফলে প্রতিদিন একাধিকবার এই পথ ব্যবহার করা মোটরসাইকেল চালকদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হতো। সাধারণ যাত্রীদেরও পড়তে হতো ভোগান্তিতে।
মোটরসাইকেল চালক হারুন মিয়া বলেন,আমরা এই রাস্তা দিয়ে দিনে পাঁচ-ছয়বার যাওয়া-আসা করি। গত বছর থেকে আমাদের কোনো টাকা লাগছে না। এর আগে প্রতিদিন এই গোদারায় দুই-তিনশ টাকা দিতে হতো। এখন বিনা মূল্যে পার হতে পারছি। এতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।
মধ্যনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান বাশার বলেন, এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। গত বছরও মানুষ এখানে বিনা মূল্যে পারাপারের সুযোগ পেয়েছেন। এবারও মিনু নিজের অর্থায়নে সেতু নির্মাণ করে দেওয়ায় এলাকার শিক্ষার্থী,ব্যবসায়ী ও দূরদূরান্ত থেকে আসা পথচারীরা উপকৃত হবেন।
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আমার বাবা মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি সব সময় এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তাঁর সেই আদর্শ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই আমিও মানুষের উপকারে আসার চেষ্টা করছি। দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত আরও সহজ করতে এখানে একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের জন্য, স্থানীয় সংসদ সদস্যকে অনুরোধ জানিয়েছি। মাননীয় সংসদ সদস্যও শিগগিরই এখানে একটি স্থায়ী কালভার্ট নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন। সামান্য একটি উদ্যোগের মাধ্যমেও যদি মানুষের উপকার করা যায়, সেটিই আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ তায়ালা যত দিন সামর্থ্য দেবেন, তত দিন মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। পরিশেষে এলাকার সকল শ্রেনী পেশার মানুষের কাছে দোয়া ও আশির্বাদ প্রার্থনা করেন তিনি।