• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন

সরকার পতনের লক্ষ্যে সারাদেশে বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক আওয়ামী লীগ


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২১, ২০২২, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন / ১৮
সরকার পতনের লক্ষ্যে সারাদেশে বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকার পতনের লক্ষ্যে সারাদেশের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে বিভাগীয় সমাবেশ শুরু করেছে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি। তবে বিএনপির চলমান এই কর্মসূচিকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বিরোধী পক্ষের এই কঠোর আন্দোলনের হুমকি সতর্ক অবস্থানে থেকে রাজপথে মোকাবিলার চিন্তাভাবনা করছে ক্ষমতাসীন দলটি। এরই মধ্যে বিএনপির প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারের নীতিনির্ধারক নেতারাও।

আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির পাশাপাশি আওয়ামী লীগও নেতাকর্মীদের মাঠে রাখতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ জেলার সম্মেলন শেষ করতে চায় ক্ষমতাসীন দলটি। শিগগিরই ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোতে জনসভার পাশপাশি বিভাগীয় সমাবেশ এবং আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গুলোতে সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করে নভেম্বর থেকে রাজনীতির মাঠে দলীয় শক্তির মহড়া দিবে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলার সম্মেলনের তারিখ ঘোষণাও করা হয়েছে। এছাড়া সরকারবিরোধী অপতৎরতা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে সারাদেশে রাজনৈতিক শক্তির মহড়া দিতেও রূপরেখা ও কৌশল ঠিক করতে যাচ্ছে দলটি। জানা গেছে,আগামী ২৯ অক্টোবর ঢাকা জেলার সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

দলের নীতিনির্ধারণী নেতারা জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে বিভিন্ন উপকমিটির খসড়া তালিকা প্রণয়ন করতে ইতোমধ্যে দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ কয়েকজন নেতাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন তারিখ চূড়ান্ত এবং বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে ঘিরে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। এছাড়া দলের সম্মেলনকে ঘিরে কর্ম পরিকল্পনাসহ প্রায় এক ডজন এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে উপস্থিত থাকতে কেন্দ্রীয় নেতাদের চিঠি দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান বলেন, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক আগামী ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের দাবি, বিএনপির মহাসমাবেশ থেকে সরকার পতনের যে এক দফা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তাতে নতুন কিছু নেই। টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের গত ১৩ বছরে বিএনপি ও তার মিত্রদের তরফ থেকে এমন কর্মসূচি আগেও অনেকবার দেওয়া হয়েছে। কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে ওই মহাসমাবেশে হাজির করার পাশাপাশি আগামী ১০ ডিসেম্বরের পর খালেদা জিয়ার কথায় দেশ চলবে এমন ঘোষণার বাস্তবতার কোনো ভিত্তি নেই। গত ১৫ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থেকে হতাশায় জর্জরিত দলটির নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতেই এমন কথা বলছেন বিএনপি নেতারা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্য থেকে ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশ ঘিরে বিএনপির বিরুদ্ধে নানা হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ ওই মহাসমাবেশ ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালানো হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথে সতর্ক থেকে রাজনৈতিকভাবে বিএনপির ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করবেন বলেও জানিয়েছেন তারা। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এ বিষয়ে বলেন, বিএনপি যা বলুক না কেন আমরা এসব কথা পাত্তাই দিচ্ছি না।

অবশ্য দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির মহাসমাবেশের প্রায় দুই মাস বাকি থাকায় এ নিয়ে এখনই বড় ধরনের কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়নি আওয়ামী লীগ। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে মহাসমাবেশ ঘিরে যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে, বিশেষ করে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সব থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট এবং ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলার নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। এমনটি জানিয়েছেন দলের কয়েকজন শীর্ষ নেতা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, বিএনপির বিষয় নিয়ে আমরা কোনো আলোচনা করতে চাই না। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক আগামী ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। দলের বৈঠকে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।