• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন

সাংবাদিকতার আড়ালে ওরা চার চাঁদাবাজ প্রতারক এবার পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির অডিও ফাঁস!


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১২, ২০২১, ১:২৬ পূর্বাহ্ন / ৩৭৩
সাংবাদিকতার আড়ালে ওরা চার চাঁদাবাজ প্রতারক এবার পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির অডিও ফাঁস!

বিশেষ প্রতিনিধিঃ নড়াইলের কালিয়ায় সাংবাদিকতার আড়ালে রমরমা চাঁদাবাজির ব্যবসা ফেঁদে বসেছে একটি চক্র। সংবাদ প্রকাশসহ পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে নির্বিঘ্নেব্যাপক চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে চক্রটি বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার নড়াগাতি থানা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে ১৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার এক চাঞ্চল্যকর অডিও ফাঁস হয়ে পড়েছে। চাাঁদবাজ চক্রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেনা ভুক্তভোগীরা। উল্টো পুলিশ অভিযোগকারির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজদের কাছ থেকে মিথ্যা অভিযোগ নিয়ে চাাঁদাবাজদের রক্ষা করছে পুলিশ বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ রয়েছে। এলাকার সচেতন মহল ওই ৪ জনকে চাঁদাবাজ প্রতারক হিসাবে আখ্যা দিয়েছে।

