নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জ শহরের শিশু বন এলাকায় এক অসিতিপর বৃদ্ধার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা মিঠু মুন্সির বিরুদ্ধে
এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ওই বৃদ্ধার প্রতিবন্ধী ছেলে জাফর শেখ ও তার স্ত্রী সাবিনা বেগমকে বেধড়ক মারপিট ও আহত করেছে ওই আওয়ামী লীগ নেতা ও তার ক্যাডারা। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী শুকুরন্নেসা বেগমের পরিবারের পক্ষ থেকে সাবিনা বেগম বাদী হয়ে গত ২৩শে সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মিঠু মুন্সি ও তার ক্যাডারদের অব্যাহত অত্যাচার নির্যাতন ও হুমকির কারণে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ওই অসহায় পরিবারটি।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, - বছর পূর্বে ওই এলাকার মুক্তাদির মোল্লা ও তার ছেলে নওশের মোল্লার কাছ থেকে শুকুরুন্নেসা ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে তিনি তার চার সন্তানদের মধ্যে ওই জমি ভাগ করে দেন এবং সেখানে ঘর বাড়ি উঠিয়ে বসবাস শুরু করেন। সাড়ে তিন বছর আগে গোপালগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সম্পাদক পদধারী মিঠু মুন্সি এবং তার দুই ভাই লিটু মুন্সি ও তামিম মুন্সী দলীয় ক্যাডারদের নিয়ে শুকুরন্নেসার জমির মধ্যে তাদের জমি আছে দাবী করে ৮ শতাংশ জমি জোর করে দখল করেন। ওই জায়গার উপর তিনি একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করবেন বলে ঘোষণা দেন। অবৈধভাবে জমি দখলের প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী পরিবারটির উপর নেমে আসে মিঠু মুন্সি ও তার দলীয় ক্যাডারদের অত্যাচার ও নির্যাতনের খড়গ। এসব নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে এ জায়গা থেকে চিরতরে উচ্ছেদ করা হবে এমনকি জীবননাশেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন শুকুরন্নেসা ও তার পরিবারের সদস্যরা।
এ বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কয়েক দফা উদ্যোগ নিলেও অদৃশ্য কারণে তাদের সে উদ্যোগ বারবার ভেস্তে যায় বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ সমস্যার সমাধানে বৈঠকের আয়োজন করেন। সালিশি চলাকালে আওয়ামীলীগ নেতা মিঠু মুন্সির লোকজন শুকুরন্মেসা বেগমের বড় ছেলে শ্রবণ প্রতিবন্ধী জাফর শেখ কে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকার সরোয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এ ব্যপারে সাবিনা বেগম বাদী হয়ে
ভুক্তভোগী শুকুরনন্নেসা বেগমের ছেলে রিকশা চালক সহিদ তালুকদার বলেন, আমার বৃদ্ধা মা ও ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে এ বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। সোলাইমান বাবুর্তির ছেলে মিঠু বিশ্বাস আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি রাত রাতি বিত্ত বৈভবের মালিক হয়ে যান। তিন বছর আগে ক্ষমতার জোরে আমাদের বাড়ির মধ্য থেকে ৮ শতাংশ জায়গা জোর করে দখল করে নেন তিনি। আমরা প্রতিবাদ করলে সে তার দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে আমাদের উপর অত্যাচার নির্যাতন করে যাতে আমরা বাড়ি ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যাই। আমি এই সন্ত্রাসী ভূমিদস্য মিঠু মুন্সি ও তার ক্যাডার বাহিনীর সদস্যদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
নির্যাতনের শিকার জাফর শেখের মেয়ে মিম আক্তার বলেন, মিঠু মুন্সির নেতৃত্বে লোকজন তার প্রতিবন্ধী পিতাকে নির্দয়ভাবে মারপিট করেছে। তারা আমাদেরকে খুন করার হুমকি দিয়েছে।
ভুক্তভোগী বৃ্দ্ধা শুকুরন্নেসা বেগম বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মিঠু মুন্সি বর্তমানে অব্যাহতভাবে চিরতরে আমাদেরকে জমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য নানা রকম হুমকি-ধামকি দিয়ে যাচ্ছে। মিঠু মুন্সি ও তার লোকজন খুবই বেপরোয়া।কেউকে তারা মানে না। আমিও আমার পরিবার সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের দৃষ্টিকার্ষণ করছি।
অভিযুক্ত মিঠুন মুন্সির মা রহিমা বেগম বলেন, চন-মানিকদাহ গ্রামের পাপা মোল্লার কাছ থেকে আমরা ১১ শতাংশ জমি ক্রয় করেছি। এর মধ্যে আমাদের ৮ শতাংশ জায়গা শুকুরন্নেসা বেগমের জায়গার মধ্যে রয়েছে। আমরা আমাদের জায়গা বুঝে নিয়েছি এবং তাদেরকে নীচের দিকে সরে যেতে বলেছি। আমরা জোর করে কারো জায়গা দখল করি নাই। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশি করে যে শর্ত দিয়েছেন আমরা সকল শর্ত মেনে নিয়েছি। তারপর কেন আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে?
গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইষলাম বলেন, এ্ ব্যপারে একটি মামসলাদোয়ের হয়েছে, আমাদের তদন্তাধীন আছে। কোন আসামী এখনো গ্রেফতার হয় নাই।