মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন



শাটডাউন নয় আসছে কঠোর লকডাউন

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৬ জুন, ২০২১
  • ১১৩ Time View

এম শিমুল খান/মনিরুজ্জামান অপুর্ব/ ইমাম হোসেন ইমন  :  (>জরুরি পরিষেবা ছাড়া সব বন্ধ >আজ জারি করা হবে প্রজ্ঞাপন >পুলিশ-বিজিবির সাথে থাকতে পারে সেনাবাহিনী >কাজে আসেনি পূর্বের বাহারি নামের লকডাউন >শাটডাউনে ভারতে মিলেছে সুফল) প্রায় দেড় বছর ধরে লকডাউন, কঠোর লকডাউন, সর্বাত্মক লকডাউন ও বিধি-নিষেধের সঙ্গে মানুষ পরিচিত। করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন সময়ে এসব নির্দেশনা জারি করা হয়। শুরুতে আন্তরিকতা ও কঠোরতা থাকলেও ঘোষণার দিন গড়াতেই সরকার-জনগণ মিলে লকডাউন ঢিলেঢালায় পরিণত করেছে। তবুও আবার জারি করা হলো কার্যকর এক সপ্তাহের লকডাউন। আগামী সোমবার থেকে কার্যকর লকডাউন পরিস্থিতির বিবেচনায় আরও বাড়তে পারে। আজ শনিবার এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

গতকাল সকালেও শার্টডাউন জারির বার্তা দিয়েছিল সরকার। গতকাল সকাল গড়িয়ে রাতে এসেছে কার্যকর লকডাউনের ঘোষণা। ইতঃপূর্বে কার্যকর লকডাউন বাস্তবায়নে অনীহা আর অবহেলা পরিলক্ষিত হয়েছে। লকডাউন ব্যর্থ হওয়ায় শাটডাউনের সুপারিশ করেছিল কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত পৌনে ৯ লাখের বেশি ব্যক্তির নমুনায় ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ছুঁইছুঁই। প্রতিবেশী ভারতের তুলনায়ও এটি নগণ্য। কিন্তু সম্প্রতি জেঁকে বসেছে ভয়াবহ ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। করোনার নতুন এই ধরনটি ভারতকে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ভারতে মৃত্যু ও শনাক্তের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। গেলো ৮ মে ভারতফেরত দুই ব্যক্তির নমুনায় ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়। অল্পদিনেই ঘটে ভাইরাসটির গণসংক্রমণ। এখন রাজধানীসহ দেশের অন্তত অর্ধশত জেলায় শনাক্ত-মৃত্যু বৃদ্ধির বড় কারণ এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট। সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয়েছে দেশের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলায়। শুধু রাজধানীতে শনাক্তের ৬৮ শতাংশ ব্যক্তি ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত। নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে নিয়ন্ত্রণে থাকা করোনা এখন ২১ শতাংশের বেশি শনাক্ত হচ্ছে। মৃত্যুও আবার একশ’র ওপরে ওঠেছে। গতকাল শুক্রবার ১০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সারা দেশে সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ চলছে। চলতি বছর করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ঢিলেঢালা লকডাউন হলেও সংক্রমণ আরও বেড়ে যাওয়ায় ১৪ এপ্রিল থেকে কঠোর লকডাউন ঘোষণা দেয় সরকার। পরে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়। তবে দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ এবং ট্রেন চলাচল রোজার ঈদ পর্যন্ত বন্ধ ছিলো। ২৪ মে থেকে গণপরিবহন চলার অনুমতি দেয়া হয়। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁর আসন সংখ্যার অর্ধেক বসিয়ে খোলা রাখার অনুমতি দেয়া হয়। তবে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সারা দেশে বিধি-নিষেধ কয়েক দফা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ১৬ জুন বিধি-নিষেধ এক মাস বাড়িয়েছে সরকার, যা ১৫ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীর সুরক্ষায় চারপাশের সাত জেলায় লকডাউন জারি করা হয়। কিন্তু তবুও সুফল মিলছে না। এক সপ্তাহের রোগী নমুনা পরীক্ষা, রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর তথ্য বিশ্লেষণ দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৫টি জেলাকে উচ্চ ঝুঁকির বলে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। এমন পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত ভয়াবহতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এদিকে করোনার আগ্রাসন ঠেকাতে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি সরকারকে ১৪ দিনের শাটডাউনের সুপারিশ করেছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেল্টা সংক্রমণ ঠেকাতে জারিকৃত শাটডাউনে সুফলও মিলেছে। জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, সীমান্ত এলাকা থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতার মাসুল দিতে হচ্ছে এখন। শুরুতে যখন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয় তখন ভারতফেরত ব্যক্তিদের আলাদা করে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এমন কি যশোর জেলা সদর জেনারেল হাসপাতাল থেকে রোগী পালানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্তের পরও রোগীরা যশোর হাসপাতাল থেকে পালিয়েছিল। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে গেলো ঈদে শহর থেকে ঘরমুখী হয়েছিল মানুষ। সরকারও শেষ সময়ে গণপরিবহন খুলে দিতে বাধ্য হয়। এতেই ডেল্টার দেশজুড়ে গণসংক্রমণ ঘটে। এক মাসের কম সময়ের ব্যবধানে নিয়ন্ত্রণে থাকা করোনা আগ্রাসী হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই পদক্ষেপ না নিলে মার্চ-এপ্রিলের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশটি বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেছে। সব ধরনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে শাটডাউন নয়, আবারো আগামী ২৮ জুন সোমবার থেকে কার্যকর লকডাউন জারি করা হয়েছে। তবে অতীতের লকডাউনের চেয়ে এবারের লকডাউনে থাকছে ভিন্নতা। জরুরি পরিষেবা ব্যতীত সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত ও জনসমাগম বন্ধে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে বিজিবি। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও মাঠে নামানো হতে পারে। এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি বিবেচনায় লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪০টিই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৫টি জেলা আছে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে। সংক্রমণের মধ্যম ঝুঁকিতে আছে আটটি জেলা। বিভাগীয় হিসাবে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার সবকটিই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। রাজশাহী বিভাগের আট জেলার মধ্যে ছয়টি অতি উচ্চ ঝুঁকিতে, দুটি আছে উচ্চ ঝুঁকিতে। ঢাকা বিভাগের মধ্যে সাতটি জেলা আছে অতি উচ্চ ঝুঁকিতে। রাজধানীসহ দুটি জেলা আছে উচ্চ ঝুঁকিতে আর চারটি জেলা আছে মধ্যম ঝুঁকিতে। রংপুর বিভাগের পাঁচটি অতি উচ্চ এবং তিনটি জেলা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রামসহ ছয়টি জেলা অতি উচ্চ, তিনটি জেলা উচ্চ এবং একটি জেলা মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ। বরিশাল বিভাগে তিনটি জেলা অতি উচ্চ ঝুঁকিতে এবং মধ্যম ঝুঁকিতে তিনটি জেলা। সংক্রমণ এখনো তুলন



Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category



© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin