• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০১:২৬ অপরাহ্ন

৭৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ৩০, ২০২২, ৯:৪৯ অপরাহ্ন / ৬১
৭৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ

মোস্তাইন বীন ইদ্রিস চঞ্চল,খুলনাঃ ৭৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্ত করণ ও নির্মাণ, প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ তিনটি লিংক রোড নির্মাণ এবং নিউ মার্কেট সংলগ্ন পাঁচ তলা বিশিষ্ট বিপণী বিতাণ নির্মাণের কাজ চলছে। এই তিন প্রকল্প শেষ হলে খুলনার অবকাঠামোগত চেহারা যেমন পাল্টে যাবে, তেমনি উন্মুক্ত হবে অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার।

কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম জানান, কেডিএ’র ৭৫৪ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন প্রকল্প খুলনার রূপরেখা বদলে দেবে। বাড়বে অর্থনৈতিক সম্ভবনা। সেই সঙ্গে নতুন সড়ক স্থাপনে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ঘটবে আমূল পরিবর্তন। আমি আশাবাদী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক জানান, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী হাসিনার সরকারের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। তারই ছোঁয়া কেডিএ’র তিন উন্নয়ন প্রকল্পে। এই প্রকল্প গুলোর কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। কেডিএ’র এই তিন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে খুলনা যাতায়াত ব্যবস্থাসহ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল বন্দ বলেন, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ লিংক রোড হিসেবে বাস্তহারা ক্ষুদের খাল ব্রিজের পাশ থেকে দেয়ানা গ্রামের মধ্যে দিয়ে সরাসরি গাইকুড় হয়ে পুরাতন সাতক্ষীরা সড়কে সংযুক্ত যে সড়ক নির্মাণ করবে তা এ অঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের দ্বার উম্মোচন করবে। এই সড়ক নির্মাণের ফলে এই অঞ্চলের মানুষ যাতায়াতে উপকৃত হবে। খুব সহজে এই সড়ক দিয়ে সরাসরি খুলনার প্রাণকেন্দ্রে গিয়ে ওঠা যাবে।

দেয়ানা গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহিদ জানান, অনেকদিন ধরে দেখছি রাস্তা নির্মাণের জন্য জমি মাপঝোক চলছে। এই সড়ক দেয়ানা গ্রামের চেহারা বদলে দেবে। কারণ উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ছাড়া উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি সম্ভব নয়। এই রাস্তা তৈরি হলে গ্রামের মানুষ যাতায়াতসহ নানামুখি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে।

কেডিএ’র নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রকল্প) মোরতোজা আল মামুন জানান, প্রকল্প গুলোর কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে খুলনা সার্বিক উন্নয়নে আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক উন্নয়নে ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার রাস্তা প্রশস্তকরণে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৯ কোটি টাকা। ২০১৩ সালে ওই প্রকল্পের অনুমোদন মেলে। টেন্ডারও আহ্বান করা হয় ২০২০ সালে। ওই প্রকল্পের পুনঃটেন্ডার ২০২১ সালে আহ্বান করা হয় এবং একইসঙ্গে ওই বছরের নভেম্বর মাসে সিসিজিপি অনুমোদিত হয়। সেই আলোকে চলতি বছর ২০২২ এর জানুয়ারি মাস থেকেই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ওই উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যা একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

জানা যায়, ২০১০ সালে খুলনা নগরের রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে শিপইয়ার্ডের সামনে দিয়ে খানজাহান আলী সেতু (রূপসা সেতু) পর্যন্ত খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ২০১৩ সালের মে মাসে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয়। মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত। পরে তা বাড়িয়ে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। পরে আবারও প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। আর এতে বেড়েছে আর্থিক আকারও।

২০১৩ সালের ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্পটির বর্তমান ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। গত মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত খরচ হয়েছে ৯৭ কোটি ২৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা, আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫৩ শতাংশ। ভূমি অধিগ্রহণের টাকা দেওয়ায় এক্ষেত্রে ব্যয় বেশি হয়েছে। এখন প্রকল্পটির কাজ শেষ করতে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি ৯০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। পরবর্তীতে বিশেষ সংশোধনীর মাধ্যমে ২৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বাড়িয়ে ব্যয় ধরা হয় ১২৬ কোটি ৫৮ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এখন প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ফের ১৩২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৫৯ কোটি ২১ লাখ টাকা।

এদিকে অনুমোদনের সময় প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০১৩ সালের জুলাই থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত তিন বছর। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যয়বৃদ্ধি ছাড়া এক বছর বাড়িয়ে ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ করা হয়। এতেও শেষ হয়নি কাজ। দ্বিতীয়বার বিশেষ সংশোধনীর মাধ্যমে দুই বছর বাড়িয়ে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। এরপর ব্যয়বৃদ্ধি ছাড়াই তৃতীয়বার ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে তিন বছর বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।

বারবার মেয়াদ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, প্রকল্পভুক্ত ৭ দশমিক ৩০৩ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব জেলা প্রশাসকের দফতরে পাঠানো হয়। কিন্তু এর মধ্যে ৫ দশমিক ১০২ একর ভূমি প্রথমে হস্তান্তর করা হয়। অবশিষ্ট ভূমি বিভিন্ন সরকারি সংস্থা খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড, পানি উন্নয়ন বোর্ড, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির অধিগ্রহণ করা ভূমি। এ জমির মধ্যে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ১ দশমিক ১৭৫ একর এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের শূন্য দশমিক ৭ হাজার ৫২০ একর ভূমির মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ হাজার ৩০৫ একর ভূমি হস্তান্তর করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রমে দেরি হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

বর্তমানে সড়কের রাইট অব ওয়ে বরাবর ভূমির দখল পাওয়া গেছে। অধিগ্রহণ করা ভূমির ওপর স্থাপনা নিলামের ৬টি প্যাকেজের মধ্যে ৫টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট একটি প্যাকেজের স্থাপনা অপসারণ কাজ স্থানীয় জনসাধারণের আপত্তির কারণে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

সময় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আরও বলা হয়েছে, প্রকল্পের নির্মাণকাজের জন্য ই-জিপিতে ২০২০ সালের ৮ অক্টোবর দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রটি অনুমোদনের জন্য সিসিজিপিতে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১১ জানুয়ারিতে নির্মাণ কাজের চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করা হয়। গত ১২