নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার নিজড়া এলাকায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ, জমি দখল এবং প্রভাব খাটিয়ে বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এই মুক্তিযোদ্ধা বাদশা মোল্লার পিতা-আব্দুল ওয়াজেদ মোল্লার ভুয়া অভিযোগের বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের ছায়া তদন্তে পাওয়া যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের লাল বার্তায় বাদশা মোল্লার নাম পাওয়া গেলেও পিতার নামের জায়গায় অভিযোগকারীর চাচা কবির মোল্লার পিতার নাম। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত বেসামরিক গেজেটে লালবার্তার পিতার নাম পরিবর্তন করে বশার মোল্লার পিতা ওয়াজেদ মোল্লার নাম দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীর অভিযোগের সত্যতা ইঙ্গিত পাওয়া যায়। সেই সাথে অভিযোগকারীর নিজ জায়গায় বিল্ডিং নির্মানের কাজে বাধা প্রদান করে, কাজ বন্ধ করার বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়।
অপর দিকে অভিযুক্ত বাদশা মোল্লা ঐ জায়গাটিকে নিজের জায়গা বলে দাবি করেন। কিন্তু বিল্ডিং এর নির্মান কাজ শুরুর সময় সে বাধা না দিয়ে বিল্ডিংয়ে ছাদ ডালাইয়ের সময় বাধা প্রদান করেন।
গত রবিবার (৫ই এপ্রিল) প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা এলাকার কথিত কবির মোল্লার আপন ভাতিজা ভুক্তভোগী মোঃ খায়রুল বাশার মোল্লা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বশার মোল্লাকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ও তার অবৈধ প্রভাব সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিম নিজড়া সাতবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ খায়রুল বাশার মোল্লা দাবি করেন। তার চাচা মরহুম মোঃ কবির মোল্লা একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, যার ক্রমিক নম্বর ১০৯০১১৩০৭। তবে তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ঢাকায় বসবাস করায় গ্রামের সম্পত্তি ও নথিপত্র দেখভালের সুযোগ কম ছিল।
এই সুযোগে একই এলাকার মোঃ বাদশা মোল্লা প্রভাব খাটিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা কবির মোল্লার নামের স্থলে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ১৩নং নিজড়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্ত বাদশা মোল্লা শুধু মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির সাথেই জড়িত নন, বরং তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে ভূমি দখল, জোরপূর্বক বাধা প্রদান এবং সাধারণ মানুষের উপর বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের সাথেও যুক্ত।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১০ জুন ২০২৫ তারিখে মোঃ খায়রুল বাশার মোল্লা তার পৈতৃক ৮ শতক জমির উপর বাড়ি নির্মাণ কাজ শুরু করলে বাদশা মোল্লা তা বন্ধ করে দেন। এতে নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত সিমেন্ট, রড ও বালুসহ বিভিন্ন সামগ্রী দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যায়, ফলে তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এ বিষয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, থানা ও আদালতের দ্বারস্থ হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন, অভিযুক্তের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল, তার পৈতৃক সম্পত্তিতে বাধা অপসারণ এবং অভিযোগ গুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের।
অভিযুক্ত মোঃ বাদশা মোল্লার বাড়িতে গেলে তিনি, সুস্পষ্ট কোন বক্তব্য না দিয়ে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে। তার এই মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার নেপথ্যে কিছু অসাধু ব্যক্তির সংস্লিস্টতার আভাস পাওয়া যায়।
এ ব্যপারে পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে গণমাধ্যম কর্মীরা জানান।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।