• ঢাকা
  • বুধবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

সুনামগঞ্জে লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২০, ২০২২, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন / ১৮৩
সুনামগঞ্জে লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারা বাজারে লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের ব্যবসা ৷ লাইসেন্স বিহীন দোকান গুলোতে অবাধে বিক্রি হয় ওই জ্বালানি। এ সিলিন্ডারগুলো ব্যবহারে নেই কোন সতর্কতা।

সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বিক্রি হচ্ছে গ্যাসের সিলিন্ডার। বাসাবাড়ির পাশাপাশি এখন রাস্তার পাশে খাবার দোকান ছাড়াও চায়ের দোকানগুলো গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছে দেদারছে। নিয়ম না মেনে এসব সিলিন্ডার দোকানে বিক্রি ও ব্যবহারের ফলে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঔষধের দোকান, মুদি দোকান, ইট বালুর দোকান, হার্ডওয়্যারের দোকান, জুতার দোকান, কসমেটিক্স, ইলেকট্রনিক্স ও কাপড়ের দোকানেও অনিরাপদ স্থানে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস।

দোকান গুলোর সামনে সারিবদ্ধ ভাবে রাখা হয় গ্যাস সিলিন্ডারগুলো। এভাবে খোলামেলা গ্যাস বিক্রি করায় চরম ঝুঁকিতে চলাফেরা করতে হচ্ছে ক্রেতা, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দাসহ শিক্ষার্থীদের। নিয়মবহির্ভূতভাবে সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবসা চললে যেকোনো মহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা স্থানীয়দের।

এছাড়া একাধিক ক্রেতা অভিযোগ করেন,সরকার যে মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে ক্রেতাদের জিম্মি করে ব্যবসায়ীরা তার চেয়ে বেশি নিচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে সিলিন্ডার প্রতি ২০০-৩০০ টাকা বেশি নেয়। অতিরিক্ত দাম ও অনুমোদনহীন ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা চান পথচারী ও সচেতন মহল।

জানা যায়, ২০০৩ সালের দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি যদি লাইসেন্স না নিয়ে বিস্ফোরক দ্রব্যের ব্যবসা করে তবে তিন বছরের কারাদন্ড ও অতিরিক্ত অর্থদন্ডে দন্ডিত বিধান রয়েছে। ১৮৮৪-এর দ্য এলপি গ্যাস ২০০৪ -এর ৬৯ ধারার-২ বিধিতে লাইসেন্স ছাড়া কোন ক্ষেত্রে এলপিজি মজুদ করা যাবে না বলেদা হয়েছে। বিধি অনুযায়ী আটটি গ্যাসপূর্ণ সিলিন্ডার মজুদের ক্ষেত্রে লাইসেন্স নিতে হবে। একই বিধি ৭১ নম্বর ধারার বলা আছে, আগুন নেভানোর জন্য যথেষ্ঠ পরিমাণ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম মজুদ রাখতে হবে। কিন্তু এই আইন কেউ মানছে না। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন নীরব ভূমিকায় রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিতা বলেন, ‘আমরা ছোট ব্যবসায়ী। সারা দিনে দু একটি সিলিন্ডার বিক্রি করি। এ আইন সম্পর্কে আমাদের কোন ধারণা নেই।

উপজেলার মহব্বতপুর বাজারের চায়ের দোকানি বলেন, কেরোসিনের দাম বেশি থাকায় আমরা গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করছি। একটি সিলিন্ডারে দাম ১ হাজার ১৫০ টাকা। এক সপ্তাহ খুব সহজে চলা যায়। তবে এই সিলিন্ডারে কোনো ঝুঁকি আছে কিনা সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান,এই উপজেলার বিভিন্ন দোকানে খোলা আকাশের নিচে দাহ্য পদার্থ বিক্রির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। অনেকে কোমলপানীয় বোতলে ভরে পেট্রোল বিক্রি করছে। অনুমোদনহীন এসব দোকানের কারণে পাশ্ববর্তী দোকানদার ও সাধারন মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগে এ বিষয়ে প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।

এব্যাপারে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবাংশু কুমার সিংহ প্রতিবেদকে বলেন,যে সকল ব্যবসায়ীরা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের অনুমোদন হীন জ্বালানী দ্রব্য বিক্রি করেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিগগিরই মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।