• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১১:০০ পূর্বাহ্ন

সিংগাইরে বন্ধুর খাতিরে হাওলাত, পরে সবই আত্মসাৎ : দাবি ব্যবসায়ীর 


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২১, ২০২২, ৮:১৫ অপরাহ্ন / ১৮
সিংগাইরে বন্ধুর খাতিরে হাওলাত, পরে সবই আত্মসাৎ : দাবি ব্যবসায়ীর 

সিংগাইর প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ব্রী কালিয়াকৈর গ্রামের মৃত আব্দুল কাদেরের ছেলে মোঃ আমিনুর ইসলাম (৩৬) শখের বসে গড়ে তুলেছিলেন ‘এ, ইসলাম ডেইরি ফার্ম’ । অধিক শ্রম ও পর্যাপ্ত পরিচর্যায় তা লাভজনক খামার হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করে । সরকারি রেজিস্টার বইয়ে ২৯ নাম্বারে লিপিবদ্ধ হয় ওই খামারটি । পাশাপাশি পোল্ট্রি খাদ্য ও ওষুধপত্রের ব্যবসা জুড়ে দেয় । বেশ ভালোই যাচ্ছিল । বন্ধুর চেয়ে অকাঙ্ক্ষিত বন্ধুর সংখ্যা বেশ ভারী । এ বিষয়টি ব্যবসায়ী আমিনুর ইসলাম যখন বুঝতে পারেন তখন তার ঘাড়ে কয়েকটি মিথ্যে মামলার চাপ, সাথে পত্রিকার ভ্রান্তকর ডকুমেন্টে সুনাম শেষ হয়ে দূর্নামের বোঝা মাথায় । তাছাড়া তাদের পিছনে বন্ধুত্ব খরচ অলিখিত । করজের হিসাব ভারি হওয়ায় তা পাতলা করার লক্ষ্যে তাগাদা দিলেই বিগড়ে যায় চেহারা । অতঃপর গালাগালি, দুর্নাম সহ এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীকে কতগুলো মিথ্যা কেসের আসামি উপাধিতে ভূষিত করা হয় । ব্যথিত ও ভরাক্রান্ত কন্ঠে এমনই বক্তব্য ব্যক্ত করেন সাংবাদিকদের সামনে ব্যবসায়ী মোঃ আমিনুর ইসলাম ।

তার থেকে প্রাপ্তি তথ্যের ভিত্তিতে দুজন লোকের নাম সর্বাগে । ১.স্থানীয় মৃত জসীমউদ্দীনের ছেলে ,ডাক্তার নামে পরিচিত জনাব ইদ্রিস হোসেন। ২.স্থানীয় আমজাদ হোসেনের পুত্র জনাব মোঃ রবিউল ইসলাম (রিংকু) ।
ইদ্রিস সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ” বরং সে ২০১৫ সালে ১ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিল । কিন্তু, কয়েক কিস্তি দিয়েই শেষ । এ পর্যন্ত সে বাকি টাকা আর দেয়নি । এ পর্যন্ত তার ঋণের পরিমাণ যথাযথভাবেই হিসাবে উল্লেখিত । সেই পরিপেক্ষিতে গত ২৮-১১-২০২২ইং খেলাফি ঋণের মামলা করা হয়েছে । মামলা নং সি আর ১০৬৩(সিং) ২০২২ । তাও মামলাটি করেছেন গ্রামীন আলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সুমন আনোয়ার । ইদ্রিসের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান থেকে কোন চেকের মামলা করা হয়নি । তবুও সে সাংবাদিকদের মাঝে মিথ্যা তথ্য দায়ের করেছে ।
। প্রাতিষ্ঠানিক মামলার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত সে আমার ভালো বন্ধু ছিল । সে অবস্থায় তার কুড়া, ভুসি ব্যবসা ক্ষেত্রে ডিলারশিপ আনতে টাকার প্রয়োজনে আমার থেকে ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ১ মাসের জন্য হাওলাত নেয় । সময় অতিক্রম হওয়ার পর টাকার বিষয়ে তাকে জানালে দিক-বিদিক নাইছাই শুরু করে । অনেক পীড়াপীড়ির পর সে আমাকে একটি লিখিত চেক দেয়। যা ছিল পূর্ণ ধোকা । অতঃপর আমি বিজ্ঞ আদালতে ২৭-০১-২২ ইং একটি চেক ডিজঅনার মামলা করি । মামলা নং সি আর ৮৩ সিং ২০২২ । সে আদালতের চোখে ধূলি দিতে আমার নামে উল্টো একাধিক মিথ্যে মামলা করে । যার মামলা নং সি আর ২৬৪ (সিং) ২০২২ । অতঃপর পিবিআই তদন্ত করলে যা সম্পন্ন মিথ্যা সাব্যস্ত হয় ।
মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী (৪৫) কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সবকিছু প্রত্যাখ্যান করেন । তবে প্রত্যাখ্যান সম্পর্কে তিনি কোন প্রকার ডকুমেন্ট দেখাতে পারেননি । মিথ্যা মামলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি তা স্বীকার করেন ।

