আলী আহসান রবিঃ আমেরিকার নামী-দামী বিভিন্ন কোম্পানিতে চাকরির ভুয়া অফার লেটার পাঠিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ০৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১০ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় প্রতারক চক্রের ০১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত ০১/১০/২০২৬ খ্রি. মধ্যরাতে (৩০/০৯/২০২৬ খ্রি.) দিবাগত রাত) রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন আজমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. তানভির হাসান (২৮), পিতা- মাসুদ পারভেজ, মাতা- মোসা. রানু আক্তার, ঠিকানা- আজমপুর, দক্ষিনখান, ঢাকা।
মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায় যে, ভুক্তভোগী বাদী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরিজীবী। ০৯/০৮/২০২৫ খ্রি. সকাল বেলা যোগাযোগ সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একটি পেজের সন্ধান পান যেখানে আমেরিকায় বিভিন্ন ভিসা ক্যাটাগরিতে কাজের বিজ্ঞপ্তি দেয়া রয়েছে। আগ্রহী হয়ে সে পেজে দেওয়া একটি বিদেশী মোবাইল নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ করেন। যোগাযোগের এক পর্যায়ে চক্রের এক সদস্য ভুক্তভোগী বাদীকে আমেরিকার একটি প্রতিষ্ঠানের কাজের অফার লেটার প্রেরণ করে এবং অভিযুক্তদের দেওয়া বাংলাদেশী কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও এমএফএস নাম্বারে মোট ০৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করলে ভুক্তভোগী দিতে অস্বীকৃতি জানায়, এতে প্রতারকরা ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদর্শনের পাশাপাশি হুমকি ধামকি দেওয়া শুরু করে। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাদী তেজগাঁও (ডিএমপি) থানার মামলা নং-০৯, তারিখ ১০/০৬/২০২৬ খ্রি., ধারা ৩৪/৪০৬/৪২০ পেনাল কোড রুজু করেন। মামলাটি প্রথমে তেজগাঁও থানায় রুজু হওয়ার পর বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় তদন্তের জন্য সিআইডিতে ন্যস্ত করা হয়।
মামলাটির তদন্তে জানা যায় যে, চক্রের সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশে ভুক্তভোগী বাদীকে আমেরিকান একটি কোম্পানিতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভুয়া অফার লেটার প্রেরণ করেন। চাকরি পাওয়ার আশ্বাসে বাদী প্রতারিত হয়ে আসামিদের দেওয়া বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে টাকা প্রদান করেন।০২/০৯/২০২৫ খ্রি. থেকে ৩০/০৯/২০২৫ খ্রি. পর্যন্ত সময়ে বাদী ব্যাংক হিসাব এবং এমএফএস অ্যাকাউন্টে সর্বমোট ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮১০ টাকা প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে অফার লেটারসহ চাকরির বিষয়টি ভুয়া বলে বুঝতে পারলে বাদী অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।এ সময় অভিযুক্তরা বাদীকে তাদের মোবাইল নম্বর থেকে ব্লক করে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
মামলাটি তদন্তে মামলার তথ্য ও সংশ্লিষ্ট লেনদেন বিশ্লেষণ করে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তর প্রকৃত ঠিকানা শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপি ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন আজমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত তানভির হাসান(২৮)কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকালীন কোনো আলামত জব্দ করা হয়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য প্রদান করেছে। গ্রেফতারকৃতকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।