শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ১০:০৩ অপরাহ্ন

সেই “ হাসু” নামের বাড়ীটি আমার মাকে আজ উপহার দিলাম – দিনাত জাহান মুন্নি

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২০ জুলাই, ২০২১
  • ৩৭৫ Time View

মনিরুজ্জামান অপূর্ব,ঢাকা : আমার মা সরকারী স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হিসাবে ৪০ বছরের চাকুরীজীবন শেষে অবসর নিয়েছেন।দেশ বিদেশে তার অসংখ্য ছাত্র ছাত্রীদের দেখি আর গর্বিত হই ।সারাজীবন তিনি তার স্কুল এবং আমাদের ভবিষ্যতের জন্যই সব ত্যাগ করেছেন। আমার সেই পাঁচবছর বয়স থেকে তিনি আমার গানের জন্য অসম্ভব কস্ট করেছেন ।শুনেছি মাতৃত্বকালীন ছুটিও নেননি কিন্তু দেখেছি আমার গানের প্রতিযোগিতার জন্য থানা/ জেলা / বিভাগ / রাজধানীতে যেতে হতো বলে তিনি ছুটি নিতেন এবং আমায় কোলে নিয়ে নিয়ে ছুটতেন। আমার ছেলেবেলায় জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্তি – রেডিও টিভিতে তালিকাভুক্তি- ঢাকা শহর- ছায়ানট সবই তার অবদান ।

সেই মফস্বলের সেই আমাকে আজ আত্ননির্ভরশীল বানানোর স্বপ্ন দেখিয়েছেন তিনি’ই।তার স্বপ্নটা আরো বড় ছিলো – অনেক বড় – যা আমি হতে পারিনি- আমাকে সর্বোচ্চ শিক্ষাদানে তিনি শান্তিনিকেতনে যাবার ব্যাবস্থা করেছিলেন – আমিই যাইনি- মা ছেড়ে থাকতে পারবোনা সেই আহ্লাদে।

গান দিয়ে আমি অর্থ উপার্জন করি তা তিনি চাননি – তিনি চেয়েছিলেন গান দিয়ে আমি শিক্ষা বিতরন করি (যা আমি পারিনি ।

ছোটবেলা থেকে সংগীত আমার সংগী হলেও বর্তমানে কাংখিত/ অনাকাংখিতভাবে গান আমার পেশা ।
আজ আমার জন্য এক উল্লেখযোগ্য দিন
আমার বাড়ী চাঁদপুর । আমার বাবা বেঁচে থাকতে সেখানে মা আমাকে তার কিছু জমি উপহার দিয়েছিলেন । আব্বা আম্মার খুব স্বপ্ন ছিলো আমার গ্রামে যেনো আমার কোন চিন্হ থাকে ।
সেই থেকে মনের মাঝে স্বপ্ন – (বাবা চলে গেলেও) মা কে আমি একদিন চমকে দেবো । গত ২০ বছরে আমার একটু একটু করে জমানো সম্পুর্ন নিজের পারিশ্রমিক দিয়ে তাই আজ সেই স্বপ্ন পুরন করলাম ।

আমার মায়ের নাম “ হাসিনা” – আব্বা আর নানাভাই তাকে আদর করে “ হাসু” নামে ডাকতেন । সেই “ হাসু” নামের বাড়ীটি আমার মাকে আমি আজ উপহার দিলাম ।আমার জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পুরন করলাম যেনো আজ। একটু একটু করে নিজের পারিশ্রমিক জমিয়ে নিজের খরচে – সম্পুর্ন নিজের তত্বাবধানে এই ঘরটি তৈরী করে তা আজ মার হাতে তুলে দিলাম ।

আমার মা আজ দেখবে – “ স্বামীর বাড়ী” বা “শশুর বাড়ী নয় “ ।আমার মায়ের নিজের নামে একটি বাড়ী আছে ।যার নাম “হাসুর বাড়ী”। আলহামদুলিল্লাহ আমার মা বেঁচে থাকতেই আমি তা পেরেছি – শুকরিয়া । হঠাৎ মনে হচ্ছে জীবনে অন্তত এই একটা ভালো কাজ করার উপহার আমি উপরওয়ালার কাছ থেকে পেতেই পারি ।

মেয়ে হয়েও আমার মায়ের ত্যাগের এতোটুকু স্বীকার আমি আজ করতে পারলাম – আলহামদুলিল্লাহ।

প্রতিটি মা যেমনি সন্তানের হাসিতে হাসেন তেমনি প্রতিটি সন্তানও যেনো মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে পারেন সেই শুভকামনা।সবশেষে সকল মায়েদের প্রতি আমার সালাম ও শ্রদ্ধা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin