মঙ্গলবার, ০৫ জুলাই ২০২২, ০৯:৩৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
ব্যবসায়িক হত্যার মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড রাজধানীর কমলাপুরে কালোবাজারের টিকিট বিক্রয়ের সময় ৫ জন আটক নরসিংদী ডিবি কর্তৃক ২০ কেজি গাঁজাসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে দেড় লাখ টাকা খোয়ালেন ব্যবসায়ী জাপায় এরশাদের পরে রওশনের স্থান: বিদিশা মুন্সীগঞ্জে পিটিয়ে একজনকে গুরুতর আহত চাঁপাইনবাবগঞ্জে কাউন্সিলর রাজুর অতিষ্ঠে ৩ নাম্বার ওয়ার্ড বাসি ভুক্তভোগীর থানায় অভিযোগ জাতীয় প্রেসক্লাব মাঠে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা সাবেক ছাত্রলীগ নেতার যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ায় ফেনসিডিলসহ দুজন আটক ঈদকে সামনে রেখে খুলে গেলো সিরাজগঞ্জের নলকা সেতু

সরকারী বিভিন্ন টেন্ডার পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারনা করে কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার-২

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২
  • ৪০ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় ভাঙ্গিয়ে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন ও নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের মূলহোতা মনসুর আহমেদ এবং তার অন্যতম সহযোগীকে রাজধানীর পল্টন থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

র‍্যাব বলছে, নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমান করার জন্য তারা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে তাদের ছবি ঐ সকল আগ্রহী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেখাত।

মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের মূলহোতা মনসুর আহমেদ ও মো. মহসিন চৌধুরীকে (৫৫) গ্রেফতার করে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও র‌্যাব-৩।

এসময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দলিল ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার প্রতারণা সম্পর্কে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য প্রদান করে।

বুধবার ১৮ মে বেলা ১১ টায় রাজধানীর কাওরান বাজারে মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন,গ্রেফতাররা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রে ৫ থেকে ৭ জন সদস্য রয়েছে। চক্রের মূলহোতা গ্রেফতার মুনসুর। চক্রটি বিগত প্রায় ৩ থেকে ৪ বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রতারিত করে আসছে। তারা প্রতারণার জন্য বিভিন্ন সময় নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করত।

র‍্যাব জানায়, প্রথমত তারা নতুন মোবাইল সীম কিনে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে সেভ করত এবং নিজেরা ঐ ব্যক্তি সেজে নিজেদের প্রতারণা চক্রের সদস্যদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চ্যাটিং করত। চক্রের সদস্যদের বিভিন্ন মোবাইল নম্বর চক্রের মূলহোতা ও সহযোগীর মোবাইলে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নাম ও ছবি দিয়ে সেভ করে।

খন্দকার মঈন বলেন, পরবর্তীতে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার ব্যপারে চ্যাটিং করে। এই চ্যাটিং কন্টেন্ট তারা এমনভাবে তৈরি করে যাতে যেকোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মনে করে তারা এর আগেও অনেক কাজ অর্থের বিনিময়ে পাইয়ে দিয়েছে এবং তাদের বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের সাথে খুবই সু-সম্পর্ক রয়েছে।

র‍্যাব মুখপাত্র বলেন, এই চক্রের একজন সদস্য তথাকথিত সাইফুল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছে। যে নিজেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারী পরিচয় দিত এবং সেখানে বসে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিত বলে গ্রেফতাররা জানায়। নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমান করার জন্য তারা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে তাদের ছবি ঐ সকল আগ্রহী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেখাত।

র‍্যাব কর্মকর্তা মঈন বলেন, গ্রেফতাররা নিজেদের কোম্পানীকে প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য হিসেবে উপস্থাপন করার লক্ষে তারা হাজার হাজার কেটি টাকার ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাত। তারা কোন অফিসে মিটিং এর সময় বেশভূষা পরিবর্তন করে দামী গাড়ি ও বডিগার্ড নিয়ে নিজেদের উপস্থাপন করত। নিজেদেরকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপন করার জন্য তারা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে কাজের জন্য ভ্রমণ করেছেন বলেও বিভিন্ন ছবি প্রদর্শন করত।

গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাব আরও জানায়, তারা সরকারি কোন চলমান প্রকল্প সমূহের কাজ পাওয়ার যোগ্য এমন সব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে খুঁজে বের করত এবং তাদেরকে ১০% কমিশনের বিনিময়ে ঐ কাজ পাইয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখাত। তারা নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমানের জন্য তাদের আগে থেকে নির্ধারিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সাথে তাদের ভাড়া করা অফিসে মিটিং করত। অথবা নিজেরা ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে ঐ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিসে যেত। সেখানে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে তাদের যোগাযোগ আছে বলে মিথ্যা রেফারেন্স ব্যবহার করত।সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত চক্রের আরেক সদস্য সাইফুল নিজেকে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে বলে মিথ্যা প্রচারণা করত এবং নিজেকে ঐ রাষ্ট্রের একটি প্রভাবশালী অফিসে কর্মরত বলেও পরিচয় দিত।

খন্দকার মঈন বলেন, গ্রেফতাররা বিশ্বাসযোগ্যতা অধিকতর প্রমানের জন্য চলমান সরকারি প্রকল্প সমূহে অনেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিয়েছে বলে ঐ সব প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করত যারা ইতোমধ্যে চলমান কোন সরকারি প্রকল্পের কাজ পেয়েছে। এক পর্যায়ে তারা বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের সাথে করা ভুয়া চুক্তিপত্র, ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাত।

এভাবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা কার্যক্রম চালিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রটি বর্তমানে তিতাস নদী ড্রেজিং, আড়িয়াল খাঁ নদী ড্রেজিং ও নদীর তীর রক্ষা বাধ প্রকল্প, ঢাকা মহানগর উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ড্রেনের সংস্কার কাজ, রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি অফিস কনস্ট্রাকশনের কাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কনস্ট্রাকশনের কাজসহ প্রভৃতি উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণার পরিকল্পনা করছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin