• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে যশোরের শার্শায় আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত


প্রকাশের সময় : মার্চ ২৬, ২০২৩, ১০:১৩ অপরাহ্ন / ১৩০
স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে যশোরের শার্শায় আলোচনা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোরঃ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে যশোরের শার্শায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৬ মার্চ রবিবার বিকালে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে, শার্শা উপজেলা শাখা আওয়ামীলীগের আয়োজনে, দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত যশোর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেনাপোল পৌর ঃ সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।

শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ইলিয়াছ আজম এর সভাপতিত্বে এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য আলহাজ্ব আহসান উল্লাহ মাস্টার। শার্শা উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ফজলুল হক বকুল, দপ্তর সম্পাদক আজিবর রহমান, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক শেখ সারোয়ার,শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শেখ কোরবান আলী কোষাধ্যাক্ষ খোদাবক্স, বেনাপোল পৌর আওয়ামী নেতা মোজাফফার হোসেন, বেনাপোল ইউপি যুবলীগ নেতা সাহেব আলী আওয়ামী নেতা মিজানুর রহমান, বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগ ৯ নং ওয়ার্ড এর সাধারন সম্পাদক আাশাদুজ্জামান আশা, উলাশী ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সহ এসময় উপস্থিত ছিলেন তৃনমুলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

এ সময় প্রধান অতিথি আশরাফুল আলম লিটন বলেন, জাতির জনকের অসাম্প্রদায়িক চেতনার আহবানে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাংলার হিন্দু মুসলমান, বৌদ্ধ খ্রীষ্টান এক হয়ে দিয়ে গেছে একটি লাল সবুজের পতাকা এই জাতিকে। তাই আমরা স্বাধীন মানুষ। আজ আমরা স্বাধীন ভাবে বলতে পারি আমরা শেখ মুজিবের দেশের মানুষ। আমাদের দেশ বাংলাদেশ। আমাদের নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। পরাধিনতার শৃঙ্খল মুক্ত করে যে নেতা স্বাধীনতা দিয়ে গেছে সেই স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সেই পাকিস্তানী প্রেতাত্নরা আজও সমাজের রন্ধে রন্ধে রয়ে গেছে। এই আওয়ামীলীগের অক্সিজেন, আওয়ামীলীগের সকল সুবিধা ভোগ করে এই মাটি ও ভুমির সকল পাওনা ভোগ করে গ্রহন করে কিন্তু প্রতিটি জায়গায় তারা বাধা দেয় অস্বীকার করে তাদের আমাদের রুখে দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, জাতির জনক ছাত্র জীবন থেকে দেশের জন্য দাবি আদায় করছেন। তিনি স্কুলের ছাদ ভেঙ্গে গেলে মন্ত্রীর পথ গতিরোধ করে ছাদ মেরামতের দাবি করেন। তিনি ছাত্রদের পড়াশুনার জন্য বই ক্রয় করে দিতেন, শীত নিবারনের জন্য নিজের গায়ের চাদর খুলে দিতেন। তিনি ১৯৫২ ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন এর নেতৃত্ব দেন। বাঙালী জাতির মুক্তির সনদ এনে দেয় ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন। তিনি ওই সময় জেল খেটেছেন। জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত করতে ১৪ বছর জেল খেটেছেন। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার অতন্ত্র প্রহরী। শেখ হাসিনা হাসলে বাংলাদেশ হাসে। শেখ হাসিনা কাঁদলে বাংলা কাঁদে। কারন শেখ হাসিনাই হচ্ছে দেশপ্রেমিক নেতা। কারন তারই পরিবারের সদস্যরা দেশের জন্য রক্ত দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোন রাষ্ট্র নায়কের পরিবার এত রক্ত দেয়নি। জাতির জনকের পরিবার নিশ্বার্থ ভাবে এদেশের মাটি মানুষ এদেশের সমাজ রাষ্ট্রকে আগলে রেখে বারংবার মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আজ বাঙালীর ইতিহাস সফলতার ইতিহাস আজ বাঙালীর ইতিহাস মর্যদার ইতিহাস, আজ বাঙালীর ইতিহাস উন্নয়নের ইতিহাস আজ বাঙালীর ইতিহাস এক অনন্য উচ্চতার ইতিহাস। আজ সারা পৃথিবী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ফলো করে। শেখ হাসিনার সংগ্রাম সারা পৃথিবীথে অনুকরনীয়। শেখ হাসিনা ও তার পরিবার এদেশের মানুষকে যতটুকু ভালবেসে গেছে তা পৃথিবীতে কোন রাষ্ট্রনায়ক বাসেনি। শেখ হাসিনা আজ বিধবা ভাতা চালূ করেছেন, শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধা বাবাদের সন্মান দিয়ে গেছেন। আজ পঙ্গু ভাতা, মাতৃত্ব কালীন ভাতা দিয়ে বাংলাদেশকে এক উচ্চতার রোল মোডেলে পরিনত করেছে। জাতির জনক স্বপ্ন দেখতেন বাংলার সকল মানুষ গৃহ পাবে। আজ বাংলাদেশের ৪০ হাজার পরিবার গৃহ পাচ্ছে।

মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মুক্তির ইতিহাস-স্বাধীনতার ইতিহাস। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধ শেষে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়। কষ্টার্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সংহত করার নতুন শপথে বলীয়ান হওয়ার দিন আজ। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় একের পর এক মাইলফলক অর্জন এবারের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনকে মহিমান্বিত করেছে।

আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের রোজাদার নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন উক্ত অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক বেনাপোল পৌরসভার সাবেক মেয়র আশরাফুল আলম লিটন। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, যশোর জেলা আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের কার্যনির্বাহী সদস্য জাকির হোসেন আলম।