বিশেষ প্রতিবেদক, ঢাকাঃ সরকারকে বেকায়দায় ফেলা কিংবা রাষ্ট্রযন্ত্রকে অস্থিতিশীল করে তুলতে দেশজুড়ে তৈরী হয়েছে গভীর নাশকতার ফাঁদ।
তবে কি ভারতে বসে বাংলাদেশে নাশকতার ছক কষছেন মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক শেখ হাসিনা? এমন প্রশ্নও এখন এদেশের সাধারণ জনমানুষের মনে।
ঠিক তেমনটাই দাবি করছেন এ দেশের গোয়েন্দা সংস্থা গুলোও। ভারতের আশ্রয়ে থাকা হাসিনার নির্দেশে এবং গোয়েন্দা সংস্থা 'র'-এর তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ দেশব্যাপী বহুমুখী নাশকতার পরিকল্পনার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দাদের দাবি, সম্ভাব্য অস্থিরতার পরিকল্পনাকে চারটি স্তরে দেখা হচ্ছে। প্রথম স্তরে রয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের ছোট ছোট দলের চোরাগোপ্তা ককটেল বিস্ফোরণ, গাড়ী ভাংচুর কিংবা অগ্নিসংযোগ। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিলারদের ব্যবহার করে টার্গেট কিলিং। তৃতীয় স্তরে উগ্রবাদী তরুণদের ব্যবহার করে বোমা হামলা বা বিস্ফোরণ ঘটানো। আর চতুর্থ স্তরে রয়েছে বিভিন্ন পেশাজীবী ও শিক্ষক সংগঠনের স্বাভাবিক দাবি-দাওয়ার আন্দোলনকে বৃহত্তর সরকার বিরোধী কর্মসূচিতে পরিণত করার চেষ্টা।
উদ্বেগের বিষয় হলো, ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রত্যাশিত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের নানা প্রান্তে সুপরিকল্পিত নাশকতার ছক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কখনো ভোর রাতে হঠাৎ ঝটিকা মিছিল, কখনো গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ, আবার কখনো তৈরি পোশাক শিল্প বা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা গুলোয় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা জনমনে নতুন করে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যে দেখা যাচ্ছে, এই ধরনের অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতার পেছনে পতিত রাজনৈতিক শক্তির একশ্রেণির সুবিধাভোগী গোষ্ঠী সরাসরি যুক্ত রয়েছে, যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি করতেও দ্বিধা করছে না।
অতি সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে হামলা, ভাঙচুর ও জোরপূর্বক দখল চেষ্টার মতো ঘটনা ঘটেছে।
এরমধ্যে মিরপুরের বাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা দেশবাসীকে শঙ্কিত করে তুলেছে। কারন দেশের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল জায়গায় প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা চালানো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
সমাজে যদি কোনো গোষ্ঠী আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে নিজস্ব ক্ষমতা দেখায়, তবে তা রাষ্ট্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। প্রশাসনকে এ বিষয়ে জিরো টলারেছ নীতি বজায় রাখতে হবে।
যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি, রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত সম্পদ ধ্বংস এবং জনজীবনকে অচল করে দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে, পোশাক খাতের মতো সংবেদনশীল রফতানি খাতে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার পেছনে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার একটি সুক্ষ্ম ষড়যন্ত্র কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
একই সঙ্গে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকদেরও অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
পাড়া-মহল্লায় কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা দেখা গেলে আইন নিজেদের হাতে না তুলে তা প্রশাসনকে জানানো এবং সম্মিলিত প্রতিরোধের মাধ্যমে জননিরাপত্তা রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানোর সুযোগ নেই। নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সর্বোচ্চ তৎপরতার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ইস্পাতকঠিন জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা অপরিহার্য। তাই যে কোনো মূল্যে ষড়যন্ত্রকারীদের ছক নস্যাৎ করে জাতীয় ঐক্য, স্থায়িত্ব এবং শান্তি অক্ষুন্ন রাখতে হবে।