অতঃপর রবিউল ইসলাম (রিটু) সম্পর্কে তার কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, ” সে আমার থেকে তার নিজস্ব নার্সারি ব্যবসায়ী ভিত্তিক ২০ লক্ষ টাকা জামিনে লিখিত চেক দিয়ে সর্বোচ্চ ৬মাসের সময় চেয়ে হাওলাত নিয়েছিল । কিন্তু সময় অতিক্রম হওয়ার পরও তার সাক্ষাৎ খুবই মুশকিল । তাকে বারবার মোবাইলে বলেও উপায়ান্তর পাইনি । অতঃপর ব্যাংকে গিয়ে আমি তা দেখালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেক ডিজঅনার রশিদ প্রদান করেন । অতঃপর আমি মামলা করতে বাধ্য হই । যার মামলা নং সিআর ২৮৬ /২০২১ দায়রা মামলা নং ৬৭৮/২০২১ । পরে জানতে পারলাম, ডিজঅনার এর মামলা আমি একাই করিনি । বরং তার বিরুদ্ধে একাধিক চেক ডিজঅনারের মামলা আছে । আমি যতটুকু জানতে পেরেছি , তার মামলা নং ৩২৯ (মা )২০২১ দায়রা মামলা নং ৬১১/২০২১ । শুধু তাই নয় তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলাও বিদ্যমান আছে ।
অতঃপর সেও আমার নামে একাধিক মিথ্যে মামলা করেছিল । যার মামলা নং ৯৭৫ সিং ২০২২ । সেখানে ওই মামলার উল্লেখিত সাক্ষী আদালতে সততা স্বীকার করে ।
তাহলে বলা যায়, ভালো মানুষ দুনিয়াতে আজও বেঁচে আছে , তাই দুনিয়া চলছে ।”
রবিউল ইসলাম (রিটু)(৪৬) এর সাথে সরাসরি সাক্ষাতে জিজ্ঞাসা করা হলে , তিনি উল্টাপাল্টা শেয়ার হিসেবের কথা উল্লেখ করেন । অতঃপর তার কাছে নথিপত্র বা কোন তথ্যপত্র আছে কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,”আমি বাড়িতে সব সযত্নে রেখে দিয়েছি । অতঃপর তিনি ৪ ঘন্টা সময় নেয় নথিগুলো দেখানোর জন্য কিন্তু সাংবাদিকগণ ৬ ঘন্টা অপেক্ষা করেও পাইনি কোন সাড়া ।
সাম্প্রতিক ভুল তথ্য প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লিখিত আমজাদ হোসেন ও নিরঞ্জন চন্দ্র বাড়ই কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সম্প্রতি প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যকে মিথ্যা বলে আখ্যায়িত করে ।
স্থানীয় চেয়ারম্যান জনাব মাজেদ সাহেবকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান,”এমন কোন অভিযোগ আমার কাছে এ পর্যন্ত আসেনি ।”
গ্রামীন আলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি এর সাবেক সভাপতি আমিনুর ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এমন অপ-প্রচার দেখে এখন নিজেকে পূর্ণ নিরাপত্তাহীন মনে হচ্ছে । সরকারের নিকট আমি এর প্রতিকার চাই ।