পারিবারিক কলহের জের ধরে কোন লিখিত অভিযোগ বা মামলা ছাড়াই গত বছর ২৪ ডিসেম্বর উপজেলার নড়াগাতি থানা পুলিশ কলাবাড়িয়া গ্রামের আকবর শরীফের পুত্র আশিক শরীফকে (১৮) আটক করে এবং পরদিন তাকে ইউএনওর ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করলে আদালত তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেয়। আশিকের আটকের ঘটনাকে পুজি করে. তাকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির ভয় দেখিয়ে ও মুক্ত করে আনার নাম করে আশিকের মায়ের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় দৈনিক ভোরের ডাকের কালিয়া প্রতিনিধি হিসাবে পরিচয় দান কারি নামধারী সাংবাদিক কলাবাড়িয়া গ্রামের ইখলাছ সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার। আশিক গত ৭ জানুয়ারী জেল থেকে ফিরে টাকা দিয়ে কেন সে মুক্ত হতে পারেনি এবং তার মায়ের কাছ থেকে নেয়া টাকা গুলো কি হয়েছে জানতে চাইলে রিয়াজ তাকে বলেছে, “তোর ১৩ হাজার টাকার ১০ হাজার টাকা ওসিকে দিয়ে মোবাইল কোর্ট করানো হয়েছে। তোর বিরুদ্ধে মামলা করানো হয় নাই। বাকি টাকা তদন্তের দায়িত্বে থাকা করিকে ৫০০ টাকা, ওসি তদন্তকে ২০০০ টাকা ও ৫০০ টাকা তোমাকে নাস্তা কিনে দেয়া হয়েছে আর আমি ২ লিটার তেল ও শিপন ২ লিটার তেল ঢুকাইছি। টাকা নিয়ে আমাকে ছাড়ালে না কেন এমন প্রশ্নের আর কোন উত্তর মেলেনি” অডিওর ওই কথোপকথন ফাঁস হয়ে যাওয়ায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নিজেকে ৭১ টেলিভিশনের প্রতিনিধি হিসাবে পরিচয় দিয়ে রিয়াজুল ইসলাম উপজেলার কলাবাড়িয়া গ্রামের ব্যবসায়ী সাগর মোল্যার সাথে চাঁদার দাবিতে ফোনালাপের একটি অংশ ছিল,“ তারা (শোভন চক্র) আমাকে (রিয়াজকে) দায়িত্ব দিয়েছে। আপনি আর একটু বাড়িয়ে দেন। আপনি ৭ হাজার টাকা দেন। তাহলে আর নিউজ হবেনা—”। ওই ব্যবসায়ীকে ব্যবসা বন্দেও হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবির অডিওটি এর আগে ফাঁস হয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে। সাংবাদিকতার লেবাসে করোনায় লকডাউনের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজিসহ প্রতারনা করে শেখ জাহিদুর রহমান নামে এক সাংবাদিকের মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে নড়াইলের কালিয়ার বিজয় টিভির প্রতিনিধি মো. সাজিদুল ইসলাম শোভন ও তার গড়ে তোলা চাঁদবাজ চক্রের বিরুদ্ধে। প্রতারনার ঘটনায় ওই সাংবাদিক গত ১৬ সেপ্টেম্বর ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করলে অভিযোগটিকে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নড়াগাতি থানায় প্রেরন করা হয়েছে। শোভনের অন্যতম সহযোগী রিয়াজুল ইসলাম কতৃক চাঁদাদাবি ও ব্যবসা বন্দের হুমকির অডিওটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলেড়ন সৃষ্টি করেছ বলে জানা গেছে। উপজেলার কালিয়া ও নড়াগাতি থানায় ইতি পূর্বে চাঁদাবাজির একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের ঘটনাসহ শোভন চক্রের অপকর্মের তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ প্রতারক ও চাঁদাবাজ শোভন চক্রের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর আগে শোভন চক্রের কয়েকটি অপকর্মের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সেটি ভাইরাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার খোদ পুলিশের নামে চাঁদাবাজির ওই ঘটনা এলাকার মানুষকে হতবাক করে দিয়েছে। গোপালগঞ্জ থেকে প্রকাশিত দৈনিক ভোরের বানী পত্রিকার ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি উপজেলার কামশিয়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে জাহিদুর রহমানের পারিবারিক সমস্যার সমাধান করার নাম করে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায়ও নাম ধারী সাংবাদিক উপজেলার বাগুডাঙ্গা গ্রামের মৃত কওছার উদ্দিনের ছেলে সাজিদুল ইসলাম শোভনের অডিও রেকর্ডিয়ের দাবি করেছেন ভুক্তভোগী জাহিদ। এছাড়া শোভন একজন মাদক ব্যবসায়ী ও দুশ্চরিত্রবান লোক বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। জহিদুর রহমান অভিযোগ করে আরও বলেছেন, এর আগে করোনার লকডাউনের সময় বাগুডাঙ্গা গ্রামের রেজাউল সরদারের বাড়ি লকডাউনের ভয় দেখিয়ে ২ হাজার টাকা চাঁদা নেয়াসহ ১০ হাজার টাকা চাঁদাদাবি করে। ওই ঘটনায় রেজাউল সরদার শোভন ও তার ২ সহযোগী চাঞ্চল্যকর পুলিশ হত্যা মামলা আসামী “এসিয়ান টিভির” কালিয়া প্রতিনিধি বলে পরিচয় দানকারি উপজেলার চরডুমুরিয়া গ্রামের মৃত ফেলূ শেখের ছেলে পারভেজ শেখ ও সরকারি গাছ চুরি মামলার আসামী “দৈনিক ভোরের ডাকের” কালিয়া প্রতিনিধি বলে পরিচয় দানকারি কলবাড়িয়া গ্রামের ইখলাছ সরদারের ছেলে রিয়াজুল ইসলামের নামে নড়াগাতি থানায় লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি। দক্ষিন যোগানিয়া গ্রামের রকিত মোল্যাকে সাংবাদিকতার নামে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগে শোভন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নড়াগাতি থানায় রকিত মোল্যা একটি জিডি করেছেন। এর আগে শোভন ও তার সহযোগীরা ক্যামেরা, মাইক্রোফোনসহ কমান্ডো ষ্টাইলে উপজেলার ফুলদাহ গ্রামের মো. আশরাফুল মোল্যার বাড়িতে গিয়ে তার প্রবাসি জামাইকে জঙ্গিদের অর্থ যোগান দাতা হিসাবে উল্লেখ করে পুলিশে ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা আদায় করাসহ দুই লাখ টাকা চাঁদাদাবি করে। ওই ঘটনায় আশরাফুল মোল্যা কালিয়া থানায় শোভনসহ তার চাঁদাবাজ চক্রের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চাঁদাবাজ শোভন চক্রের সম্পর্কে অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে জানা গেছে চমকপ্রদ তথ্য। কালিয়ার ইউএনওর অফিসে ও উপজেলার নড়াগাতি থানায় সাংবাদিকদের লেবাসে ঘুর ঘুর করার কারনে থানা পুলিশের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলায় ও বারবার চাঁদবাজি ও প্রতারনার অভিযোগ থেকে পার পেয়ে যাওয়াসহ উল্টো অভিযোগকারি ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে হয়রানি করার কারনে কেউ চাঁদাবাজ চক্রটির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চান না বলে অভিযোগ রয়েছে