নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জঃ গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের কাজীরবাজার আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আশপাশের এলাকায় মাদক ব্যবসা, ছিনতাই ও চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজরদারির আড়ালে একটি সংঘবদ্ধ মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তৎপর রয়েছে। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা।
সম্প্রতি কাজীরবাজার আশ্রয়ণ এলাকায় জরুরি কাজে গিয়ে মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন চর-মানিকদাহ এলাকার বালুর মাঠ এলাকার ভাড়াটিয়া ফাইম নামক এক ব্যক্তি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দুপুরের দিকে তিনি কাজীরবাজার আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় বাড়িওয়ালার মটরসাইকেল নিয়ে যান। গাড়ির নম্বর গোপালগঞ্জ– ল- ১১- ১৮- ৩৯, (রং-নীল) সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি জোরপূর্বক তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরে মোটরসাইকেল ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে তার কাছে টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি কাজীরবাজার এলাকার দবীর মোল্লা ও খলিল খাঁ নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
দবীর মোল্লা ও খলিল খাঁ সম্পর্কে জানতে চাইলে এণাকাবাসীরা তাদের মাদকের গডফাদার বলে অভিহিত করেন এবং গ্রেফতারের দাবী জানান।
সরেজমিনে ছায়া তদন্তে গেলে অভিযোগের অভিযুক্ত খলিল খাঁ – কে পাওয়া গেলে তিনি মটর সাইকেলের বিষয়টি শিকার করে বলেন, গাড়ির মালিকের কাছে আমি টাকা পাই, তাই গাড়ি রেখেছি, গাড়ি আমার কাছে বর্তমানে নেই, আমাকেমোরধর করে রাজিব ও দবীর (মাদক ব্যবসায়ী) গাড়িটি কেড়ে নিয়েছে। তবে অভিযুক্ত দবীর মোল্লাকে না পাওয়ায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাজীরবাজার আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আশপাশের এলাকায় এর আগেও অটোরিকশা, ভ্যান ও অটোবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি একটি ঘটনায় পুলিশ গিয়ে ছিনিয়ে নেওয়া যানবাহন উদ্ধার করেছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আশপাশে একটি অপরাধী চক্র গড়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত ওই এলাকায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায় বলেও অভিযোগ তাদের। এই সকল অপরাধের সেল্টার দাতা হিসেবে দবীর মোল্লা রাজিব ও সুদে খলিলের নাম উঠে আসে, এরা ঐ এলাকার মাদকের ধারক ও বাহক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে এলাকার উঠতি বয়সী কিশোর-তরুণদের একটি অংশ ধীরে ধীরে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
এক বাসিন্দা বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে আমরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারি না। সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয় উঠতি বয়সী মেয়েরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তারা মাদক ব্যবসা বন্ধ, ছিনতাই ও চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয়রা বলছেন, কাজীরবাজার আশ্রয়ণ প্রকল্প ও আশপাশের এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, মাদক ব্যবসা ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করলে কাজীরবাজার আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজমান আতঙ্ক কমবে এবং এলাকায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এখন প্রশাসনের দায়িত্ব।