রবিবার, ১৪ অগাস্ট ২০২২, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
নড়াইলের কালিয়ায় চেয়ারম্যানের উদ্যোগে ১৯৭১টি গাছ রোপন রাজধানী সবুজবাগে পিকআপের ধাক্কায় অটোচালকের মৃত্য রাজধানী শ্যামপুর থেকে চোরাই মোটর সাইকেলসহ গ্রেফতার-১ সাংবাদিক অমিত হাবিবের মৃত্যুতে ডিইউজের শোক সাংবাদিক অমিত হাবিবের মৃত্যুতে তথ্যমন্ত্রীর শোক নড়াইলে সন্তানকে অপহরণের ভয় দেখিয়ে মাকে ধর্ষণ, মামলা দায়ের নরসিংদীতে স্বামীকে না জানিয়ে ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টা গোপালগঞ্জে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্ব মূলক প্রকল্পের আওতায় সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা যশোরের শার্শা টু কাশিপুর সড়ক যেন মৃত্যু ফাঁদ : সড়কের অজুহাতে বাড়তি ভাড়া আদায় যে বিদ্যালয়ে অনিয়মই যেন নিয়ম অফিস কক্ষে নেই বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি

শহরের ফুটপাতের খাবার আশীর্বাদ না অভিশাপ

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২ জুলাই, ২০২২
  • ২৮ Time View

মোঃ রাসেল সরকারঃ শহরের অধিকাংশ হোটেল বা রেস্তোরাঁর রান্না ফুটপাতেই হয়ে থাকে। বিশেষ করে ছোট ছোট হোটেল এবং ভ্রাম্যমাণ হোটেলের রান্না। জ্বলন্ত চুলা ফুটপাতে রেখে মুখরোচক খাবার পুরি, সিঙ্গাড়া, সমুচা, পেঁয়াজু, পরোটা, রুটি ইত্যাদি ভাজা হচ্ছে। পাশ দিয়েই পথচারী হেঁটে যাচ্ছে। ফুটন্ত তেল যে কোনো মুহূর্তে চলাচলকারীর ওপর পড়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারে।

ভাসমান হোটেল, রেস্তোরাঁ শহরের যেসব এলাকায় লোক সমাগম বেশি, সেসব এলাকাতেই বেশি দেখা যায়। যেমন মতিঝিল, পল্টন, মহাখালী, মগবাজার, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, শ্যামলী ইত্যাদি। ফুটপাতে চুলা জ্বালিয়ে খাবার তৈরির রমরমা ব্যবসা পুরান ঢাকার অলিগলিতে চলছে। ফুটপাত দখল করে, চুলা জ্বালিয়ে খাবার তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু কেউ কিছু করছে না। আর করবেই বা কে? যাদের করার কথা তারাই তো এসব ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে প্রতিদিন চাঁদা তুলছে।

এলাকাভেদে এসব ভাসমান দোকানের চাঁদা একেক রকম। পাঁচ শ থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব ভাজা খাবার স্বাস্হে্যর জন্য মোটেও ভালো নয়। তবুও নিম্ন আয়ের মানুষ খাচ্ছে। রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী। সেখানেও ভ্রাম্যমাণ দোকানে ভরপুর। বিশেষ করে দুপুরবেলায় এসব ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান দেখা যায় বেশি। এছাড়াও শুক্রবার বনানীর রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ খাবার দোকানের ছড়াছড়ি থাকে। এখানে যে শুধু নিম্ন আয়ের লোকজনই খাওয়াদাওয়া করে তা নয়। বিভিন্ন ইউনির্ভাসিটির ছাত্রছাত্রীরাও খেয়ে থাকে। তাদের বসে খাওয়ার ব্যবস্হা নাই। দাঁড়িয়েই সবাই খাচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ দোকানিরা ভ্যানে অথবা টং দোকানে খাবার বিক্রি করছে। মানুষও খাচ্ছে।

গ্রামগঞ্জ থেকে আসা ছাত্রছাত্রীরা কোনো রকমে তাদের কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাইভেট ভার্সিটিতে প্রফেশনাল কোর্স করে থাকেন। যেমন এমবিএ, এমবিএম, বিবিএ ইত্যাদি। তাঁরা ছোটখাটো চাকরি করেন আর সপ্তাহে শুক্রবার এসব ভার্সিটিতে বিভিন্ন কোর্স। তাঁদের সাধ্য নাই যে, বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় হোটেলে বা রেস্তোরাঁয় গিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়ার। তাই বাধ্য হয়েই ফুটপাতের খাবার, রিকশাওয়ালা, দিনমুজুর ও ভাসমান মানুষদের সঙ্গে খেতে হয়। এছাড়া যে এলাকায় অফিস বেশি, সেসব এলাকায়ও ভ্রামামাণ খাবারের দোকান বেশি।

কারণ সেইসব এলাকার অফিসের নিম্ন বেতনভুক্ত কর্মচারীর দুপুরের খাবারের একমাত্র ভরসা এসব খাবারের দোকান। দোকানিরা রান্না করা খাবার ভ্যানে করে নিয়ে আসে দুপুরবেলায়। এখানে যারা খাচ্ছে তারা বাধ্য হয়েই নোংরা পরিবেশে অস্বাস্হ্যকর খাবার খাচ্ছে। যেখানে যাদের কিছু করার নাই, তাদের জন্য আপনি, আমি হয়তো কিছু করতে পারি। যেমন দোকানিদের খাবার তৈরির বিষয়ে সচেতন করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে খাবার তৈরি করা, নোংরা বাসি খাবার বিক্রি না করা। আর খাবার গ্রহণকারীদের সচেতন থাকতে হবে যে, যে খাবারটি তিনি খাচ্ছেন তা কতটুকু স্বাস্হ্যসম্মত।

কারণ খাবার জীবন বাঁচায়, আবার সেই খাবারই জীবন কেড়ে নিতে পারে। আর প্রশাসনের উচিত ফুটপাতে কোনো রকমের খাবার তৈরি হবে না মর্মে নোটিশ জারি করা—ফুটপাতে কোনো ধরনের চুলা জ্বলবে না। কেউ ফুটপাতে চুলা জ্বালালে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সুন্দর দেশ গড়তে যেমন সুশিক্ষা প্রয়োজন, তেমনি সুস্বাস্হ্যও।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 ajkerbd24.com
Design & Development By: Atozithost
Tuhin