নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঘোষেরচর উত্তরপাড়া মোল্লাবাড়ির ফুল মিয়া, তার ছেলে রানা মোল্লা ও তাঁদের সঙ্গে থাকা কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ফুল মিয়াকে স্থানীয়ভাবে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও তাঁর রাজনৈতিক পদ-পদবি সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে গোপালগঞ্জের রাউৎখামার এলাকার মনির মোল্লার বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। পারিবারিক বিরোধের জেরে ফুল মিয়া ও তাঁর ছেলে রানা মোল্লাসহ একটি দল বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, ওই বাড়িতে বর্তমানে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্য নিয়মিত অবস্থান করেন না। মনির মোল্লার পরিবারের দুই ছেলের একজন বিদেশে থাকেন এবং অন্যজন ঢাকায় চাকরি করেন। বিষয়টি জানা থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীরা বাড়িতে থাকা নারীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
ঘটনার পর মনির মোল্লার বৃদ্ধ মা অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে, ঘটনার পর থেকে বাড়িতে থাকা অন্য নারীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে ফুল মিয়াকে বলতে শোনা যায়, তোর এমপিরে ক, আমি তোদের বাড়ি আইছি, দেখ আসেনি কি।
ভিডিওটির সত্যতা, বক্তব্যের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং ঘটনার সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযোগটি ঘিরে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মানসম্মানের ভয়ে আইনি পদক্ষেপে অনীহা
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়া এবং মানসম্মানের কথা বিবেচনা করে তাঁরা এখনো সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেননি। তবে ঘটনার পর পরিবারের নারী সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে তাঁরা দাবি করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফুল মিয়া ও তাঁর ছেলে রানা মোল্লার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। তাঁদের বক্তব্য, ঘটনার নিরপেক্ষ বিবরণ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক অবস্থানও যাচাই করা প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, পারিবারিক বিরোধের জেরে কোনো নারী বা পরিবারের সদস্য যেন সহিংসতা ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।